10.01.2016

হিন্দুরা কি মগের মুল্লুক পেয়েছে যেমন ইচ্ছা তেমন পরিবেশ দূষণ করবে কোটি কোটি মূর্তি বিসর্জন দিয়ে?


বাংলাদেশের বাগেরহাটে ১ মণ্ডপে ৬০১ মূর্তি!!! শুনতে ভালো শোনা গেলেও এতগুলো মূর্তির রিয়াকশনটা নেবে কে ?? এতগুলো মূর্তিগুলো যাবে কোথায় ? নিশ্চয়ই নদী আর পুকুরে। যেখানে ১টা মূর্তিতে হয় সেখানে ৬০১টা মূর্তি কেন ??

১টি মণ্ডপে যদি ৬০১টা মূর্তি থাকে, তবে ৩০ হাজার মণ্ডপের মূর্তির সংখ্যা কত হবে? এতগুলো মূর্তি পানিতে ফেললে নদীর পানির দূষণ মাত্রা কত? এই ভয়ঙ্কর দূষণ কি শুধু হিন্দুরাই বহন করবে, নাকি পুরো বাংলাদেশকে বহন করতে হবে?

বাংলাদেশে একটা মণ্ডপে কতগুলো মূর্তি হবে তার সীমানা কিন্তু থাকছে না, যে যার খুশি মত করছে। ১টা মূর্তির বদলে ৬০১টা মূর্তি বসাচ্ছে। অথচ নদীতে এই মূর্তি দূষণের সাইড এফেক্ট কিন্তু ভয়াবহ। ইউরোপ-আমেরিকাতে ১ হাত লম্বা গনেষের মূর্তি আপনি পানিতে ডুবাতে পারবেন না, এমনকি ভারতেও তা আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে ৩০ হাজার মণ্ডপের লক্ষ-কোটি মূর্তি আপনি নির্বিচারে পানিতে ফেলতে পারছেন, কোন সীমাবদ্ধতা নেই। যে যার খুশি মত মণ্ডপ বানাচ্ছে, যেন শো ডাউন। কেউ এক মণ্ডপে দিচ্ছে ৬০১টি মূর্তি, কেউ মূর্তি সাইজ বানাচ্ছে ৭০ ফিট। পুরো বিশ্বের রেকর্ড বাংলাদেশে বসে ভাঙছে। এটা কি মগের মুল্লুক নাকি!!

হিন্দুরা কিছু করলেই কি সেটা জায়েজ হয়ে যাবে ? তারা ধর্মের নামে পরিবেশ দূষণ করবে আর সেটার বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না ?? কোরবানীর সময় পরিবেশ দূষণ’ ‘পরিবেশ দূষণবলে একটা গ্রুপ তো খুব চেচিয়েছিলো, এরা এখন কোথায় ? এরা চুপ কেন ??

মূল খবরঃ উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় পূজামণ্ডপ বাগেরহাটে তৈরি হয়েছে ৬০১টি প্রতিমা।

বিস্তারিতঃ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় বাগেরহাটে এ বছরের চমক ৬০১ প্রতিমার বৃহৎ ম-প। সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের শিকদারবাড়ি মন্দিরের এ ম-পে বসছে ছয়শ এক প্রতিমার এই দুর্গাপূজা। আয়োজন সফল করতে পাঁচ মাস ধরে মহাধূমধামে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। এখন চলছে শেষ তুলির আঁচড়। দুর্গাপূজার অবিচ্ছেদ্য প্রতিমাগুলোর সঙ্গে বাড়তি এসব প্রতিমা স্থাপন করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন কাহিনি ও দেব-দেবীর প্রতিরূপ, থাকছে আলোকসজ্জা। আয়োজকরা বলছেন, শুধু বাগেরহাটই নয়, প্রতিমার সংখ্যা ও আড়ম্বরতার দিক থেকে এবছর এটাই হবে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ম-প। আয়োজকরা আশা করছেন, তাদের ম-পে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে নজরকাড়া। জেলার বিভিন্ন স্থান, অন্য জেলা, এমনকি পশ্চিম বাংলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসবেন তাদের ম-প দর্শন ও পূজা দিতে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় এবছর মোট ৫৮৩টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূূজা সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এবারের বড় আকর্ষণ হলোÑ ম-পে কৈলাশ পর্বতের কাহিনির কিছু বিষয় তুলে ধরা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী দিব্যতনু দাসের নেতৃত্বে ১০ আর্টিস্ট পুকুরের মাঝখানে ৪০ ফুট উঁচু প্রতিমাটি কৈলাশ পর্বতের অংশবিশেষ স্থাপন করছে, যেখানে সবার ওপরে থাকবে মহাদেব। এরপর রাম, লক্ষণ, সীতা ও হনুমান। মহাদেব ও রামের হাত আশির্বাদ করা অবস্থায় থাকবে, যা দেখে ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হবেন বলে জানিয়েছেন আর্টিস্ট আমিনুল ইসলাম আশিক। শিকদারবাড়ি দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি দুলাল শিকদার বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুরু থেকেই এলাকার মানুষের উৎসাহ এবং সহযোগিতা পেয়ে আসছি। তাদের পরামর্শ ও উপদেশ আমার অনেক কাজে লাগছে। ২০১০ সালে ৩০১টি প্রতিমা নিয়ে এই মন্দিরে দুর্গাপূজা শুরু হয়। এ বছর আমরা ৬০১টি প্রতিমা নিয়ে উপমহাদেশের সব থেকে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন করেছি। এর আগে গত বছর ৪৫১টি প্রতিমা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এ ম-প। আশা করি এখানে এলে দর্শনার্থীদের মন ভরে যাবে। তিনি আরও বলেন, দেড় বিঘা জমিতে প্রাচীরঘেরা এই ম-পে ভবিষ্যতে ৪৫ ফুট উচ্চতার সর্বজনীন মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে মন্দির বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পারব।


শিকদারবাড়ি পূজাম-পে চৌদ্দজন সহকারী নিয়ে পাঁচ মাস ধরে প্রতিমা তৈরি করেছেন খুলনার কয়রা উপজেলার হাতিয়ার ডাঙ্গা গ্রামের কারিগর বাবু বিজয় কৃষ্ণ বাছাড়। তিনি জানালেন, গত বৈশাখ মাস থেকে ১৪ শ্রমিক নিয়ে একটানা ৬০১টি প্রতিমা নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে দিন-রাত রং-তুলির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। এছাড়া তারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অন্য আনুষঙ্গিক কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় জানান, শিকদারবাড়ির সবচেয়ে বড় পূজাম-পসহ জেলার ৫৮৩টি ম-পে প্রতিমা তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রতিমা নির্মাণ ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। এ ব্যাপারে পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও সহায়তা করছেন। বাগেরহাট জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অমিত রায় বলেন, বাগেরহাটে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হবে। এ বছর জেলার বেশ কয়েকটি মন্দিরে শতাধিক প্রতিমার ম-প তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বড় শিকদারবাড়ির পূজাম-পে থাকছে ৬০১টি প্রতিমা। প্রতিমার সংখ্যা ও জাঁকজমকের দিক থেকে এটাই এ বছর উপমহাদেশের সব থেকে বড় মণ্ডপ। 

খবরের সুত্রঃ https://goo.gl/jK06QX


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: