Wednesday, August 17, 2022

হে দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, দ্বীন পালনে তোমাদের পরিবার যেনো দ্বীনের পথে বাঁধা না হয়

আপনার আমার, স্ত্রী/স্বামী ও সন্তান যেনো আমাদের দ্বীন পালনের পথে বাধা না হয়। আমরা যেনো তাদের দুষমন এ দ্বীন হিসেবে মহান আল্লাহ তাআলার নিকট সাব্যস্ত করে তাদের দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ না করি।

ইবাদত ও যিকির ফিকিরের বেলায় তাদের চেয়ে দ্বীন-কে যেন প্রাধান্য দিতে পারি। স্বামী/স্ত্রী সন্তান আজ আছে কাল থাকবেনা, বাস্তবতা হচ্ছে এরা না থাকলেও আমাদের ঈমান যাবেনা, কিন্তু দ্বীন না থাকলে আমাদের ঈমান চলে যাবে আর আমরা হয়ে যাব যাহান্নামের সেইসব লাকড়ী, যা রূহ কে পর্যন্ত পুড়িয়ে দিতে সক্ষম।

মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ ( وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَاۤ اَمۡوَالُکُمۡ وَ اَوۡلَادُکُمۡ فِتۡنَۃٌ ۙ وَّ اَنَّ اللّٰهَ عِنۡدَهٗۤ اَجۡرٌ عَظِیۡمٌ) জেনে রাখো! তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পরীক্ষার বিষয় মাত্র। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে রয়েছে এর চেয়েও মহান প্রতিদান। (সূরা আনফালঃ ২৮)। একজন মানুষের জন্য দ্বীন পালন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বিধান বাস্তবায়নে যে বিষয়গুলো বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তার মধ্যে অর্থলোভ এবং স্বামী/স্ত্রী সন্তানদের প্রতি মায়া-মমতা-ভালোবাসা অন্যতম। এ দুটোকে কেন্দ্র করেই মানুষ যত ধরনের অপরাধ করে বসে। তাই মহান আল্লাহ পাক বান্দাকে সতর্ক করে বলছেন, বান্দা! এসব বিষয় তো তোমার জন্য পরীক্ষার একেকটি বিষয় মাত্র। এ ধরনের প্রতিটি বিষয়ে তোমাকে কৃতিত্বের সঙ্গে সাফল্য লাভ করতে হবে। তবেই তুমি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে থাকা প্রতিদান ভাণ্ডার থেকে বেশুমার নিয়ামত লাভ করতে পারবে।

ইবনে কাসির রহিমাহুল্লাহ বলেন, সন্তান-সন্ততি আমাদের জন্য পরীক্ষার বিষয়। মহান আল্লাহ পাক মানুষকে সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করেন সে কি আমার শোকরিয়া আদায় করে নাকি সন্তান পেয়ে আমার নাফরমানি করে। সন্তানকে মহান আল্লাহ পাক উনার পথে পরিচালিত করতে পারলেই বান্দা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হিসেবে পরিগণিত হবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)। আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি রহিমাহুল্লাহ  বলেন, সন্তান ও অর্থ-সম্পদ মানুষকে আখিরাতের কর্ম থেকে বিরত রাখে। তাই মহান আল্লাহ পাক জানিয়ে দিচ্ছেন দুনিয়ার এ অর্থ-সম্পদ ও সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক কে ভুলে যেয়ো না। আখিরাতে অনন্তপথের যাত্রাকে অমঙ্গল কর না। (তাফসিরে জালালাইন)।

অর্থ-সম্পদ যদি দীন পালনে সহায়ক হয় তবে তা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নেয়ামত। কিন্তু তারা যদি মহান আল্লাহ পাক উনার পথে চলতে বাধা প্রদান করে তবে বুঝতে হবে তারা আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু। তাদের সম্পর্কেই মহান আল্লাহ পাক বলেছেনঃ ( یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّ مِنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ وَ اَوۡلَادِکُمۡ عَدُوًّا لَّکُمۡ فَاحۡذَرُوۡهُمۡ ۚ وَ اِنۡ تَعۡفُوۡا وَ تَصۡفَحُوۡا وَ تَغۡفِرُوۡا فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ) হে ঈমানদারগন! কখনো কখনো তোমাদের স্ত্রী এবং সন্তান তোমাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতএব, সাবধান থেক। তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনা করলে তোমরা যদি তাদের ক্ষমা করো তবে জেনে রেখ, মহান আল্লাহ পাক তিনিও অতীব ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা তাগাবুনঃ ১৪)।

অর্থ-সম্পদের লোভ এবং সন্তান-পরিজনের মায়া-ভালোবাসা যেন মানুষকে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ থেকে গাফেল করে না দেয় সে বিষয়ে সতর্ক করে মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ ( یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُلۡهِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ وَ لَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰهِ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ) হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের প্রতিপত্তি, ধন-সম্পত্তি ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ থেকে গাফেল না রাখে। যদি তোমরা গাফেল বা উদাসীন হও তবে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা মুনাফিকুনঃ ৯)।

অতএব আমরা যেনো নিজেদের ক্ষতি নিজেদের হাতে না করি, দ্বীনের উপর দুনিয়া, পরিবারকে প্রাধান্য না দেই। মহান আল্লাহ পাক আমাদের, স্বামী, স্ত্রী, সন্তান এবং অর্থের ফেত্না থেকে হেফাজতে রাখুন 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 ফেইসবুক: