মুফতি ছাড়া নাকি কেউ ফতওয়া দিতে পারবেনা? মুফতি হতে নাকি কথিত মাদ্রাসার সার্টিফিকেট লাগবে, ইজাজাহ লাগবে? এই দাবী কি ভ্যালিড?
আল কুরআনে কিংবা হাদিছ শরীফে “মুফতী” শব্দ বা পদ ব্যবহার করার হুকুম আছে কি?
উত্তরঃ না। কুরআনে “মুফতী” শব্দ নেই। তবে আছে ইস্তিফতা (হুকুম জিজ্ঞাসা করা) প্রসঙ্গ। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ (یَسۡتَفۡتُوۡنَكَ ؕ قُلِ اللّٰهُ یُفۡتِیۡكُمۡ فِی الۡكَلٰلَۃِ) তারা আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায়; আপনি বলুন মহান আল্লাহ তায়ালাই তোমাদেরকে কালালাহ বিষয়ে ফতোয়া দেন। (ছুরাহ আন-নিছা ৪:১৭৬)
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ফতোয়া দিচ্ছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম কেবল পৌঁছে দিচ্ছেন। এখানে কোথাও বলা হয়নি “মুফতী নামে একটি পদ থাকবে”।
রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম কি কাউকে “মুফতী” বানিয়েছিলেন?
না, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামঃ
→ কাউকে ক্বারী হিসেবে পাঠিয়েছেন
→ কাউকে মু‘আল্লিম বানিয়েছেন
→ কাউকে ক্বাযী হিসেবে পাঠিয়েছেন
→ কাউকে আমীর/নাযির বানিয়েছেন
কিন্তু কোথাও বলেননিঃ “আমি তোমাকে মুফতী বানালাম” - এমন কোনো ছ্বহীহ হাদীছ শরীফ আমার জানা নেই। (কারো জানা থাকলে পেশ করুক)
বরং তিনি সতর্ক করেছেন এই বলে যে, “যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেয়, তার গুনাহ তার উপর”। তিনি য়ালাইহিছ ছ্বলাতু ওয়াছ ছালাম বলেনঃ (عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَىٰ آلِهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ النَّاسِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، حَتَّىٰ إِذَا لَمْ يَتْرُكْ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আ‘স রদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, আমি রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের অন্তর থেকে হঠাৎ করে টেনে নিয়ে জ্ঞান উঠিয়ে নেন না; বরং য়া’লিমদেরকে তুলে নেওয়ার মাধ্যমেই জ্ঞান উঠিয়ে নেন। অতঃপর যখন তিনি আর কোনো য়া’লিম অবশিষ্ট রাখেন না, তখন মানুষ অজ্ঞ লোকদেরকেই নেতা বানিয়ে নেয়। এরপর তাদেরকে প্রশ্ন করা হলে তারা জ্ঞান ছাড়া ফতোয়া দেয়; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয় এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করে। (ছ্বহীহ বুখারী, কিতাবুল য়ী’লম, হাদীস নং ১০০ ছ্বহীহ মুছলিম, কিতাবুল য়ী’লম, হাদীছ নং ২৬৭৩ ছুনানে আবু দাউদ, হাদীছ নং ৩৬৫৭ ছুনানে তিরমিযী, হাদীছ নং ২৬৫২। “এই হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহ” অর্থাৎ বুখারী ও মুছলিম উভয়েই বর্ণনা করেছেন)
অর্থাৎ ফতোয়া দেওয়া একটি দায়িত্ব, কোনো ফখরের উপাধি নয়, এর জন্য য়ী’লম অর্জন ফরজ সার্টিফিকেট নয়। আজকাল মুফতির সার্টিফিকেট তো লাখ টাকা খরচ করলেই পাওয়া যায়, কিন্তু কোটি টাকা দিলেও তো য়া’লীম হওয়া সম্ভব না।
তাছাড়া, বর্তমানে মুছলমান দলে উপদলে বিভক্ত, প্রত্যেক গ্রুপের নিজস্ব মুফতি অন্য দলের উপর তাদের বিরুদ্ধে ফতওয়া দিচ্ছে, কোন এক বিষয়ে একদল ফরজ বলছে, একদল ছুন্নত বলছে, একদিল বিদআত বলছে, একদল যায়েজ বলছে, মানে মুফতিরাই মুফতিদের ফতওয়া মানেনা উলটো এক মুফতি অন্য মুফতিকে বাতিল বলে ফতওয়া দিয়ে থাকে, এখন তাহলে মুফতির কি কোন বেইল আর রইলো?
তাহলে ফতোয়া দেওয়ার বৈধতা কার জন্যে?
এখানে কুরআনের মূল উছুল হচ্ছেনঃ (فَسۡـَٔلُوٓا۟ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ) (দ্বীনের কোন বিষয়ে) যদি তোমরা না জানো, তবে (যারা) আহলে জিকর তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো। (ছুরাহ আন-নাহল ১৬:৪৩, আল-আম্বিয়া ২১:৭)
এখানে বলা হয়েছে “আহলে জিকর” বলা হয়নি “মুফতী” উপাধিধারীর কাছে যাও। অর্থাৎ- প্রথমতো যার ক্বলবে জিকরে ইলাহী রয়েছে, যে কিতাব এর জাহির/বাতিন বোঝে, যে নাস বোঝে, যে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকে রায় দিবে নিজের নফছের রায় না দিয়ে।
কিন্তু তাজ্জুব বিষয় হলো, আহলে জিকরের অনুবাদ বাংলা ইংরেজীতে যা করে থাকে অনুবাদকেরা তা হলো “কিতাবুল্লাহ এর জ্ঞান যারা রাখে/জ্ঞানীরা” অথচ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বা মহান আল্লাহ তায়ালা এরূপ বলেন নাই।
প্রশ্ন হচ্ছেঃ রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের চেয়ে কি আল কুরআনের শব্দের মানে আমরা বেশী জানি নাকি বুঝি?
আসুন কুরআন ও রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম দিয়েই কুরআন বুঝি, যা সর্বচ্চো নির্ভরযোগ্য। মহান আল্লাহ তায়ালা ছুরাহ নাহল-এর ৪৩ নম্বর আয়াতে বলেনঃ (فَسۡـَٔلُوٓا۟ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ) (দ্বীনের কোন বিষয়ে) যদি তোমরা না জানো, তবে (যারা) আহলে জিকর তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলোঃ মহান আল্লাহ তায়ালা আহলে জিকর শব্দটি ব্যবহার করেছেন; তিনি বলেননি ফাছআলুল-উলামা, ফাছআলুল-ফুকাহা বা ফাছআলুল-মুফতূন। অর্থাৎ, প্রশ্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন এক শ্রেণির দিকে, যাদের পরিচয় কোনো ডিগ্রি বা টাইটেল দ্বারা নয়, বরং “জিকর”-এর সাথে বাস্তব সংযুক্তি দ্বারা নির্ধারিত।
এই আয়াত শরীফের ঠিক পরের আয়াতে, অর্থাৎ ছুরাহ নাহল ১৬:৪৪, বিষয়টিকে একেবারে ফয়সালার জায়গায় নিয়ে যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَٱلزُّبُرِۗ وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلذِّكۡرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيۡهِمۡ وَلَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ) অর্থাৎ, স্পষ্ট নিদর্শন ও (পূর্ববর্তী রাসূলদের উপর নাজিলকৃত) কিতাবসমূহসহ, এবং আপনার উপর আমি নাযিল করেছি জিকির (আল কুরআন) যাতে আপনি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে তা বয়ান করেন, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।
এই আয়াত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে, এই উম্মাহর জন্যে “জিকর” প্রথমে কার কাছে নাযিল হয়েছে এবং কে সেটার ব্যাখ্যাকারী। জিকর নাযিল হয়েছে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামের উপর, এবং সেই জিকর ব্যাখ্যা করার দায়িত্বও উনাকেই দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কুরআনের ধারাবাহিকতায় (সিয়াক-সিবাক অনুযায়ী) “আহলে জিকর” বলতে সর্বপ্রথম ও মৌলিকভাবে বোঝায়, “যিনি জিকরের বাহক ও বয়ানকারী, অর্থাৎ নবীজি নিজেই। উনার বাইরে যারা আসবেন, তারা আহলে জিকর হবেন উনার বয়ানের অনুসরণ ও সংযুক্তির মাত্রা অনুযায়ী, নিজেদের স্বতন্ত্র কর্তৃত্ব হিসেবে নয়।
এই কুরআনিক অর্থকে রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম নিজেই হাদীসে ব্যবহারিকভাবে স্পষ্ট করেছেন। ছ্বহীহ হাদীসে এসেছেঃ (إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ، يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ، فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ، تَنَادَوْا: هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ) নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা’য়ালার কিছু ফেরেশতা রয়েছেন, যারা দুনিয়ার (জমিনে) পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়ান এবং মহান “আহলে জিকরদের” সন্ধান করেন। যখন তারা এমন কোনো মাহফিল পেয়ে যান, যেখানে মহান আল্লাহ তা’য়ালার জিকির করা হচ্ছে। (বুখারি শরীফ ৬৪০৮, মুছলিম শরীফ ২৬৮৯) হাদিছে বিস্তারিত বৈশিষ্ট রয়েছে, অনেক বড় হাদিছ এইখানে প্রয়োজনীয় অংশ দেওয়া হয়েছে কেবল।
এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলোঃ নবীজি ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম “আহলে জিকর” শব্দটি নিজেই ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। তিনি বলেননিঃ “যারা কিতাবের জ্ঞান রাখে” বা “যারা আলিম”; বরং সঙ্গে সঙ্গে বলেছেন (قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ) একটি দল যারা বাস্তবে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার জিকরে লিপ্ত রয়েছে। অর্থাৎ, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার ভাষায় “আহলে জিকর” মানে হলোঃ “যারা জিকর, তাছবিহ-হামদ, ও দোয়ার মাহফিলে নিমজ্জিত, যাদের ক্বলবে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার জিকির, ওহী ও তার জীবন্ত সংযোগ আছে।
এখন এই কুরআন ও হাদীসের আলোকে স্পষ্ট হয় যে, “আহলে জিকর”-কে বাংলায় “কিতাবুল্লাহর জ্ঞানীরা” বা “আলিমগণ” বলে অনুবাদ করা শব্দগত অনুবাদ নয়, বরং একটি তাফসিরি পার্সোনাল সিদ্ধান্ত, যেটাকে অনুবাদের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুবাদে যেখানে মহান আল্লাহ তায়ালা ও রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম যে শব্দ ব্যবহার করেছেন সেটাই রাখা উচিত ছিল, সেখানে ব্যাখ্যাকে মূল অর্থ বানানো হয়েছে। অথচ নবীজি নিজেই যখন “আহলে জিকর” শব্দের ব্যবহারিক মানে দেখিয়ে দিয়েছেন, তখন এর বাইরে গিয়ে নতুন সংজ্ঞা দাঁড় করানো নাসের উপর নিজের বোজ-জ্ঞানকে প্রাধান্য দেওয়ারই শামিল।
সবশেষে ছুরাহ নাহল ১৬:৪৪-এর শেষ অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণঃ (وَلَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ) যাতে তারা চিন্তা করে। অর্থাৎ, আল কুরআনের উদ্দেশ্য মানুষকে শুধু তথ্য দেওয়া নয়; বরং ওহী, নবীজির বয়ান এবং বাস্তব জিকরের আলোকে চিন্তা ও অনুধ্যানের দিকে নিয়ে যাওয়া। এই তাফাক্কুর তখনই সঠিক হবে, যখন শব্দের মানে নবীজির নির্ধারিত সীমার ভেতর থাকবে, তার বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে রূপান্তর করা হবে না। আর তাফাক্কুরের জন্যে লাগবে এমন ক্বলব যেটায় নূর বিদ্যমান, আর নূর তো ইছমে জাত আল্লাহ উনার নামের বাহীরে হাছিল করা অসম্ভব, তাই উনি আহলে জিকর হিসেবে জিকরের মাহফিলে মত্ত থাকা লোকদের দিকেই নিছবত করেন। কেননা জবাব দিতে হলে আবে নিজে বোঝা ফরজ, আর বুঝতে হলে ক্বলব হতে হবে নূরানী, আর নূরানী ক্বলব কেবল জিকিরকারী ক্বলব ওয়ালাদের নিকট থাকে।
সুতরাং নাস-ভিত্তিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলোঃ “আহলে জিকর”কে “কিতাবুল্লাহর জ্ঞানীরা/আলিমগণ” বলে অনুবাদ করা কুরআন ও ছ্বহীহ হাদীসের আলোকে অনুবাদগতভাবে সঠিক নয়; এটি একটি তাফসিরি নিজস্ব ব্যাখ্যা মাত্র। কুরআনের শব্দ কুরআনেরই থাকবে, আর তার মানে নির্ধারণে নবীজির বয়ানই চূড়ান্ত মাপকাঠি, এর বাইরে যাওয়ার কোনো বৈধতা নেই।
অতএব ফতোয়া কেবল মুফতি দিতে পারে এইসব দাবীর কোন কুরআন-হাদিছের ভিত্তি নাই, বরং এরূপ দাবী আদতে বিদআত বলেই গন্য হবে।
ছালাফে ছ্বলিহীনের যুগে কী ছিল?
ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমঃ-
→ কেউ নিজেকে “মুফতী” বলে পরিচয় দিতেন
না।
→ বরং ফতোয়া দিতে ভয় পেতেন।
→ একে অন্যের দিকে প্রশ্ন ঠেলে দিতেন।
ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, যায়েদ ইবনে সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমারা ফতোয়া দিতেন, কিন্তু উপাধি হিসেবে নয়; দায়িত্ব হিসেবে।
তাহলে আজ “মুফতী” উপাধির হুকুম কী?
এখানে আক্বিদাহ-সম্মত ও নাস-ভিত্তিক সিদ্ধান্তঃ-
→ “মুফতী” কুরআনি বা নববী কোনো শরঈ
পদ নয়
→ এটি পরবর্তীকালে মাদরাসা-নির্ভর টেকনিক্যাল
টার্ম
→ ফখর করে, অহংকার করে, নিজের নামের আগে জুড়ে নেওয়া আহলুছ ছুন্নাহ এর তো নয়ই এমনকি কথিত ছালাফি মেথডও নয়।
মুদ্দাকথা, য়ী’লম থাকলে মানুষ জিজ্ঞাসা করবে, নিজে ঘোষণা দেওয়া শরঈ আদবের বিপরীত।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (উপরোক্ত কুরআন হাদিছ ও মানতেক অনুযায়ী)
আল কুরআন ও রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম-এর নাস অনুযায়ীঃ-
→ ফতোয়া মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকে
→ মানুষ কেবল বয়ানকারী।
→ “মুফতী” নামে ফখরের কোনো পদবীর বৈধ শরঈ ভিত্তি নেই।
→ ইলম থাকলে দায়িত্ব আছে, দাবি নয়।

0 ফেইসবুক: