Tuesday, July 14, 2026

দেওবন্দীদের আরেক ধোঁকাঃ তাহলে ইমাম আবূ হানীফা রদ্বিআল্লাহু য়ানহু উনার স্বপ্নের তাবীরকারীও কি খারাপ?

দেওবন্দী পক্ষ আশরাফ আলী থানভীর আত্মপ্রশংসামূলক তাবীরকে রক্ষা করার জন্য হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রদ্বিল্লাহু য়ানহু উনার একটি স্বপ্নের ঘটনা সামনে আনেতারা বলতে চায়ঃ

হযরত ইমাম আবু হানীফা রহঃ একদা স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি রাসূল সাঃ এর মাযারে পৌছলেনসেখানে পৌছে তিনি রাসুল সাৰ এর কবর মুবারক ভেঙ্গে ফেললেন। [আল্লাহ হিফাযত করুন]এ মারাত্মক ও পেরেশানী উদ্দীপক স্বপ্নটি তিনি তার উস্তাদকে জানালেনসে সময় ইমাম সাহেব রহঃ মক্তবে পড়ছিলেনতখন তার উস্তাদ বললেন-যদি সত্যিই তুমি এ স্বপ্ন দেখে থাক, তাহলে এর ব্যাখ্যা হল-তুমি রাসুল সাঃ এর হাদীসের অনুসরণ করবেআর শরীয়তে মুহাম্মদী সাঃ কে পরিপূর্ণ তথ্য-তালাশ করে গবেষণা করবেব্যাস! যেভাবে উস্তাদ বলেছিলেন সে ব্যাখ্যাটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল{তাবীরুর রুউআ-১০৮, আকবর বুক ডিপো}

উক্ত অনুবাদ দিয়ে বলে তাহলে থানভীর তাবীরকে খারাপ বলা হলে ইমামে আযমের তাবীরকারীকেও খারাপ বলতে হবে অথচ ইমামে আযম স্বপ্নে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ক্ববর শরীফ খুঁড়েছিলেনআর এর ভালো তাবীর করা হয়েছিল, কোন কালে কেউ কোন আপত্তিই তোলেনিএটি সম্পূর্ণ ভুল তুলনাপ্রথমে ঘটনাটির সঠিক বর্ণনা জানা প্রয়োজন

উপরোক্ত প্রচারিত বর্ণনাটিতে কয়েকটি ভুল রয়েছে

প্রচারিত বাংলা বর্ণনায় বলা হয়ঃ

১) ঘটনাটি ইমামে আযম রদ্বিআল্লাহু য়ানহু উনার মক্তবে পড়ার সময় ঘটেছিল;
২) তিনি উনার মক্তবের উস্তাদকে স্বপ্নটি বলেছিলেন;
৩) তিনি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার “কবর ভেঙে ফেলেছিলেন”;
৪) উনার উস্তাদ তাবীর করেছিলেন।

কিন্তু প্রাচীন সূত্রে সংরক্ষিত মূল বর্ণনায় এসব কথা এভাবে নেই আল-খতীব আল-বাগদাদী তারীখে বাগদাদ-নদসহ বর্ণনা করেনঃ (سَمِعْتُ أَبَا حَنِيفَةَ يَقُولُ: رَأَيْتُ رُؤْيَا فَأَفْزَعَتْنِي، رَأَيْتُ كَأَنِّي أَنْبِشُ قَبْرَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَيْتُ الْبَصْرَةَ، فَأَمَرْتُ رَجُلًا يَسْأَلُ مُحَمَّدَ بْنَ سِيرِينَ، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: هَذَا رَجُلٌ يَنْبِشُ أَخْبَارَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

অর্থাৎ: হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রদ্বিয়াল্লাহু য়ানহু বলেছেন, “আমি এমন একটি স্বপ্ন দেখলাম যা আমাকে ভীত করে দিয়েছিলআমি দেখলাম, যেন আমি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার কবর শরীফ মুবারক খুঁড়ছিআমি বসরায় গিয়ে একজন লোককে মুহাম্মাদ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার কাছে স্বপ্নটির তাবীর জিজ্ঞেস করতে পাঠালামতিনি বললেন, ‘এ ব্যক্তি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার সংবাদ ও বর্ণনাগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করবে’”

একই মূল বক্তব্য ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি য়ালাইহি ছিয়ারু আলামিন নুবালা-তেও উদ্ধৃত করেছেনঅতএব, নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় তাবীরকারী কোনো অজ্ঞাত মক্তবের উস্তাদনন; তিনি প্রসিদ্ধ তাবিয়ি ও স্বপ্নতাবীরবিদ হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহিইমামে আযম সরাসরি তার ছাত্র ছিলেন বা ঘটনাটি মক্তবের বয়সে ঘটেছিল, মূল বর্ণনায় তা বলা হয়নিবরং তিনি একজনকে ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার কাছে পাঠিয়েছিলেন

কবর ভেঙে ফেললেন এ অনুবাদও ভুল

মূল আরবি শব্দ হলোঃ (أَنْبِشُ قَبْرَ النَّبِيِّ) এখানে (نَبْشُ الْقَبْرِ) অর্থ কবর খোঁড়া, উন্মোচন করা বা ভেতরে যা রয়েছে তা বের করার উদ্দেশ্যে মাটি সরানোএর সরাসরি অর্থ কবর ভেঙে ধ্বংস করে দেওয়ানয়আরবি অভিধানেও (نَبْشُ الْقَبْرِ)-এর অর্থ দেওয়া হয়েছেঃ (حَفَرَهُ لِاسْتِخْرَاجِ مَا فِيهِ) অর্থাৎ, “ভেতরে যা আছে তা বের করার উদ্দেশ্যে কবরটি খুঁড়ল

কবর ভেঙে ফেললেনবললে ইচ্ছাকৃত ধ্বংস ও অবমাননার অর্থ তৈরি হয় যা দেওবন্দী বাটপারেরা ইচ্ছেকৃত অনুবাদ করেছে যাতে তাদের বাবা আশরাফকে বাঁচানো যায় অথচ মূল রেওয়ায়েতে সেই শব্দ ব্যবহার করা হয়নি

হযরত ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার তাবীর কেন সঠিক ছিল?

স্বপ্নের বাক্য এবং তাবীরের বাক্য পাশাপাশি রাখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবেঃ (أَنْبِشُ قَبْرَ النَّبِيِّ) “আমি নবীজী উনার কবর মুবারক খুঁড়ছি।”

তাবীরঃ (يَنْبِشُ أَخْبَارَ رَسُولِ اللهِ) “সে রছুলে পাক উনার বর্ণনা ও সংবাদ গভীরভাবে অনুসন্ধান করবে।”

দুই বাক্যেই একই ক্রিয়ামূল ব্যবহৃত হয়েছেঃ نَبَشَ - يَنْبِشُ এর অর্থ হলোঃ মাটির নিচে ঢাকা কোনো বস্তু খুঁজে বের করার মতো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা।

স্বপ্নে কবর মুবারক খোঁড়ার দৃশ্যটি ছিল একটি প্রতীক। ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি সেই প্রতীকের সরাসরি ভাষাগত সম্পর্ক ধরে তাবীর করেছেনঃ কবরের ভেতর অনুসন্ধান করা রছুলে পাক উনার রেখে যাওয়া সংবাদ, আছার ও হাদীছ শরীফ গভীরভাবে অনুসন্ধান করা। এখানে তাবীরকারী কবর খোঁড়াকে বাস্তবে জায়েয বা প্রশংসনীয় বলেননি, না নিজের কোন শান, বা নিজে নবীজির মনোনীত কেউ প্রমান করে নিজেকে জাহির করতে চেয়েছেন। তিনি স্বপ্নের প্রতীকী অর্থ প্রকাশ করেছেন মশহুর তাবিরকারক হিসেবে।

থানভীর ঘটনার সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য

প্রথম পার্থক্যঃ একটি প্রতীকী দৃশ্য, অন্যটি স্পষ্ট আক্বীদাগত শব্দ

ইমামে আযম রদ্বিল্লাহু য়ানহু উনার স্বপ্নে কোনো মানুষকে নবী”, “রছুলুল্লাহবা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার বিকল্প বলা হয়নিতিনি একটি প্রতীকী কাজের দৃশ্য দেখেছিলেন কবর খোঁড়া

কিন্তু থানভীর ঘটনায় স্পষ্টভাবে কালিমার মধ্যেঃ (مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ)-এর পরিবর্তে আশরাফ আলীর নাম উচ্চারিত হয়েছে এবং দুরূদের মধ্যে তাকেঃ (سَيِّدِنَا وَنَبِيِّنَا وَمَوْلَانَا) অর্থাৎ, “আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের মাওলাবলা হয়েছে

অতএব একটি প্রতীকী দৃশ্য এবং একটি স্পষ্ট নবুওয়াতসূচক বাক্য এক বিষয় নয়

দ্বিতীয় পার্থক্যঃ ইবনে ছীরীন নিজের সার্টিফিকেট তৈরি করেননি

হযরত ইবনে ছীরীন রহমাতুল্লাহি য়ালাইহি স্বপ্নের মধ্যে নিজে উপস্থিত ছিলেন নাউনার নাম রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার নামের স্থানে বসানো হয়নিতিনি তাবীর করে নিজের কোনো মর্যাদা, বুযুর্গি বা ছুন্নাত অনুসরণের সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি তিনি অন্য একজন ব্যক্তির স্বপ্নের তাবীর করেছেন এবং তার ফলও অন্য ব্যক্তির দিকে ফিরেছে

কিন্তু থানভীর ঘটনায়ঃ

১) থানভীর নিজের নাম রছুলে পাক উনার নামের স্থানে উচ্চারিত হয়েছে;
২) থানভীর নিজের নামের সঙ্গে “আমাদের নবী” শব্দ যুক্ত হয়েছে;
৩) থানভী নিজেই তার তাবীর করেছে;
৪) এবং তাবীরের ফলও নিজের প্রশংসার দিকে ফিরিয়েছে।

অর্থাৎ, থানভী নিজেই ঘটনার সুবিধাভোগী, নিজেই তাবীরকারী এবং নিজেই নিজের জন্য সার্টিফিকেটদাতা

তৃতীয় পার্থক্যঃ ইবনে ছীরীনের তাবীরে সুস্পষ্ট ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে

কবর খোঁড়া এবং হাদীছ-আছার খুঁজে বের করা উভয়ের মধ্যে অনুসন্ধান ও গুপ্ত বিষয় উদ্ঘাটনের একটি পরিষ্কার ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে

কিন্তু “আশরাফ আলী রছুলুল্লাহ” অথবা “আমাদের নবী আশরাফ আলী” থেকে কীভাবে - “আশরাফ আলী ছুন্নতের অনুসারী” এই তাবীর বের হলো?

এর মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট ভাষাগত, ক্বুরআনী, হাদীছভিত্তিক বা স্বীকৃত তাবীরশাস্ত্রীয় সম্পর্ক দেখানো হয়নি। থানভী শুধু নিজের পক্ষে একটি ইতিবাচক অর্থ ঘোষণা করেছে।

চতুর্থ পার্থক্যঃ ইমামে আযম নিজেই আতঙ্কিত হয়েছিলেন

মূল বর্ণনায় হযরত ইমামে আযম রদ্বিল্লাহু য়ানহু বলেছেনঃ (رَأَيْتُ رُؤْيَا فَأَفْزَعَتْنِي) আমি এমন একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম, যা আমাকে ভীত করে দিয়েছিল তিনি স্বপ্নটি দেখে আনন্দিত হননি, নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দলিল বানাননি এবং বলেননিঃ এতে আমার জন্য সান্ত্বনা আছে যে আমি বড় ছুন্নাতের অনুসারী বরং তিনি ভয় পেয়েছেন এবং নিজের পরিচয় গোপন রেখে একজন বিজ্ঞ তাবীরকারীর কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন অন্যদিকে থানভী তার নিজের নামকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনাটির মধ্যে নিজের জন্য তাসল্লীও প্রশংসা খুঁজে পেয়েছে

পঞ্চম পার্থক্যঃ ইবনে ছীরীনের ব্যাপারে পূর্ণ কথোপকথন সংরক্ষিত হওয়ার দাবি নেই

হযরত ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি উনার ঘটনা একটি ঐতিহাসিক রেওয়ায়েত হিসেবে সংক্ষেপে উদ্ধৃত হয়েছেসেখানে মূলত স্বপ্ন ও তাবীরটি সংরক্ষিত হয়েছেতিনি এর আগে বা পরে ইস্তিআযাহ, নছিহত কিংবা অন্য কোনো কথা বলেছেন কি না বর্ণনাটিতে তা আলোচনাই করেনি সুতরাং শুধু সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক রেওয়ায়েতে কোনো কথা উল্লেখ না থাকায় বলা যাবে নাঃ ইবনে ছীরীন নিশ্চয়ই ইস্তিআযাহ করেননি বা সতর্ক করেননি কিন্তু থানভীর ক্ষেত্রে আমাদের সামনে তার নিজের প্রকাশিত লিখিত উত্তর রয়েছেপ্রশ্নের জবাবে সে কী বলেছিল, তা তার নিজের সম্পাদিত আল-ইমদাদ-এ ছাপা হয়েছেএ ঘটনায় সান্ত্বনা রয়েছে যে, যার দিকে তুমি প্রত্যাবর্তন করছ, তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার সাহায্যে ছুন্নতের অনুসারী অতএব, একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীমূলক রেওয়ায়েত এবং থানভীর নিজের প্রকাশিত উত্তরকে একই মানদণ্ডে বিচার করা যাবে না

সহজ উদাহরণে পার্থক্য

এক ব্যক্তি স্বপ্ন দেখল, সে একটি বন্ধ গ্রন্থাগারের দরজা ভেঙে ভেতরের বই বের করছে তাবীরকারী বললঃ তুমি অজানা ইলম অনুসন্ধান করে মানুষের সামনে প্রকাশ করবে এখানে দরজা ভাঙাকে বাস্তবে জায়েয বলা হয়নিদৃশ্যটির প্রতীকী অর্থ করা হয়েছে

কিন্তু অন্য একজন বললঃ আমি স্বপ্নে আপনার নামকে নবীর নামের জায়গায় উচ্চারণ করেছি এবং আপনাকে আমাদের নবী বলেছি সেই ব্যক্তি যদি উত্তর দেয়ঃ এতে প্রমাণিত হলো আমি ছুন্নতের অনুসারী তাহলে এটি আগের ঘটনার মতো নয়এখানে সে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত ভয়াবহ বাক্যকে প্রত্যাখ্যান না করে সেই বাক্য থেকেই নিজের প্রশংসা বের করেছে

দেওবন্দীদের যুক্তির অন্তর্নিহিত প্রতারণা

তাদের যুক্তি হলোঃ ইবনে ছীরীন একটি বাহ্যিকভাবে ভয়ংকর স্বপ্নের ভালো তাবীর করেছেনঅতএব থানভীর যেকোনো ভালো তাবীরও সঠিক এ যুক্তি গ্রহণ করলে যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো ভয়াবহ স্বপ্নের নিজের পছন্দমতো প্রশংসামূলক তাবীর দিতে পারবে

সঠিক নিয়ম হলোঃ কোনো কোনো ভয়ংকর স্বপ্নের ভালো তাবীর হতে পারে; কিন্তু প্রতিটি নির্দিষ্ট তাবীরের পক্ষে অর্থগত সম্পর্ক, শরয়ী সামঞ্জস্য এবং তাবীরকারীর নিরপেক্ষতা থাকতে হবে

ইবনে ছীরীনের তাবীরে তিনটিই রয়েছেঃ

১) স্বপ্নের প্রতীকের সঙ্গে তাবীরের সরাসরি ভাষাগত সম্পর্ক;
২) কোনো কুফরি আক্বীদার অনুমোদন নেই;
৩) তাবীরকারীর ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আত্মপ্রশংসা নেই।

থানভীর তাবীরে এগুলোর কোনোটিই পরিষ্কারভাবে নেইঃ

১) নবুওয়াতসূচক শব্দ থেকে “ছুন্নত অনুসরণ”-এর নির্দিষ্ট সম্পর্ক দেখানো হয়নি;
২) কুফরি অর্থবোধক শব্দগুলো প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করা হয়নি;
৩) তাবীরটি সরাসরি থানভীর নিজের প্রশংসা ও মর্যাদার সার্টিফিকেটে পরিণত হয়েছে।

তাদের কাছে পাল্টা প্রশ্ন

দেওবন্দীদের জিজ্ঞেস করছিঃ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি কি স্বপ্নে নিজের নামকে রছুলে পাক উনার নামের স্থানে শুনেছিলেন?

না

তিনি কি নিজেকে আমাদের নবীউচ্চারণ করার ঘটনাকে নিজের প্রশংসায় ব্যবহার করেছিলেন?

না

তিনি কি নিজের বিষয়ে নিজেই সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন?

না

কবর খোঁড়াহাদীছ অনুসন্ধান”-এর মধ্যে ভাষাগত সম্পর্ক আছে?

হ্যাঁ

আশরাফ আলী রছুলুল্লাহআশরাফ আলী ছুন্নতের অনুসারী এর মধ্যে সেই ধরনের প্রতিষ্ঠিত ভাষাগত সম্পর্ক কোথায়?

তারা দেখাতে পারেনি অতএব, হযরত ইমামে আযম আবূ হানীফা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার স্বপ্নের ঘটনা থানভীর প্রতিরক্ষা নয়বরং দুটি ঘটনা পাশাপাশি রাখলে থানভীর আচরণের অসংগতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে

চূড়ান্ত জবাব

হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি একটি প্রতীকী স্বপ্নদৃশ্যের নিরপেক্ষ ও ভাষাগতভাবে সম্পর্কযুক্ত তাবীর করেছিলেনতিনি কোনো কুফরি বাক্যকে অনুমোদন করেননি, নিজের নামকে নবুওয়াতের স্থানে বসাননি এবং স্বপ্নটিকে নিজের আধ্যাত্মিক সার্টিফিকেটও বানাননিপক্ষান্তরে আশরাফ আলী থানভী নিজের নামকে রছুলুল্লাহআমাদের নবীশব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘটনাকে প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান না করে নিজের মুতাবিয়ে ছুন্নতহওয়ার সান্ত্বনা বানিয়েছেঅতএব, দুটি ঘটনাকে এক বলা জাহালত অথবা ইচ্ছাকৃত ধোঁকাবাজি

আর প্রচারিত মক্তবের উস্তাদকবর ভেঙে ফেললেনবর্ণনাটি মূল প্রাচীন রেওয়ায়েতের হুবহু বক্তব্য নয়মূল সূত্রে তাবীরকারী হলেন হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ছীরীন রহমতুল্লাহি য়ালাইহি এবং ব্যবহৃত শব্দের অর্থ কবর খোঁড়া বা উন্মোচন করা ধ্বংস করে ফেলানয়

মহান আল্লাহ তায়ালা দেওবন্দি নফছের পূজারী, গ্বইরুল্লাহকে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার চেয়ে বেশী মুহব্বতকারীদের থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজতে রাখুন। আমীন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 ফেইসবুক: