Saturday, July 2, 2022

রাজারবাগি মুশরিকদের আলহামদুলিল্লাহ'র বিকৃতির কুরআন হাদিসের দালিলিক জবাব

বিগত লিখাগুলিতে আমি বলেছিলাম যে, রাজারবাগি মুশরিকেরা যেখানেই মহান আল্লাহ পাঁকের তাসবীহ, তাহলিল, ছানা সিফত পাবে, সেখানেই তাঁরা হামলা চালাবে, সেখান থেকেই মহান আল্লাহ পাঁকের নাম ডিলিট করে তাদের মুশরিক পিরের নাম লাগাবে। আমি অলরেডি সুবহানআল্লাহ এর বিকৃতিরইন’শা-আল্লাহ এর বিকৃতির জবাব দিয়েছি। আজকে দেব আলহামদুলিল্লাহ এর বিকৃতির জবাব। এছাড়াও পবিত্র ইসলামিক বাক্যাংশগুলির অপব্যবহারকারী রাজারবাগিদের মুশরিক হওয়ার জবাব দেওয়া হয়েছে।

আমি জানি এইসব গুমরাহ লোকের জন্য ইহা খুবই কঠিন যে, তারা তাদের বদ, জাহিল, মুশরিক পিরের ইত্তেবা ছেড়ে কুরআন সুন্নাহর অনুসারী হয়ে যাবে। তবে আমি এতেই সন্তুষ্ট যে কিছু মানুষ অন্তত হেদায়েত লাভ করেছে আমার দলিল ভিত্তিক লিখাগুলি পড়ে, ফিরে এসেছে রাজারবাগির চুঙ্গল থেকে দিল্লুর পূজা ছেঁড়ে।

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে, “এখন আপনি এমন একটি বাক্যাংশ সম্পর্কে জানবেন, যা সম্মানিত দ্বীন ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং আল কুরআনের প্রথম শব্দ। মুসলমানদের জবানে যে বাক্যাংশগুলি সবচেয়ে বেশী উচ্চারিত হয়, এটি তাদের মধ্যে অন্যতম একটি শব্দ।

হে পাঠক আপনাকে একটি প্রশ্ন করি? কেউ যখন আপনার কোন উপকার বা আপনার প্রতি যেকোন বিষয়ে অনুগ্রহ করে, তখন আপনি কীভাবে তাকে ধন্যবাদ দেন বা তাঁর প্রশংসা করেন?

মানুষের উপকারের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণত যা বলা হয়, তা হচ্ছে “ধন্যবাদ” ইংরেজিতে যাকে বলে থ্যাঙ্ক ইউ, আর আরবিতে (جَزَاكَ ٱللَّٰهُ خَيْرًا)। কিন্তু জানার বিষয় হলোঃ আনলিমিটেড এহসান, দয়া, দান আর ফি সাবিলিল্লাহ প্রদানকৃত নিয়ামতের বিনিময়ে একজন মুসলমানের জন্য মহান আল্লাহ তা’আলার বেলায় এই “ধন্যবাদ” শব্দ কি যথেষ্ট? নাকি অন্য কিছু আছে? হ্যাঁ বরং একটি মাত্র বাক্যই আছে যা কেবলই মহান আল্লাহ তা’আলার ব্যপারেই ব্যবহার করা যায়, আর সেটি হল আলহামদুলিল্লাহ। মুসলমানরা প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজের প্রত্যেক রাকা’আতে সূরা আল-ফাতিহা তেলাওয়াত করার সময়, এবং মহান আল্লাহ তা’আলার তাসবীহ পাঠ করার সময় তাহমীদ হিসেবে মহান আল্লাহ তা’আলার স্মরণে আলহামদুলিল্লাহ বাক্য পাঠ করে থাকে। আমাদেরকে আল কুরআন এবং সুন্নাহ মুবারক উভয়েই এই বাক্যাংশটি বলতে শিখান এবং আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তার শব্দভাণ্ডারে এই বাক্যাংশটির দখলও রয়েছে প্রচুর।

বলুনতো আলহামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ কি?

আমরা কেন আলহামদুলিল্লাহ বলি?

কখন আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয়?

আলহামদুলিল্লাহ বললে আমাদের লাভ কি?

আলহামদুলিল্লাহ সম্পর্কে পবিত্র আল কুরআন আমাদের কি শিক্ষা দিচ্ছেন?

এবং হামদ শব্দের অর্থ কী?

এই লিখার মধ্যেই আপনি ঐ সমস্ত সকল প্রশ্নের উত্তর পাবেন ইন’শা-আল্লাহ। আর এই উত্তরগুলি আপনার জ্ঞান, ঈমান, আমল ও মনকে আলোকিত করবে বলেই আশা করি।

আলহামদুলিল্লাহ একটি বিস্ময়কর নিগূঢ় বাক্য, এটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বোঝার জন্য যদিও অনেক বেশি চিন্তা ফিকিরের সময় প্রয়োজন, তবুও আমি চেষ্টা করেছি এই লিখায় সংক্ষিপ্তভাবে ব্যাখ্যা করে বোঝানোর, যাতে আমরা এই পবিত্র নিগূঢ় বাক্যটির মূল বিষয়টা বুঝতে পারি।

আসুন প্রথমে এই বাক্যাংশটির অর্থ বোঝার চেষ্টা করি?

আলহামদুলিল্লাহ হল এমন একটি আরবি শব্দগুচ্ছ যা প্রায়শই কথোপকথনের সময় মুসলমানরা তাদের প্রতি মহান আল্লাহ তা’আলার অপরিসীম নিয়ামতের বিপরীতে সন্তুষ্টি বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ব্যবহার করে। আসুন এর প্রতিটি শব্দ দেখিঃ

        আরবি

বাংলা

আল

اَلۡ

এই, সেই, টা, টি, ঐ

হামদু

حَمۡدُ

প্রশংসা করা

লি-ল্লাহ

لِلّٰہِ

আল্লাহ তা’আলার প্রতি

এইযে (لِلّٰہِ) লিল্লাহ, এটি আসলে একটি অব্যয় প্লাস বিশেষ্য/নামপদ মহান “আল্লাহ” তা’আলার বেলায়। “লি” হচ্ছে, অব্যয় মানে হলোঃ “প্রতি” কিংবা “জন্যে” “কোন কিছুর সাথে সম্পর্কিত” ইত্যাদি।

যখন সবগুলি একত্রে একটি বাক্যে পরিনত করা হয়, তখন প্রায় ৪ ধরণের অনুবাদ করা যেতে পারেঃ

১) প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলার জন্য।

২) সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলার জন্য।

৩) সমস্ত প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলার জন্য।

৪) সমস্ত প্রশংসা এবং শুকরিয়া মহান আল্লাহ তা’আলার জন্য।

সবগুলি অনুবাদের অর্থ প্রায় কাছাকাছিই বলা চলে, তাই মূল বিষয়টা আমাদের নিকট একেবারে পানির মতো পরিষ্কার।

সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার আগে, আমাদের অবশ্যই প্রশংসা শব্দের মর্মার্থ বুঝতে হবে। সাধারণত প্রশংসার অর্থ হল কোনো ব্যক্তি বা জিনিসের কৃতিত্ব বা অবদানের তারীফ বা শ্রদ্ধা নিবেদন করা।

এই সংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে আমরা যা পাই - তা হচ্ছে, “মহান আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করা মানেঃ

- মহান আল্লাহ তা’আলার প্রতি শ্রদ্ধা বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা বা দেখানো।

- প্রকাশের এই রূপটিকে মহান আল্লাহ তা’আলার ইবাদত হিসাবেও বিবেচনা করা হয়।

- মহান আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করার মাধ্যমে আমরা মূলত উনার মহানুভবতা স্বীকার করছি, এবং আমরা যে কৃতজ্ঞ এই অনুভূতি প্রকাশ করে থাকি উনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার মাধ্যমে।

(আল-হামদু-লিল্লাহ) আলহামদুলিল্লার অর্থ আরও ভালো করে বোঝার জন্য আমাদের আরবী শব্দ হামদ এর অর্থ বুঝতে হবে।

প্রথমে আমাদেরকে নিচের ৩ টি ভিন্ন শব্দের মানে বুঝতে হবে।

حَمْدْ

হামদ

অর্থ হচ্ছে “প্রশংসা করা”

الحَميدْ

আল হামিদ

অর্থ হচ্ছে “সর্বচ্চো প্রশংসার অধিকারী”

مَحْمودْ

মাহমুদ

অর্থ হচ্ছে “যিনি শুধুমাত্র কারো দ্বারা প্রশংসিত হোন”

মহান আল্লাহ তা’আলার নাম যা হামদের সাথে মিলিত হলে আল হামিদে রূপান্তরিত হয়। আর সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’আলাই হলেনঃ “আল হামিদ” যার অর্থ সবচেয়ে প্রশংসিত- প্রশংসার অধিকারী। এখন বুঝতে হবে আল হামিদ কিভাবে মাহমুদ থেকে আলাদা?

মাহমুদ (مَحْمودْ) মানে যিনি প্রশংসিত হোন, এটি কেবল তখনই ব্যবহৃত হয় যখন কেউ উনার প্রশংসা করে। কিন্তু হামিদ (حَميدْ) হলেন এমন একজন যিনি সর্বদা প্রশংসার যোগ্য, উনার প্রশংসা করা হোক বা না হোক তাতে কিছু যায় আসে না। আর সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তা’আলাই সর্বাধিক প্রশংসিত, যদিও আমরা উনার হামদ (حَمْدْ) প্রশংসা করি বা না করি। আমি আশা করি এটা স্পষ্ট হয়েছে যেঃ “হামদ মহান আল্লাহ তাআলারই জন্য” যিনি কেবল প্রশংসারই যোগ্য।

সুতরাং উপরোক্ত ব্যখ্যা বিশ্লেষণ থেকে আমরা যা পেলাম তা হলো, “আলহামদুলিল্লাহ এর মূল অর্থ হচ্ছেঃ সমস্ত প্রশংসা কেবল মহান আল্লাহ তা’আলার জন্য, তিনি সদা সর্বদাই প্রশংসিত। এই প্রশংসাকে আবার হামদুলিল্লাহ ও বলা হয়, এটি প্রায়ই তাহমিদ হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

এখন আসুন পরবর্তী প্রশ্নটি বিশ্লেশন করে দেখিঃ সাধারণত কখন আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলি?

আলহামদুলিল্লার ব্যবহার বিভিন্ন ক্ষেত্রে হতে পারে, কিন্তু তা নির্ভর করে কোন পরিস্থিতিতে বলা হচ্ছে তাঁর উপর, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু যিকরকারি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লার প্রশংসা ও শুকরিয়া জানাচ্ছেন।

আসুন আমরা প্রথম পরিস্থিতি দেখিঃ যে কোনো ধরণের উপহারের পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তা’আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিবৃতি হতে পারে আলহামদুলিল্লাহ, তা সাধারণ উপহার হোক কিংবা অমূল্য কোন উপহার, উদাহরণস্বরূপঃ খাদ্য, স্বাস্থ্য, ঘর, বাড়ি, চাকুরি, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট বা আমাদের নিজের জীবনটাই।

দ্বিতীয় পরিস্থিতিঃ মহান আল্লাহ তা’আলার দরবারে দোয়া করার সময় প্রশংসা ও উনার শুকরিয়া হিসেবে আলহামদুলিল্লাহ ব্যবহার করে দোয়া উত্থাপন করা যেতে পারে, এতে করে উত্তাপিত দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পাঁক উনার পূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণের আশা বহুগুণে বেড়ে যায়।

আরেকটি পরিস্থিতিঃ আমাদের সম্মুখে আসা যেকোন কঠিন পরীক্ষা এবং সমস্যাগুলির বিপরীতে দৃঢ়চিত্তে আলহামদুলিল্লাহ ব্যবহার করা যেতে পারে, সোজা কথায় যেকোন খারাপ, কঠিন মুসীবত সহ সমস্ত পরিস্থিতিতে আলহামদুলিল্লাহ বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, কারণ সমস্ত পরিস্থিতিই মহান আল্লাহ তা’আলার হুকুমে সৃষ্টি হয়। এরূপ পরিস্তিতিতে “আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল” বলা বাঞ্ছনীয়, যার অর্থ আমি যে অবস্থায় ই থাকি না কেনো, সমস্ত পরিস্থিতিতে আমি মহান আল্লাহ তা’আলার প্রশংশা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং আমার উপর পতিত পরিস্থিতি আমি বিনা চু চেরায় মেনে নিচ্ছি, সমস্ত পরিস্থিতিই মহান আল্লাহ তা’আলার হুকুমে তৈরি হয়েছে। অতএব আমরা শিখলাম যে, আলহামদুলিল্লাহ শুধুমাত্র যখন সবকিছু ঠিক থাকে তখনই বলার মতো শব্দ নয় বরং খারাপ সময়েও ব্যবহৃত হয় কারণ ভালো মন্দ দুটোই হয় মহান আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছায়।

এবার আসুন পরবর্তী প্রশ্নেঃ কেন আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলি?

আলহামদুলিল্লাহ একটি মাত্র শব্দ হলেও এর কিন্তু রয়েছে অগণিত বরকত, আর কৃতজ্ঞতা হলো একজন মুসলমানের জীবনের অন্যতম প্রধান বিষয়। আসুন আমরা আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করি ফলাফলের জন্যে যে, আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য কি? উত্তর পেতে আসুন দেখি মহান আল্লাহ পাঁক সূরা আন নাহলের ৭/৭৮ এ কি বলেছেনঃ (وَ اللّٰهُ اَخۡرَجَکُمۡ مِّنۡۢ بُطُوۡنِ اُمَّهٰتِکُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا ۙ وَّ جَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَ الۡاَبۡصَارَ وَ الۡاَفۡـِٕدَۃَ ۙ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ) “আর মহান আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে বের করেছেন, তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে শোনার শক্তি, দেখার শক্তি আর অন্তর দান করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর”।

অর্থাৎ, মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে আমাদের মায়ের গর্ভ থেকে জমিনে বের করেছেন যখন আমরা কিছুই জানতাম না, এবং আমাদের শ্রবণশক্তি, চোখ, অন্তর দিয়েছেন যাতে কান শোনে, চোখ দেখে, অন্তর অনুধাবন করে মহান আল্লাহ পাঁকের নিয়ামতের উপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের অনেক কিছুই দিয়েছেন এবং তিনি আমাদের দিতেই থাকেন, এর বিপরীতে আমাদের নিকট থেকে খুব সিম্পল সহজ একটি বাক্য শুনতে চান আন্তরিকভাবে আর তা হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

এখন আসুন এই হাদিসটি দেখিঃ (وَعَنْ أبي يَحْيَى صُهَيْبِ بْنِ سِنَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ االله صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم : »عَجَباًلأمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ آُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ ، وَلَيْسَ ذَلِكَ لأِحَدٍ إِلاَّ للْمُؤْمِن : إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْراً لَهُ ، وَإِنْأَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خيْراً لَهُ) আবূ ইয়াহয়া সুহাইব ইবনু সিনান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহ তা’আলার রসূল ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “মুমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি কাজেই তার জন্য মঙ্গল রয়েছে। এটা মু’মিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। সুতরাং তার সুখ এলে সে মহান আল্লাহ তাঃআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে এটা তার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর যদি তার উপর কোন বিপদ আসে, তবে সে ধৈর্যের সাথে তার মোকাবেলা করে যা তাঁর জন্যে ভালোটাই নিয়ে আসে। (রিয়াদুস সালেহীন ২৭, মুসলিম শরীফ ২৯৯৯, মুসনাদে আহমাদ ১৮৪৫৫, ১৮৪৬০, ২৩৪০৬, ২৩৪১২, দারেমী ২৭৭৭)

আসুন আমরা কুরআনের আরেকটি আয়াত দেখিঃ আর (স্বরন করো) তোমাদের রব যখন ঘোষণা দিলেন, “যদি তোমরা (নিয়ামতের) শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (তা) বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও (তবে জেনে রেখ, অকৃতজ্ঞদের জন্য) আমার শাস্তি অবশ্যই কঠিন। (আল কুরআন ১৪/৭)

আমরা যখন মহান আল্লাহ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করে থাকি, তখন আমরা শুধু উনাকে খুশিই করছি না, বরং আমরা নিশ্চিত যে, এর বিনিময়ে আমরা প্রচুর পরিমাণে সফলতা পেয়ে থাকি। ভুলে যাবেন না, মহান আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ভালবাসেন যারা উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। তাই আপনারা সারাদিন কৃতজ্ঞ থাকুন যখন আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠবেন, যখন আপনি খাবার খাবেন, বা পান করবেন, যখন আপনি সারাদিনে মহান আল্লাহ তা’আলার একটি ছোট বা বড় নিয়ামত উপভোগ করবেন, যখন আপনি দান খয়রাত করবেন এবং যখন আপনি হামদ, নাত, কাসিদা বা কুরআন তিলাওয়াত শুনবেন, সর্বদা আলহামদুলিল্লাহ বলুন। যাতে শুধু মহান আল্লাহ তা’আলার প্রশংসাই নয়, আলহামদুলিল্লাহ বলার ব্যক্তিগত উপকারিতাও রয়েছে।

তাহলে আসুন দেখি আলহামদুলিল্লার প্রকৃত অনুশীলন আমাদের বিভিন্ন উপায়ে কী কী উপকার করতে পারে?

প্রথমতঃ এটি আমাদের সুস্থির করে আমরা যেসব বিষয়ের সম্মুখীন হই এবং সন্তুষ্ট রাখে যা আমাদের আছে তার উপর, উপরন্তু মানসিক চাপ কমিয়ে আমাদের চারপাশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। যেকোনো নেতিবাচক অনুভূতির চিন্তা বা মনোভাব বর্তমানে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ, আর এটা এড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

দ্বিতীয়তঃ আপনার যদি জানা থাকে যে বিচারের দিন আমাদের ভাল এবং খারাপ কাজগুলি একটি দাঁড়িপাল্লা দিয়ে পরিমাপ করা হবে, তাহলে জেনে রাখুন যেঃ আমাদের উচ্চারিত আলহামদুলিল্লাহ আমাদের নেক কাজের সাথে যোগ করা হবে। এই বিষয়ে কুরআনে অসংখ্য আয়াত নাযিল করেছেন আল্লাহ পাঁক, আসুন আমরা সূরা আল আম্বিয়ার ৪৭ নং আয়াত শরীফটি দেখিঃ (وَ نَضَعُ الۡمَوَازِیۡنَ الۡقِسۡطَ لِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٌ شَیۡئًا ؕ وَ اِنۡ کَانَ مِثۡقَالَ حَبَّۃٍ مِّنۡ خَرۡدَلٍ اَتَیۡنَا بِهَا ؕ وَ کَفٰی بِنَا حٰسِبِیۡنَ) কিয়ামত দিবসে আমি স্থাপন করব ন্যায় বিচারের মানদন্ড (দাঁড়িপাল্লা); সুতরাং কারও প্রতি কোন অবিচার করা হবেনা এবং কাজ যদি সরিষার দানা পরিমাণ ওজনেরও হয় তাও আমি উপস্থিত করব। আর হিসাব গ্রহণে আমিই যথেষ্ট।

আশা করা যায় যে, এখন আপনি আলহামদুলিল্লার অর্থ ও তাৎপর্য ভালো করেই জেনে গেছেন। আসুন দেখি কিভাবে এই তাহমীদটি আল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি আমাদের কি শিক্ষা দিচ্ছেন।

যখন একটি সূরা হামদ দ্বারা শুরু হয় তখন তার তিনটি অর্থ বোঝায়ঃ

প্রথমতঃ এটি একটি ঘোষণার মত যে “আলহামদুলিল্লাহ” সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্য।

দ্বিতীয়তঃ তিনি আমাদের শিক্ষা দেন যে, যখন আমরা কিছু শুরু করি যেমন খুতবা বা কোনো বক্তৃতা।

তৃতীয়তঃ এটি আমাদের শেখায়-যে অবশ্যই আমাদেরকে মহান আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করতে হবে, এছাড়াও কিভাবে আল্লাহর প্রশংসা করতে হয়, তাও শিক্ষা দেন আলহামদুলিল্লাহ বলানোর মাধ্যমে।

আর এই আলহামদুলিল্লাহ তাহমীদ পবিত্র আল কুরআনে ৩৮ বার এসেছেন, (যদিও মূল حمد শব্দটি এসেছেন ৬৮ বার) যেমনঃ ১/১ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনি সকল কায়েনাতের রব তাই”। ৬/১ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আর সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো মানুষের জন্য”। ৬/৪৫ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? অপরাধী ও অত্যাচারীদের উপর আযাব নাযিল করে তিনি উনার আউলিয়াদের সাহায্য করেছেন এবং উনার শক্রদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন”। ৭/৪৩ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনি আমাদের জন্য হেদায়েতের পথ সৃষ্টি করেছিলেন যার কারণে মুমিনরা জান্নাবাসি হয়েছেন”। ১০/১০ এ বলা হয়েছে কেবল দুনিয়ায়-ই নয়, বরং জান্নাতে গিয়েও বলা হবে “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় যায়গায়, মুমিনদেরকে মহান আল্লাহ তা’আলা উনার ব্যপারে যাবতীয় দোষ-ত্রুটিমুক্ত তিনি, উনিই একমাত্র ইবাদতের হক্বদার এরূপ আক্বিদাহ রাখার তৌফিক দিয়েছেন বলে”। ১৪/৩৯ এ ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম বলছেন, “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ বার্ধক্যের শেষ সিমায় উনাকে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ও ইসহাক আলাইহিস সালাম দান করেছেন মহান আল্লাহ পাঁক”। ১৬/৭৫ এবং ৩৯/২৯ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনিই তো সব (ঈমান, রিযক, ঘরবাড়ী, স্ত্রী, সন্তান, মাল, সুস্থতা, সুখ, শান্তি ইত্যাদি) নেয়ামত প্রদান করেছেন, উনার বান্দাদের তো আর কেউই তা দেয় নি। সুতরাং যারা মৌলিকভাবে অথবা মাধ্যম হয়ে কোনভাবেই কোন নেয়ামত দেয়নি তারা কিভাবে প্রশংসা পেতে পারে? ১৭/১১১ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ স্রষ্টা হিসেবে সন্তান গ্রহন করার মতো বিষয় থেকে উনি পাঁক, রাজত্বে/সৃষ্টিতে উনার কোন শরীক নেই এবং এবং তিনি দুর্দশাগ্রস্তও হননা, যে কারণে উনার অভিভাবকের প্রয়োজন হতে পারে। ১৮/১ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনি উনার বান্দা রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের উপর কিতাব নাযিল করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি মানুষদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে এসেছেন। এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর কী-ই বা আছে। ১৮/১ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনি নূহ আলাইহিস সালামের জাতীকে জালিম সম্প্রদায় হতে রক্ষা করে ঈমানের নৌকায় উঠার মতো এহসান করেছিলেন। ২৭/১৫ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনি সুলায়মান ইবনে দাউদ আলাইহিমুস সালামদ্বয়কে জ্ঞান দান করেছিলেন যা আর কাউকে দেন নি। ২৭/৫৯ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ রিসালাত দ্বারা মনোনীত করা হয়েছে উত্তম বান্দাদের। ২৭/৯৩ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তোমরা যে আল্লাহ পাঁকের ওপর ঈমান এনেছ, তিনি উনার নিদর্শনাবলী দেখাবেন দূর দিগন্তে (অর্থাৎ দূর পর্যন্ত ইসলামের আলো বিচ্ছুরিত করবেন) আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (অর্থাৎ কাফিররা নতজানু হয়ে ইসলাম কবূল করবে) যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এ কুরআন সত্য। ২৮/৭০ এ বলা হয়েছেঃ “দুনিয়া ও আখিরাতে সমস্ত প্রশংসা উনারই” কেন? কারণ তিনিই মহান আল্লাহ পাঁক, যিনি ছাড়া সত্যিকারের আর কোন ইলাহ নেই। ২৯/৬৩ এবং ৩১/২৫ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ, তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ ক’রে যমীনকে তার মৃত্যুর পর আবার সঞ্জীবিত করেন। ৩০/১৮ তে বলা হয়েছে, “আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সকল প্রশংসা কেবল উনারই। কেনো? কারণ, উক্ত সময়গুলিতে, যা একের পর এক আসতে থাকে এবং যা মহান আল্লাহ তা’আলার পরিপূর্ণ ক্ষমতা ও মহত্ত্ব বুঝায় তাই। ৩৪/১ এবং ৩৫/১ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, যার নিয়ামত আমরা ভোগ করছি, তিনিই এর সবকিছুর মালিক তাই। ৩৫/৩৪ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ যিনি আমাদের দুঃখ কষ্ট দূর করেন। ৩৭/১৮২ তে বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ মহান আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন; রসূল পাঠিয়েছেন, কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং রসূলগণ তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ তা’আলার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। অতএব তোমরা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। ৩৯/৭৪ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনি মুমিনদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন জান্নাতের, তা কিয়ামতের দিন পূর্ণ করবেন। ৩৯/৭৪ এ বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনি কিয়ামতের দিন বিচারের সময় ইনসাফ করবেন সবার সাথে, হোক সে কাফের হোক সে মুমিন। ৪০/৬৫ তে বলা হয়েছেঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ চিরঞ্জীব তিনি, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই। ৪৫/৩৬ এ বলেছেনঃ “সমস্থ প্রশংসা মহান রব তা’আলারই জন্যে, কেন? কারণ তিনিই আসমানসমূহের রব, যমীনের রব ও সকল আলমের রব। ৬৪/১ বলছেনঃ সার্বভৌমত্ব যেরূপ উনারই প্রশংসাও অনুরূপ কেবল উনারই। অর্থাৎ এই উভয় বৈশিষ্ট্যই কেবল তাঁরই জন্য। যদি কারো কোন এখতিয়ার থাকে, তবে তা তাঁরই প্রদত্ত এবং তা ক্ষণস্থায়ী। কেউ যদি কোন সৌন্দর্য ও পূর্ণতা লাভ করে থাকে, তবে তাও তাঁরই করুণার ভান্ডার থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ লাভ করে। কাজেই প্রকৃতপক্ষে প্রশংসা পাওয়ার অধিকারী একমাত্র তিনিই।

পাঠক উপস্থাপিত আয়াতগুলিতে আমি কেবল সারমর্ম উল্লেখ করেছি, আপনারা চাইলে তরজমা ও তাফসীর পড়ে আরো বিশাল আকারের জ্ঞান লাভ করতে পারেন আলহামদুলিল্লাহ এর ব্যপারে। আর আমরা যা শিখলাম উপরোক্ত আয়াত থেকে তা হলো, মহান আল্লাহ তায়ালা এমন সব বিষয়ের আগে, পিছে আলহামদুলিল্লাহ তথা সমস্থ প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে বলেছেন যার সাথে মানুষের মতো ক্ষুদ্র সৃষ্টির কোন সম্পর্কই নাই, না মানুষ এইসব গূনের অধিকারী হতে সক্ষম, সক্ষম কেবল মহান আল্লাহ পাঁক এবং দুনিয়াতে যদি কেউ সক্ষম ও হয় স্পেসিফিক কোন বিষয়ে তাহলে তাও মহান আল্লাহ তা’আলার দয়ায়, এইখানে তার নিজস্ব কোন ক্ষমতাই নাই হক্বিকতে। হোক সে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী কিংবা ধনী ব্যক্তি। তাঁরা যে ব্রেইন, জ্ঞান, ও মাল দ্বারা মানুষের উপকার করে তার মূল মালিক হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাঁক।

অতএব স্পষ্ট হয়ে গেলো, যে মুশরিক রাজারবাগিরা যে আলহামদুলিল্লাহ থেকে আল্লাহ কেটে তাদের পির দিল্লুর নাম লাগিয়ে আলহামদু-লি-মামদুহ পাঠ করে তা স্পষ্ট কুফরি, শিরকি কাজ। আবারো স্বরন করিয়ে দিচ্ছি, আল কুরআনে বলা হয়েছেঃ ( وَ هُوَ اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ لَهُ الۡحَمۡدُ فِی الۡاُوۡلٰی وَ الۡاٰخِرَۃِ ۫ وَ لَهُ الۡحُکۡمُ وَ اِلَیۡهِ تُرۡجَعُوۡنَ) আর তিনিই মহান আল্লাহ তা’আলা, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ্ নেই, সমস্ত প্রশংসা কেবল উনারই, প্রথমেও এবং শেষেও, (আর) বিধান (ও) উনারই, আর (ভুলে যেওনা) তোমাদেরকে উনার দিকেই ফিরিয়ে নেয়া হবে। (আল কুরআন ২৮/৭০)

অতএব আমার আর কিছুই বলার নাই, এর পরেও যদি মূর্খ জাহিলেরা রাজারবাগ পরিত্যাগ না করে তাহলে বুঝতে হবে এদের কপালে হেদায়েত নাই। আর যারা রাজারবাগি নন, তারা হয়তো ভাবছেন যে এও কি সম্ভব? কেউ কি আল্লাহ পাঁকের নাম ডিলিট করে আলহামদুলিল্লাহ'তে তার নাম লাগিয়ে মুরিদ-দের দিয়ে প্রচার প্রাসার ও যিকরে লিপ্ত করাতে পারে? তাদের জন্যঃ হ্যাঁ পারে, দেখুন স্ক্রিনশটগুলিঃ











সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

1 comment:

  1. নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক! এ কেমন দুঃস্বাহস, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার জন্য খাস আলহামদুলিল্লাহ মানুষের নামের সাথে জুড়ে দেওয়া?!
    বিবেক এবং বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো মুসলমানের সন্তানের পক্ষে এমন কুফুরি কাজ করা সম্ভব নয়। এটা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা কাফির মুশরিকদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মুসলিমের সুরতে কাজ করে অথবা ইবলিশের ধারা আক্রান্ত ব্যক্তি।
    আল্লাহ পাক এদের হেদায়েত নসিব করুন। আর হেদায়েত নসিবে না থাকলে উনার ইচ্ছামত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন! আমীন

    Reply

    ReplyDelete