প্রেক্ষাপট ও নিশ্চিত হওয়া তথ্যঃ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) ইরান-এ তেহরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যু বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে, বিশেষ করে “Reuters, Associated Press, The Guardian, The Washington Post এবং Axios” এ, যেখানে “ইরানি রাষ্ট্রীয়/সরকারি মিডিয়া নিশ্চিত করেছে” এই বক্তব্যটি একাধিক জায়গায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে।
এই একই রিপোর্টিং ধারায় বলা হয়েছে যে হামলাটি “কার্যত নেতৃত্ব-ধ্বংস (Decapitation)” ধরনের ছিল এবং একইসাথে কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা/সামরিক কর্মকর্তাও নিহত/লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, “এর মধ্যে অন্তত আলি শামখানি, মোহাম্মদ পাকপৌর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ-এর নাম বিভিন্ন সূত্রে এসেছে”। তবে “কারা নিশ্চিতভাবে নিহত” এই তালিকা দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং উৎসভেদে ভিন্ন; ফলে এখানে “রিপোর্টেড/সূত্রমতে” ভাষাই বজায় রাখা জরুরি মনে করছি।
আরেকটি আলোচিত কিন্তু সতর্কতার সাথে ধরার বিষয়ঃ কিছু প্রতিবেদনে খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মৃত্যুর কথাও বলা হয়েছে; এগুলো রাষ্ট্র/আধাসরকারি মিডিয়া-উদ্ধৃত রিপোর্ট হিসেবে এসেছে, এবং আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তাই সত্য।
তথ্য-ঝুঁকি মানচিত্রঃ কোন তথ্য “প্রমাণিত”, কোনটা “চলমান” এই মুহূর্তে (আজ ১ মার্চ ২০২৬) উত্তরসূরি প্রশ্নে তথ্যকে তিন স্তরে দেখা সবচেয়ে নিরাপদঃ
প্রথম স্তরঃ মৃত্যু ও সামগ্রিক ঘটনা, খামেনির মৃত্যু এবং যৌথ হামলা, এটি একাধিক বড় সংবাদমাধ্যমে “ইরানি রাষ্ট্র-মিডিয়া নিশ্চিত করেছে” ফ্রেমে এসেছে।
দ্বিতীয় স্তরঃ অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা (Interim arrangement): Islamic Republic News Agency/রাষ্ট্র-মিডিয়া উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাটি সক্রিয় হয়েছে এবং এতে মাসুদ পেজেশকিয়ান ও গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই আছেন, এটি একাধিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যমেও ধারাবাহিকভাবে রিপোর্ট হয়েছে।
তৃতীয় স্তরঃ কারা “উপযুক্ত উত্তরসূরি” এখানেই সবচেয়ে বেশি
গুজব/ম্যাক্সিমাম অনিশ্চয়তা। কারণ
ক) নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বভাবতই গোপনীয় বলা হয়,
খ) যুদ্ধাবস্থা/নিরাপত্তাজনিত কারণে সভা-সমাবেশ বাস্তবে
বিলম্বিত বা সীমাবদ্ধ হতে পারে,
গ) শীর্ষ স্তরের নেতাদের হতাহত/অদৃশ্য হওয়া, কাকে “জীবিত/কার্যক্ষম” বলা যাবে সেটাও প্রতিদিন বদলাতে পারে।
এই কারণে “উপযুক্ত কে” বলতে দুটো ভিন্ন প্রশ্নকে আলাদা করা দরকারঃ
১) সাংবিধানিকভাবে যোগ্যতা কারা পূরণ করেন (যুক্তিঃ
সংবিধানের মানদণ্ড)।
২) বাস্তবে ক্ষমতার ভারসাম্যে কারা টিকে থাকতে পারেন/সমর্থন পেতে পারেন (যুক্তিঃ Islamic Revolutionary Guard Corps, ক্লেরিক্যাল নেটওয়ার্ক, এবং ‘গেটকিপার’ সংস্থার ভূমিকা)।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী উত্তরসূরি প্রক্রিয়া কীভাবে চলে?
ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নেওয়ার মূল কাঠামোটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় ফুটে ওঠে, এবং এগুলোই “কে উপযুক্ত” প্রশ্নের আইনি ফিল্টারঃ
প্রথমত, সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন করে Assembly of Experts। সংবিধানের আর্টিকেল ১০৭ বলছে, জনগণের নির্বাচিত “Experts” (অর্থাৎ Assembly) যোগ্য ফকিহদের মধ্যে কাউকে বেছে নেবে।
দ্বিতীয়ত, যোগ্যতার মানদণ্ড (আর্টিকেল ১০৯): সংবিধান নেতা
হওয়ার জন্যঃ
ক) ফিকহে ফতোয়া দেওয়ার মতো জ্ঞান,
খ) ন্যায়পরায়ণতা ও তাকওয়া, এবং
গ) রাজনৈতিক-সামাজিক দূরদৃষ্টি, বিচক্ষণতা, সাহস, প্রশাসনিক সক্ষমতা ইত্যাদি, এসব গুণের কথা বলে। এই শর্তগুলো ব্যাখ্যা/প্রয়োগে অনেক “বিবেচনাধর্মী স্পেস” আছে, ফলে “উপযুক্ত” বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও সংজ্ঞায়িত হতে পারে।
তৃতীয়ত, অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব (আর্টিকেল ১১১): নতুন নেতা
নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত একটি তিন সদস্যের কাউন্সিল সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বগুলো
সাময়িকভাবে নেবেঃ
১) রাষ্ট্রপতি,
২) বিচার বিভাগের প্রধান, এবং
৩) Guardian Council-এর একজন ফকিহ/জুরিস্ট—যাকে Expediency Council নির্বাচন করবে। সংবিধান এটাও বলে, এই তিন জনের কেউ অক্ষম হলে Expediency Council বিকল্প বেছে নেবে।
এখনকার রিপোর্টিংয়ে অন্তর্বর্তী ভারপ্রাপ্ত কাঠামোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিচার বিভাগীয় প্রধান হিসেবে গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই, এই দুইটি নাম ধারাবাহিকভাবে এসেছে; তবে তৃতীয় সদস্য (Guardian Council-এর মনোনীত ফকিহ/জুরিস্ট) এ লেখার সময় পর্যন্ত বহু মূলধারার প্রতিবেদনে নামটি স্পষ্টভাবে স্থির/এক নামে সর্বসম্মতভাবে রিপোর্ট হয়নি।
বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র - কাগজে যা, মাঠে যাঃ “সর্বোচ্চ নেতা” পদটি কেবল ধর্মীয় মর্যাদা নয়; সংবিধান তাকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কসহ রাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ/নীতিতে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব দেয়। এই ক্ষমতার চরিত্রের কারণেই উত্তরসূরি প্রশ্নে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবে ‘কিংমেকার’ হয়ে ওঠে।
Islamic Revolutionary Guard Corps প্রসঙ্গে বহু বিশ্লেষণধর্মী সূত্রে উল্লেখ আছে যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং রাজনীতি-অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই বড়; ফলে “কারা নেতা হবেন” প্রশ্নে তাদের অবস্থান কার্যত নির্ণায়ক হতে পারে।
একইভাবে Guardian Council শুধু আইন যাচাইই করে না; নির্বাচন তদারক/প্রার্থী বাছাই (vetting) প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবিধান অনুযায়ী কাউন্সিলের অর্ধেক সদস্যকে (৬ জন ফকিহ) নেতা মনোনীত করেন; বাকি ৬ জন জুরিস্টকে বিচার বিভাগীয় প্রধান মনোনয়ন দেন এবং পার্লামেন্ট নির্বাচিত করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো “সেল্ফ-রিপ্রোডিউসিং” কাঠামোর মতো কাজ করতে পারে।
Assembly of Experts সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান নির্বাচক হলেও গবেষণা-ভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিকভাবে খুব কমই সর্বোচ্চ নেতাকে “চ্যালেঞ্জ” করেছে; সভা কম হয়; আর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
এই পটভূমিতে “উপযুক্ত কে” এটা শুধু ধর্মীয়/আইনি যোগ্যতার প্রশ্ন নয়; বরং ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সমঝোতা এবং যুদ্ধকালীন বাস্তবতার প্রশ্নও।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা? যা বলা যায়, এবং কেন বলা যায়ঃ
নিচে যে নামগুলো দেওয়া হলো, এগুলোকে “নিশ্চিত তালিকা” নয়; বরং মিডিয়া-রিপোর্টিং + বিশ্লেষক/থিঙ্কট্যাঙ্ক আলোচনা অনুযায়ী “শীর্ষে আলোচিত সম্ভাব্যতা” হিসেবে ধরতে হবে। যেহেতু চলমান হামলা/রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় কার জীবন/অবস্থান প্রতিদিন বদলাতে পারে, তাই প্রতিটি নামের পাশে “কেন সম্ভাব্য” এবং “কেন অনিশ্চিত” দুটি দিকই রাখা হলো।
মুজতবা খামেনিঃ অনেক বিশ্লেষণে মুজতবা খামেনি-কে “ধারাবাহিকতা/continuity”
ধাঁচের সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলা হয়, তার নিরাপত্তা কাঠামোর সাথে যোগাযোগ/প্রভাব, এবং
প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অদৃশ্য ক্ষমতার ধারণার কারণে। তবে বড় বাধা হিসেবে বারবার
এসেছেঃ
ক) পিতা-থেকে-পুত্র উত্তরাধিকার ধারণাটি ১৯৭৯ পরবর্তী
বিপ্লবী রাষ্ট্রচিন্তায় বিতর্কিত, খ) ধর্মীয় হায়ারার্কিতে তাকে ‘শীর্ষ স্তরের
গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে দেখার প্রশ্নে মতবিভেদ,
গ) জনমত/বিরোধী প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি।
অতিরিক্ত অনিশ্চয়তাঃ কিছু প্রতিবেদনে ইসরায়েলি পক্ষ তার/পরিবারের অন্য সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বললেও, সে বা অন্যান্য পুত্ররা নিশ্চিতভাবে নিহত এমন সর্বসম্মত নিশ্চিত রিপোর্ট এই মুহূর্তে নেই (কিছু সূত্রে “বেঁচে আছে” মূল্যায়নও এসেছে)।
হাসান খোমেনিঃ হাসান খোমেনি-এর ক্ষেত্রে মূল যুক্তি হলো বিপ্লবী বংশগত ‘লিগেসি’ সে রুহুল্লাহ খোমেনি-র নাতি হওয়ায় প্রতীকী বৈধতা (legitimacy) আনতে পারে।
তবে সন্দেহ/ঝুঁকিঃ তাকে “তুলনামূলক কম হার্ডলাইন/কম্প্রোমাইজ” হিসেবে দেখা হলে নিরাপত্তা কাঠামোর পূর্ণ আস্থা পাবে কি না সে প্রশ্ন থাকে; অতীতে তাকে প্রতিষ্ঠানগত রাজনীতিতে বাধা দেওয়ার উদাহরণও আলোচনায় আসে।
আলিরেজা আরাফিঃ আলিরেজা আরাফি-কে ঘিরে যুক্তি - সে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা/হাওজা নেটওয়ার্কে প্রভাব, এবং শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংযোগের কারণে “ব্যবস্থা-স্বীকৃত” পছন্দ হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু রিপোর্টে তাকে Assembly of Experts-এর নেতৃত্ব কাঠামোর কাছাকাছি অবস্থানে দেখানো হয়েছে।
দুর্বলতাঃ সে “জনপরিচিত রাজনৈতিক ভারকেন্দ্র” নয়, এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নেতা হিসেবে “কমান্ড-ওভার-সিকিউরিটি” বাস্তবে কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এ নিয়ে প্রশ্ন আছে।
হাসেম হোসেইনি বুশেহরিঃ হাসেম হোসেইনি বুশেহরি-কে Assembly of Experts-এর মতো উত্তরসূরি-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের ভেতরের “ইনস্টিটিউশনাল সিনিয়র” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, ফলে সে একটি “কম সংঘাতপূর্ণ” (managed) পছন্দ হতে পারে।
ঝুঁকিঃ তার Islamic Revolutionary Guard Corps-এর সাথে দৃশ্যমান ঘনিষ্ঠতার ঘাটতি যদি সত্য হয়, তাহলে ক্ষমতার “হার্ড সিকিউরিটি” স্তরের সমর্থন কতটা পাবে তার অনিশ্চয়তা থাকে।
মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরিঃ কিছু তালিকায় মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি-কে হার্ডলাইন ধর্মীয় ধারার প্রতিনিধি হিসেবে সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলা হয়েছে, বিশেষ করে যদি রাষ্ট্র কাঠামো যুদ্ধ/বিদেশি চাপের মুখে “আরও কট্টর নিরাপত্তা-রাষ্ট্র” দিকে যায়।
ঝুঁকিঃ অতিরিক্ত কট্টর ভাবমূর্তি সমাজে নতুন প্রতিরোধ উসকে দিতে পারে; আর আন্তর্জাতিক চাপ/বিচ্ছিন্নতা তীব্রতর হতে পারে যা যুদ্ধকালীন-পরবর্তী পুনর্গঠনে বাধা।
“কিংমেকার” যারা হয়তো নেতা নন, এই পর্যায়ে কিছু নাম “নেতা” হিসেবে নয়, বরং ট্রানজিশন ম্যানেজার/কিংমেকার হিসেবে বেশি বাস্তবসম্মতঃ
আলি লারিজানি-কে (বেঁচে থাকা এক শীর্ষ বেসামরিক নেতা হিসেবে) উল্লেখ করেছে Axios; এবং একাধিক প্রতিবেদনে তাকে সংকট-ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ নীতি-কেন্দ্রের কাছে দেখা হচ্ছে। তবে সে ধর্মীয় ফকিহ ভিত্তিক সাংবিধানিক “লিডার” পদে সরাসরি উপযুক্ত নাও হতে পারে, তবুও ট্রানজিশন আর্কিটেকচারে প্রভাবশালী হতে পারে।
গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই—সংবিধানের অন্তর্বর্তী কাউন্সিলে তার কেন্দ্রীয় উপস্থিতির কারণে “ক্ষমতার মেরুদণ্ডে” থাকবে; কিন্তু একাধিক বিশ্লেষণেই ইঙ্গিত আছে যে সে “সোলো সর্বোচ্চ নেতা”র চেয়ে “কাউন্সিল/সমঝোতায়” বেশি মানানসই ভূমিকা নিতে পারে।
সম্ভাব্য দৃশ্যপট, সামনে কী কী রাস্তা খোলাঃ
সংক্ষিপ্তভাবে, বর্তমান তথ্যভিত্তিতে চারটি পথকে “সবচেয়ে সম্ভাব্য” হিসেবে দেখা যায়, এগুলো পরস্পরকে বাদ দেয় না; এক পথ থেকে আরেক পথে দ্রুত সরে যাওয়াও সম্ভব।
প্রথম পথঃ ম্যানেজড সাকসেশন (দ্রুত সাংবিধানিক রূপ): Assembly of Experts দ্রুত বসে একটি নাম “রেটিফাই” করে দেয় এবং এটিকে শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই ধরনের ধারণা আগেও রিপোর্ট হয়েছে যে উত্তরসূরি পরিকল্পনা গোপনে চলছিল।
দ্বিতীয় পথঃ সমঝোতাভিত্তিক ‘মাঝারি মুখ’ (Moderate-facing) নেতা, আন্তর্জাতিক চাপ কমানো ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ সামলাতে তুলনামূলক “কম্প্রোমাইজ” টাইপ কাউকে আনা হতে পারে, এখানে হাসান খোমেনি জাতীয় প্রতীকী বিকল্প আলোচনায় এসেছিল।
তৃতীয় পথঃ একটি দুর্বল নেতা + শক্তিশালী নিরাপত্তা-রাষ্ট্র, একজন তুলনামূলক কম পরিচিত/কম স্বাধীন ক্ষমতাসম্পন্ন ধর্মীয় নেতাকে সামনে রেখে বাস্তবে Islamic Revolutionary Guard Corps এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো শাসনকেন্দ্র দখলে রাখতে পারে এ ধরনের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের ভাষ্যে দেখা যায়।
চতুর্থ পথঃ সমষ্টিগত/কাউন্সিল-ধাঁচের কর্তৃত্ব বিস্তার, কিছু
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি-নির্ভর কাঠামোর বদলে “ডাইলিউটেড” বা বেশি
সমষ্টিগত ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা হতে পারে, বিশেষ করে যদি শীর্ষ স্তরের ধ্বংসযজ্ঞে
একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে যায়।

0 ফেইসবুক: