আমার সম্পর্কে জানতে মনোযোগ দিয়ে লিখাটা পড়ুন!

Rajib Khaja is an International Islamic Blogger/Muslim Journalist Who writes for Persecuted Muslims on various online platforms and on this blog, which is a non-political and purely religious movement personal blog where you will get the Ultimate speech of the truth and Real Aqidah of Islam. It promotes the propagation of the true beliefs of Islam under the teaching of the true sect of Ahle Sunnat Wal Jamat.

By encouraging the blessed Sunnahs of the Beloved Aqa Rosulullah Sallallahu Alaihi Wa Alihi WaSallam it aims to light the beacon of love, admiration and affection of the Beloved Aqa Rosulullah Sallallahu Alaihi Wa Alihi WaSallam in the hearts of each believer, and through this, it endeavors to perfect the body, soul, and mind by molding each Muslim’s life according to the Qur’an and Sunnah.

The sole purpose of Rajib Khaja's is Sunni Islam to motivate each believer to become a true believer; inspiring them to remain steadfast in fulfilling the commands of Allah Almighty and to shine as a true respectful and humble devotee to the Beloved Aqa Rosulullah Sallallahu Alaihi Wa Alihi WaSallam and thus helping them to graciously adhere to the blessed life and Sunna's of the Beloved Aqa Rosulullah Sollallahu Alaihi Wa Alihi WaSallam, which is the best example to emulate.

Glory to Allah, this Islamic propagation movement is growing significantly.

It Originated in Sylhet (Bangladesh) But now in Turkey under the Guardianship of The Book of Allah Subhanahu wa Ta'la & Sunnah of Beloved Aqa Rosulullah Sollallahu Alaihi Wa Alihi WaSallam, and now through the grace of Allah and His Beloveds - this movement is continuously expanding in various parts of the world, under the guidance of the scholars of the Main Ahle Sunnat wal Jamat, it is already prominent in countries like Europe; United Kingdom; USA; Turkey, and In'sha-Allah aims to spread and help Muslims in other countries as well.

আমার সম্পর্কে বলার মতো তেমন কিছুই নাই। গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তুরস্কে আছি ২০১৮ সাল থেকে। একজন কুরআন সুন্নাহ’র অনুসারী সুন্নী মুসলিম। আক্বিদায় আহলে সুন্নত ওয়াল জা’মাআত। ফিকহি বিষয়ে হানাফি মাজহাবের অনুসারী ইবাদতের ক্ষেত্রে, তবে ভিন্ন কিছু ইখতেলাফি বিষয়ে হাম্বলি মাজহাবের অনুসরণ করি।

একজন সুন্নী মুসলিম হিসেবে প্রত্যেক মানুষ হুব্বে ইলাহী ও হুব্বে রসূল () ওয়ালা পিউর মুসলিম হবে এটাই থাকে সর্বচ্চো চেষ্টা। পৃথিবীর সমস্থ মুসলিমদের জন্যে প্রান কাঁদে সব সময়। নির্যাতিত মুসলিমদের জন্যে কলম, জবান, তৌফিক অনুসারে আর্থিক খেদমতে নিয়োজিত থাকি সব সময়। জমিনে ইসলামিক খিলাফত কায়েম হবে এটাই সর্বচ্চো চাওয়া। চাই, সমাজ হবে রসূলে আরাবি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালিন, নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুরপাক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিজ হাতে গড়া মুবারক শহর মদিনা শরীফের মতো।

মিশন ও ভিশন!!!

একটি ইসলামিক গ্রাম (ক্বারিয়াতুল খিলাফাহ) বানানোর স্বপ্ন, এবং অন্যতম নেক ইচ্ছা বুকে লালন করছি দ্বীন ইসলাম বুঝার পর থেকেই। এমন একটি গ্রাম, যেখানে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ শিশু সবাই নিশ্চিন্তে দ্বীন ইসলাম পালন করতে পারে। যেখানে সম্পূর্ণ কুরআন সুন্নহর আদলে জীবনযাপন করবে মানুষ। হোক তা ১০/২০/৫০/১০০ পরিবারের একটি ছোট্ট গ্রাম।

যেখানে বোনেরা পর্দা করতে কখনো বাঁধার সম্মুখীন হবেনা, হবে পর্দানশীল। যেখানের পুরুষেরা কখনো নন মাহ্রামের দিকে তাকাবেনা ইচ্ছেকৃতভাবে, যদিও কেউ বোরকা না পরে কখনো ঘরের বাহীরে কাজে থাকে।

প্রত্যেকের জন্যে থাকবে ফ্রি একটি বাড়ি, নিদৃষ্ট কিছু দ্বীনি শর্তে চিরস্থায়ী মালিকানা দিয়ে দেওয়া হবে। যেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে রোদ বৃষ্টি ঝড়ে নিশ্চিন্তে ইবাদতময় ইসলামিক জীবনযাপন করতে পারবে। যেহেতু অধিক সন্তান জন্ম দেওয়া সুন্নাহ ও হুজুরপাক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম চাওয়া, তাই যদি কারো একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে তার জন্য সেই অনুসারে বড় ঘরের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য থাকবে হালাল রুযীর ব্যবস্থা, যে রুযীর জন্য আজকে মানুষ মহান আল্লাহ তা’আলা হতে উদাসীন গাফেল থাকে। যে রূজির জন্যে মানুষ আখিরাত ধ্বংস করে, সেই রুযী থেকে পেরেশানি মুক্ত একটি গ্রাম সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা লালন করি।

থাকবে দ্বীনি শিক্ষার বিশাল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ফ্রিতে। সৃষ্টি করা হবে পূর্বের সালাফদের মতো খানকাহ ভিত্তিক ইল্ম শিক্ষার পরিবেশ। প্রত্যেক নারী পুরুষের জন্য নুন্যতম বিশুদ্ধ করে তাজউইদের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করার মতো জ্ঞান অর্জন করা থাকবে বাধ্যতামূলক। বয়স্কদের জন্য শিখতে হবে নুন্যতম ১০ টা সূরা অর্থ সহ, যা সাধারণত নামাযের মধ্যে তিলাওয়াত করা হয়। শিখতে হবে ৫ ওয়াক্ত নামাযের সুন্নাহ অনুসারে দোয়া দুরুদ, তাসবিহ তাহ্লিল। এর সাথে সবাইকে শিখানো হবে সকল নামাযের সুন্নাহ অনুসারে আদায়ের তরীকা।

আর লোভ লালসাহীন, নিবেদিতপ্রান দুনিয়া বিমুখ নারীদের জন্যে নারী, পুরুষদের জন্যে পুরুষ আ’লীম/আলিমা দ্বারা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। আর প্রত্যেক বাচ্চা(ছেলে/মেয়ে)র জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে কুরআনের হাফেজ হওয়া। বড় হয়ে সে যাই হোক, শুরুটা তার কুরআনের হাফেজি দিয়ে হবে। তারপর সে ক্বারি হবে। যারা চায় মুফাসসির হবে, মুহাদ্দিস হবে। যারা চায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আ’লীম, ব্যবসায়ী, বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি... সেই অনুসারে তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে, তবে তা কুরআন ও ইসলামিক শিক্ষা অর্জনের পরে, যে পরিমাণ ইসলামিক জ্ঞান অর্জন ফরজ ততটুকু নারী পুরুষ সবার জন্যে থাকবে বাধ্যতামূলক।

সেখানে প্রত্যেকের জন্য ইসলামিক পোশাক পরিধান হবে বাধ্যতামূলক। নগ্নতা, উগ্রতা সেখানে এমনভাবে বিলিন করে দেওয়া হবে যেমন বিলীন হয়ে গেছে জমিন থেকে ডাইনোসর। সুন্নতের অনুসরণের থাকবে ইসলামিক পোশাক। নারীদের পর্দা করতে যে পোশাক সহজ হবে সেই পোশাকই সে পরবে, পর্দা করা ফরজে বিশ্বাসী আমি বোরকা পরা ফরজে নয়, তবে বোরকা পরাই যুগের অনুসারে উত্তম বলে মনে করি। নারিরা এমন পোশাক পরবেন, যে পোশাক পরা দেখলে উম্মাহাতুল মু’মিনিন আলাইহিন্নাস সালাম ও মহিলা সাহাবীদের কথা মনে হবে। পুরুষরা এমন পোশাক পরবেন যে পোশাকে দেখার সাথে মানুষের রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা স্বরন হবে। দূর থেকে আসতে দেখলে মানুষ যেনো এটাই ফিল করে গোলামে রসূল আসতেছেন।

চিকিৎসা থাকবে ধনী গরীব নির্বিশেষে। একটি হাসপাতাল থাকবে, যেখানেঃ চোখ, নাক, কান, গলা, হাড়, ব্রেইন, নারী ও শিশু বিষয়ে একজন করে বিজ্ঞ হাকিম থাকবেন যিনি টাকা নয় ইবাদত মনে করেই চিকিৎসার কাজ করবেন। যেখানে থাকবে মহিলাদের ১০০% পর্দার ব্যবস্থা। নারীদের জন্যে নারী, পুরুষদের জন্যে পুরুষ ডাক্তার। গ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে গরবীদের জন্য থাকবে ফ্রি চিকিৎসা, আর ধনীদের জন্যেও থাকবে মূল দামে ঔষধ এর বিশেষ সুবিধা।

এই বিষয়ে আমি একটি কিতাব লিখার আশা রাখি, যদি আল্লাহ পাঁক ইল্ম দেন আর লিখি তাহলে বিস্তারিত সেখানেই পাবেন ইন’শা’আল্লাহ।

এমন একটি পরিবেশ আমি সাজিয়ে দেব নিজের টাকায়, যেখানে একজন আমীর থাকবেন যিনি হবেন নিবেদিতপ্রাণ, মুত্তাকী, পরহেজগার, লোভ লালসাহীন কুরাইশি নেতা। আমি নিজেকে আমীর কখনোই ভাবিনাই ভাব্বওনা কারণ যেহেতু এই অধিকার হুজুরপাক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের জন্য সাব্যস্থ করে রেখেছেন। আমি এমন একজনকে খুঁজে বের করার চেষ্টায় লিপ্ত।

যেসব বিষয়কে ঘৃণা করি।

প্রথমতো জিনাকে খুবই ঘৃণা করি, ইসলাম আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছেন। কারণ জিনার শাস্তির ব্যপারে আল্লাহ পাঁক এতোই কাঠিন্যতা প্রকাশ করেছেন যা শিরকে লিপ্ত কারো ব্যপারেও আমি দেখিনাই। এছাড়াও ঘৃণা করি শিরক, বিদ’আত (মনগড়া ফতোয়ার ছাড়া), কুফর, তাগুত, আর সমাজে অশ্লীলতার ধারক বাহকদের।

ধর্মীয় বিভিন্ন দলের ব্যপারে যেরূপ আক্বিদাহ রাখি?

ঘৃণা করি ধর্ম ব্যবসায়ী পীরদের, যারা সুন্নতি লেবাস লাগিয়ে দ্বীন ইসলামকে পারসোনাল প্রোপার্টি বানিয়ে ফেলেছে, উদাহরণস্বরূপ রাজারবাগের পির দিল্লুর রহমান। বাংলাদেশের কোন পিরই দ্বীন ইসলাম কায়েমের পথে নাই, তারা দ্বীনকে দরবার আর হাদিয়ায় সীমাবদ্ধ করে রেখেছে বলে তাদের পছন্দও করিনা। আর অসংখ্য কুফুরি আক্বিদাহ রাখা দেওবন্দি কওমি বর্তমান ও পূর্ববর্তী অনেক কথিত উলামাদের ও ঘৃণা করি। তবে এদের চেয়েও বেশি ঘৃণার পাত্র সলাফি লা মাজহাবি দাবীদার আহলে হাদিসদের। ইহুদীদের দ্বারা পরিচালিত এই গোত্র ইসলামের ক্যান্সার, এটা বুঝতে হলে যেভাবে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়েছে দ্বীন ইসলামকে, যার ধ্বংস্তুপে আজ আমরা আছি দাঁড়িয়ে!!! লিখাটা পড়তে হবে।

তাছাড়া বেশুমার ঘৃণা আছে ধর্মব্যবসায়ী ওয়াজিদের প্রতি যারা লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে, ঘন্টার চুক্তিতে ওয়াজ করে বেড়ায়, আর ভাবে সে ইসলামের দাওয়াতি কাজ করছে। এছাড়াও ঘৃণা বেশুমার জ্বিহাদ বিমুখ পির ও তাসাউফ বিমুখ শায়খ নামক জাহিলদের প্রতি। এরা উভয়েই মূলত ইহুদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, বুঝতে চাইলে এই লিখাটা পড়ুনঃ ()।

তবে, আহলে কুরআন, কাদিয়ানি, শিয়া (যারা কেবল কুফুরি আক্বিদাহ রাখে, কুরআন সুন্নাহ ও খোলাফায়ে রাশেদিনের ব্যপারে), নাসবি, খারেজী, মুতাজিলা, ইয়াজিদি, হেযবুত তওহীদ নামক দলগুলিকে কাফের বলেই মনে করি।

যে বিষয়গুলি নিয়ে মুসলিম সমাজ আজ টুকরো টুকরো সেইসব বিষয়ে কেমন আক্বিদাহ রাখি?

মিলাদ ক্বিয়ামঃ এই বিষয়ে আমার আক্বিদাহ হলো, এটা মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট একটিঅত্যন্ত পছন্দের আমল বলেই মনে করি, যা সুন্নতে সাহাবা হিসেবে আমি জানি। আর যে করবে সে নেকি পাবে, যে করবেনা তার কিছুই হবেনা। হুব্বে রসূল () বাড়ানোর অন্যতম একটি মাধ্যম মনে করি মিলাদ ক্বিয়ামের বিষয়কে। এছাড়াও, কেউ বসে পড়ুক, বা কেউ দাঁড়িয়ে এতে আমার কোন সমস্যা নাই। আমি দাঁড়িয়ে ক্বিয়াম করি, যে করেনা তার ব্যপারে কোন মন্তব্য নাই। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইন’শা-আল্লাহ)

ঈদে মিলাদুন্নবীঃ কারো জন্মদিন পালন করা আমার নিকট মহান আল্লাহ তা’আলার সুন্নত ও সুন্নতে রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম। যেরূপ আল্লাহ পাঁক করেছেন (জন্মদিনে উনারই এক নবীর উপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত করে), যেরূপ রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম করেছেন (সোমবারে রোজা রেখে), সেরূপে আমিও করে থাকি, কিন্তু কোন বিজাতীয় বিদআতি তরীকায় করিনা, তবে করা বাধ্যতামূলক মনে করিনা, কেউ না করলে সে মুসলিম থাকবেনা এরূপ আক্বিদাও রাখিনা। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইন’শা-আল্লাহ)

রসূল()কে কি মানুষ মনে করিঃ রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মানুষ ছিলেন না, এধরণের আকিদা রাখা কুফুর। রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম অবশ্যই বাশার বা মানুষ। তবে তিনি সাধারণ মানুষ নন। সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। সৃষ্টিতে তিনি একক অদ্বিতীয় মানুষ, যার কোন মিসাল নাই বলেই আক্বিদাহ রাখি, যারা মানুষ মনে করেনা তারা আমার নিকট পথভ্রষ্ট গুমরাহ, কারণ আল্লাহ তা’আলার সৃষ্ট মাখলুকে মানুষই সর্বশ্রেষ্ট, অতএব মানুষ ব্যতীত অন্য কিছু মনে করার প্রশ্নই আসেনা। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইন’শা-আল্লাহ)

রসূল()কে মাটি না নূর মনে করিঃ শুধু রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকেই না, বরং কোন মানুষই মাটির নন আদম আলাইহিস সালাম ব্যতীত, যারা তা মনে করে তার মুলত কুরআন বিরোধী জাহিল। আদম আলাইহিস সালাম মাটি থেকে সরাসরি, আম্মাজান হাওয়া আলাইহিস সালাম আদম আলাইহিস সালামের বাম পাঁজরের হাড় থেকে, আর সমস্ত মানুষ শুক্র থেকে ইসা আলাহিস সালাম ছাড়া। আর মহান আল্লাহ তায়ালা রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের রুহ, অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও পুরো দেহ-মুবারককে মানুষ হওয়ার পরও বিশেষ নূর দ্বারা নূরান্বিত করেছেন। এমনকি উনার আশ-পাশকেও আল্লাহ তায়ালা বিশেষ নূর দ্বারা নূরান্বিত করেছেন। এই নূরের হাকীকত আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। হাদীস শরীফে রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে অস্থি-মজ্জা থেকে শুরু করে সব কিছুকে নূরান্বিত করার দু'য়া করেছেন। এই নূরের হাকীকত বা বাস্তবতা আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। একটি মশহুর লক্বব হচ্ছে জিন্নুরাঈন যা সাইয়্যিদূনা হযরত উসমান ইবনে আফফান জিন্নুরাঈন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ওয়া আলাইহিস সালামের নামের সাথে চলে আসছে। মূর্খরা কি জানে এর মানে কি? তাদের অনেকেই তো তা তাদের বই পুস্তকে লিখে থাকে। এর মানে হলো তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের দুই নূরের টুকরাকে শাদি করেছিলেন।

এছাড়াও মহান আল্লাহ তা’আলার সত্ত্বাকে নূর বিশ্বাস করাও একটি বাতিল আকিদা, কিছু ভন্ড সুন্নী আছে আমাদের দেশে যারা এরূপ আক্বিদাহ রাখে। মহান আল্লাহ তা’আলা উনার সত্ত্বার হাকীকত বা বাস্তবতা আমরা কেউ জানি না, তাই মহান আল্লাহ তা’আলাকে নূর বিশ্বাস করা যাবে না। আবার মহান আল্লাহ তা’আলাকে নূর বিশ্বাস করা এবং রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে স্বয়ং মহান আল্লাহ তা’আলার নূরের অংশ বিশ্বাস করা বাতিল ও কুফুরী আক্বিদাহ যা এদেশের কতিপয় গুমরাহ সুন্নী রাখে। প্রথমতঃ মহান আল্লাহ তা’আলার সত্ত্বাকে নূর বিশ্বাস করা বাতিল আবার সেই সত্ত্বার অংশ আছে বিশ্বাস করা শিরক। তবে মহান আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে সৃষ্ট নূর রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল তাই উনাকে নূরে মুজাসসাম বলা হয় এরূপ বিশ্বাস করা কুফুর বা শিরক নয় বলেই মনে করি। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইন’শা-আল্লাহ)

ইলমে গায়েবঃ আমি আমার জ্ঞান অনুসারে মহান আল্লাহ তা’আলাকে আ’লীমুল গায়েব (যিনি সকল বিষয়ে অবগত)। আর রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে ইলমুল গায়েব (যা আল্লাহ প্রদত্ব নিদৃষ্ট) এর অধিকারী বলেই মানি। রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মহান আল্লাহ তা’আলার মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ বা সত্ত্বাগত গায়েবের ইলম ছিলো, এধরণের আকিদা রাখা শিরক বলেই মনে করি। স্বয়ংসম্পূর্ণ বা সত্ত্বাগত গায়েবের ইলম একমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলার জন্যই নির্ধারিত। কোন মাখলুকের এই গূন থাকা অসম্ভব। কারণ এটা মহান আল্লাহ তা’আলারই জন্যে খাস। মাখলুকের পক্ষে লাইভ সব বিষয়ে জেনে দুনিয়ায় জীবনযাপন করা কস্মিনকালে সম্ভব না। আর নবী রসূল আলাইহিমুস সালামদের পক্ষে তো অসম্ভবই, কারণ এতে নবুওয়্যাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে প্রতি মুহূর্তে বাঁধা হতো, কারা ঈমান আনবে কারা ঈমান আনবেনা এটা জানার পরেও তাদের নিকট দাওয়াত দেওয়ার কোন মানেই থাকতনা। তাছাড়া অসংখ্য প্রমান মওজুদ যে রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম অনেক বিষয়ে নিজেই প্রমান দিয়েছেন। যেমন ইহুদী মহিলার বিষাক্ত খাবার, গুইসাপ সাদৃশ দব খাওয়ার প্রস্তাব, ইং’শা-আল্লাহ সম্পর্কে নাযিল হওয়া আয়াতের ঘটনা। তাছাড়া রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অসীম গায়েবের ইলম ছিলো অথবা রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ইলমে গায়েব অপরিবর্তনীয়, এর কোন লয়-ক্ষয় নেই, এধরণের আকিদা রাখাও শিরক। কোন সৃষ্টির ইলমে গায়েব অসীম বা লয়-ক্ষয় থেকে মুক্ত হতে পারে না। এধরণের ইলমে গায়েব একমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলার জন্যই সুনির্দিষ্ট।

তবে রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ইলমে গায়েব সম্পূর্ণটাই মহান আল্লাহ প্রদত্ত বলে মনে করি। রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই ইলমে গায়েব অসীম নয় সসীম। এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বাধীন ও নয়। এটি লয়-ক্ষয় থেকে মুক্তও নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলার ইলম এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কোন মাখলুকের ইলম এমন হতে পারে না, তবে মহান আল্লাহ তা’আলা রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে যে গায়েবের ইলম দিয়েছেন, সেটা কিরূপ, আর কি পরিমাণ দিয়েছেন, তা মহান আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। তবে অন্যান্য নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের চেয়ে মহান আল্লাহ তা’আলার রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে সবার চেয়ে বেশি ইলমে গায়েব দান করা হয়েছে বলেই আক্বিদাহ রাখি।

শিরক হওয়া বা না হওয়া কতটুকু ইলমে গায়েব দেয়া হয়েছে এর উপর নির্ভর করে না। যতক্ষণ না একে মহান আল্লাহ তা’আলার ইলমের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। কারও ইলমকে যদি মহান আল্লাহ তা’আলার সাথে তুলনা করা হয় তাহলে তা অবশ্যই শিরক বলে গন্য হবে বলে মনে করি। যদি ধরে নেয়াও হয়, কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে সেই পরিমাণ ইলম মহান আল্লাহ তায়ালা কাউকে দিয়েছেন, তাহলে এই কথাতেও কোন শিরক হবেনা বলেই মনে করি। কারণ, সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মাত্র ৭ দিবস। আর দুনিয়া থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা হবে এটার ইলম কিয়ামতের পরের জীবনের ইলমের সম্মুখে সাহারার বিশাল বালুরাশির মধ্যে থাকা একটি ধূলিকণার অনুরূপ। রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ইলমে গায়েবের বিশালতা লওহ ও কলম থেকেও বিশাল এধরণের কথার মধ্যেও শিরকী কিছু নেই বলেই মনে করি। কারণ, এখানে মহান আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে দেয়া ইলম স্বীকার করা হয়েছে। এবং এই ইলম স্বয়ংসম্পূর্ণ বা নিজস্ব নয়। মহান আল্লাহ পাঁক প্রদত্ত বিশেষ নেয়ামত। এতে শিরকের কিছু নেই বলে মনে করি।

হাজির ও নাজিরঃ আম্বিয়ায়ে কেরাম, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুসলমানদের রুহ ইন্তেকালের পর পুরোপুরি নি:শেষ হয়ে গিয়েছে, এধরণের আকিদা রাখা কুফুর। আর আম্বিয়ায়ে কেরাম, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুসলমানদের রুহ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সম্পূর্ণ নিজস্ব স্বাধীনতায় যে কোন জায়গায় চলাফেরা করতে পারে, এধরণের আকিদা রাখাও শিরক বলে মনে করি। 

তবে মহান আল্লাহ তা’আলা দেয়া অনুমতি, মহান আল্লাহ তা’আলার দেয়া ক্ষমতায় ও মহান আল্লাহ তা’আলার দেয়া স্বাধীনতায় আম্বিয়ায়ে কেরাম, ওলী-আউলিয়াগণ বা সাধারণ মুসলমানদের রুহ তাদের কবরসহ যে কোন জায়গায় হাজির হতে পারেন। এই ধরণের আকিদা রাখা শিরক নয় বলেই মনে করি। কারণ হাদীস শরীফ থেকে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়দের আমল তাদের সামনে পেশ করা হয়ে থাকে। বিশেষভাবে হায়াতুন্নবী রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে উম্মতের আমলসমূহ পেশ করা হয়। বরজখের আমল পেশ হওয়ার এই আকিদা সঠিক ও হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। এধরণের বিশ্বাস রাখা শিরক নয় বলেই মুমিন মাত্রই মনে করবে।

উম্মতের কোন প্রয়োজনে রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কোথাও হাজীর হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। যে নবী দুনিয়া থেকে স্বশরীরে সিদরাত আল মুন্তাহা যেতে পারেন, যেখানে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামের মতো ফেরেশতায়ে আযম ও গেলে পুড়ে যাবেন। যে নবী দুনিয়া থেকে হাত বাড়িয়ে জান্নাতের আঙ্গুর গাছের ঝুটা চোখ দিয়ে দেখার, হাত দিয়ে ধরার ক্ষমতা রাখেন উনার জন্য রওজা শরীফ থেকে কাউকে কিছু দিতে হলে আসতে হবে বলে আমি মনে করিনা। উনি চাইলেই যার কোলে ইচ্ছা যেকোন কিছু দিয়ে দিতে পারেন, দুনিয়ায় থাকতেই এই এখতিয়ার মহান আল্লাহ তা'আলা উনাকে দিয়ে দিয়েছেন। আর হাদিস শরীফে বলাই আছে আপনার দুনিয়ার জীবন থেকে আখেরাতের জীবন উত্তম, সম্মানের, মর্যাদার।

অন্যদিকে মহান আল্লাহ তায়ালার ব্যপারে, তিনি সমস্ত সৃষ্টির মাঝে সত্ত্বাগতভাবে হাজির বা উপস্থিত আছেন মনে করা জঘন্য কুফুরী আকিদা। মহান রব্বুল আলামীন সৃষ্টিজগতের মাঝে সত্ত্বাগতভাবে হুলুল বা অনুপ্রবেশ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। সমস্ত সৃষ্টি মহান আল্লাহ তা’আলার নিয়ন্ত্রণ ও কুদরতের অধীন, কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা সত্ত্বাগতভাবে সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান নন। মহান আল্লাহ তায়ালাকে সমস্ত সৃষ্টির মাঝে সত্ত্বাগতভাবে বিদ্যমান মনে করা কুফুরী। তাছাড়া উনি যেরূপ লাইভ সবকিছু দেখেন সেরূপ দেখা কোন অবস্তায় যায়েজ নয় অন্য কোন জিন ইনসানের জন্য। যেমন একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত এটা মহান আল্লাহ পাঁকের দৃষ্টির বাহীরে নয়, কিন্তু এটা খোদ রসূলে পাঁক ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জন্যেও হারাম। (দলিল সম্মত লিখার লিঙ্ক এড করে দেব ইন’শা-আল্লাহ)

মাযার ও আউলিয়াঃ যে সমস্ত আউলিয়ায়ে কেরাম দুনিয়ার জমিন থেকে অফাৎ লাভের পরে মুসলিম মিল্লাতের নিকট আউলিয়া হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন, উনাদের মাযার শরীফ জিয়ারত করে ফায়েজ লাভ করা, উনাদের উসিলায় মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট দোয়া করা, দোয়ার আর্জি রাখা যায়েজ বলেই মনে করি। তবে আউলিয়াদের মাজারে সেজদা দেওয়া, মাজার শরীফে নারী পুরুষ মিলে আধ্যাত্মিক গান বাজনা, মাজারে বসে সিদ্ধ পুরুষ হতে গাঁজা খাওয়া, মাজারে নিয়ত করে মোম বাতি জালানো সহ সকল বাতিল কাজকে হারাম বলেই মনে করি।

এছাড়াও আরো অনেক আক্বিদাহ বিদ্যমান যা এইখানে লিখার দরকার আছে বলে মনে করিনা, যারা বুঝার তারা বুঝেই ফেলবেন উপরোক্ত আক্বিদাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখলে।