Thursday, March 12, 2026

জাকাত আসলে কি? কিভাবে জাকাত দিলে তার ফায়দা পাওয়া যাবে?

নফসের তাজকিয়ার (আত্মশুদ্ধির) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলোঃ “জাকাত, ছ্বদাক্বাহ এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার পথে ব্যয় করা। মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র আল ক্বুরআনে ইরশাদ মোবারক করেছেনঃ (الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّىٰ) যে ব্যক্তি তার সম্পদ (মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রাস্তায়) দান করে; এর মাধ্যমে সে তাজকিয়া লাভ করে, পবিত্র হয়। (ছুরাহ আল-লাইল, ৯২:১৮)

আর পবিত্র আল-ক্বুরআনে সেই দানের ছুন্নতি ত্বরীকাহ হিসেবে মহান আল্লাহ তায়াল উনার বর্নিত সিস্টেম হলেনঃ (خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ) (ইয়া রছুলাল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি তাদের সম্পদ থেকে (জাকাত) ছ্বদাক্বাহ গ্রহণ করুন; এর মাধ্যমে আপনি তাদেরকে (তাদের সম্পদ ও ক্বলবে থাকা মালের মুহব্বত থেকে) পবিত্র করবেন এবং তাদের নফসের তাজকিয়াও করবেন। এবং আপনি (জাকাত/ছ্বদাক্বাহ গ্রহণের বিনিময়ে) তাদের জন্য দোয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনার দোয়া তাদের জন্য এক প্রশান্তির কারণ হবে। আর মহান আল্লাহ তা’য়ালাই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (ছুরাহ আত-তাওবাহ ৯:১০৩)

জাকাত মূলত নফছ এবং ক্বলবের তাজকিয়ার জন্যই ফরজ করা হয়েছে; কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই তা জানে না। মানুষ এটিকে কেবল একটি ফরজ ঈবাদাত হিসেবেই দেখে। সম্পদের পবিত্রতা এবং আত্মিক প্রশান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো জাকাত/ছ্বদাক্বাহ। বিস্তারিত বুঝত হলে এটা পড়ুনঃ (সম্মানিত দ্বীন ইছলামে জাকাত এর হুকুম, ফজিলত ও হাক্বিকত)

ঠিক এই কারণেই, যারা আমার মাধ্যমে জাকাত প্রদান করেন, তাদের আমি প্রথমে জাকাতের হাক্বিকত বুঝাই, বুঝলে তবেই জাকাত গ্রহন করি নতুবা নয়, আর যাদের গ্রহণ করি তাদের জন্য আমি বছরের ৩৬৫ দিনই আমাদের দৈনিক ছ্বহবত/জিকিরের মাহফিলে এই দোয়াটি করি।

জাকাত প্রদানকারীদের জন্য বিশেষ দোয়াঃ (اللَّهُمَّ مَن دَفَعَ إِلَيَّ الصَّدَقَةَ وَالزَّكَاةَ، فَطَهِّرْ مَالَهُ وَقَلْبَهُ، وَزَكِّهِمَا، وَاجْعَلِ السَّكِينَةَ فِي قَلْبِهِ، وَبَارِكْ لَهُ فِي مَالِهِ، إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ) হে মহান আল্লাহ তা’য়ালা! যে ব্যক্তি আমার নিকট ছ্বদাক্বাহ এবং জাকাত প্রদান করেছে, আপনি তার সম্পদ ও অন্তরকে পবিত্র করুন এবং এই উভয়টির তাজকিয়া করুন। তার অন্তরে প্রশান্তি স্থাপন করুন এবং তার সম্পদে বরকত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনিই পরম দাতা (আল-ওয়াহহাব)।

এটি কেবল একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা; হতে পারে আমার দোয়া কবুল হবে এবং মালিক মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে প্রশান্তি দান করবেন।

বিঃদ্রঃ জাকাত পথে পথে হেটে ফকির মিছকিন খোঁজে খোঁজে দেওয়া ছুন্নত নয়, না শাড়ি কিনে নির্বাচনের মার্কেটিং করার কিংবা এলাকায় দাতা হওয়ার, সম্মানিত হওয়ার কোন সাবজেক্ট, বরং জাকাত হচ্ছেন নফছের তাজকিয়ার বিষয়, না বুঝলে ফরজ আদায় হলেও কোন ফায়দা আসবেনা, আর এর প্রমাণ যারা জাকাত দিচ্ছে গত ৩০/৪০ বছর ধরে তাদের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। আরো পড়ুন (জাকাতের বিস্তারিত নিছাব, বন্টন ও আধুনিক মাসআলাঃ একটি পূর্ণাঙ্গ ফিকহি নির্দেশিকা)


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 ফেইসবুক: