অনলাইনে কিছু মরদুদ শয়তান আছে যারা নিজেদের ছ্বলাফি দাবী করে, বিপরীতে আহলে ছুন্নতের যারা প্রকৃত অনুসারী অর্থাৎ ছুন্নী, তাদের মাজারপূজারী, কবর পূজারী বলে তাকফির করে। যখন তাদের বলা হয় দলিল কি? তখন বলে ছ্বলাফদের কেউ মাজার যান নাই, উনারা কেউ কবর পূজারী না, অর্থাৎ তাদের ভাষ্যমতে কেউ বুজুর্গ অলী আউলিয়ার মাজার শরীফে জিয়ারতে গেলেই সেটা পূজা, যে যায় সে পূজারী, নাউযুবিল্লাহ।
তাদের যাদের ছ্বলাফ মনে করে, আর উনাদের অনুসরণ করে নিজেদের বাজার ঠিক রাখে, আদতে কি তাদের আক্বিদাহ-আমলের সাথে তাদের কোন মিল আছে? মোটেও নাই, এই মুনাফিকেরা ছ্বলাফদের উপর ও তাদের নাপাক তাকফির পতিত করে আম পাবলিকের উপর তাকফির করে।
হাদিছ শরীফে এসেছেনঃ (حَدَّثَنَا الحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ التُّسْتَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ غَزْوَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَضَلَّ أَحَدُكُمْ شَيْئًا أَوِ احْتَاجَ إِلَى غَوْثٍ وَهُوَ بِأَرْضٍ لَيْسَ فِيهَا أَنِيسٌ فَلْيَقُلْ: يَا عِبَادَ اللَّهِ أَغِيثُونِي، فَإِنَّ لِلَّهِ عِبَادًا لَا نَرَاهُمْ) হুছাইন ইবন ইছহাক আত-তুস্তরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন ইয়াহইয়া আছ-ছূফি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবন ছাহল। তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন য়ী’ছা থেকে, তিনি জায়েদ ইবন য়া’লী থেকে, তিনি উতবা ইবন গাযওয়ান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো যদি কোনো জিনিস হারিয়ে যায়, অথবা সে এমন কোনো জায়গায় সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করে যেখানে কোনো মানুষ নেই, তবে সে বলবেঃ “হে আল্লাহ তা’য়ালার বান্দারা, আমাকে সাহায্য করুন”। কারণ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তা’য়ালার এমন অনেক বান্দা আছেন, যাদের আমরা দেখতে পাই না। (কিতাবঃ আল-মু’জামুল কাবীর লিত-ত্ববারানী। খণ্ডঃ ১৭ হাদীছ নম্বরঃ ১১৭, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/১৩২)
হাদিছে আরো এসেছেঃ (حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَائِلَةَ الأَصْبَهَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَرَ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا مَعْرُوفُ بْنُ حَسَّانَ السَّمَرْقَنْدِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ: إِذَا انْفَلَتَتْ دَابَّةُ أَحَدِكُمْ بِأَرْضٍ فَلْيُنَادِ: يَا عِبَادَ اللَّهِ احْبِسُوا، فَإِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ يُحْبِسُونَهَا) ইবরাহীম ইবন নাইলা আল-আছফাহানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাছান ইবন উমর ইবন শাক্বীক। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মা‘রূফ ইবন হাছছান আস-সমরকন্দী। তিনি ছাঈদ ইবন আবী আরূবা থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মাছ’উদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কারো বাহন যদি কোনো জায়গায় (হঠাৎ) ছুটে পালিয়ে যায়, তবে সে ডেকে বলবে ‘হে আল্লাহ তা’য়ালার বান্দারা, একে থামাও।’ কারণ নিশ্চয়ই পৃথিবীতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার এমন ফেরেশতা আছেন, যারা সেটিকে থামিয়ে দেন”। (কিতাবঃ আল-মু‘জামুল কাবীর লিত-ত্ববারানী, খণ্ড ১০ হাদীছ নম্বর ১০৫১৮)
উক্ত হাদিছের বিষয়ে কিছু মুহাদ্দিছের মন্তব্য হচ্ছে ইহা দ্বয়ীফ। কিন্তু আমি দেখলাম উক্ত হাদিছের উপর য়া’মল করেছেন চতুর্থ মাজহাবের ইমাম, সকল ছুন্নী, ওহাবী, ছালাফি, দেওবন্দী, ফেরকার নিকট যিনি ১০০% গ্রহণযোগ্য সেই ইমাম, হযরত আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহী য়ালাইহি।
উনার য়ামলের দলিল হিসেবে যে বিশুদ্ধ রেওয়ায়েত পাওয়া যায় তা হলোঃ (قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ: سَمِعْتُ أَبِي أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ: حَجَجْتُ خَمْسَ حِجَجٍ، فَفِي إِحْدَاهُنَّ ضَلَلْتُ الطَّرِيقَ، فَجَعَلْتُ أَقُولُ: يَا عِبَادَ اللَّهِ أَرُونِي الطَّرِيقَ، فَمَا زِلْتُ أَقُولُ ذَلِكَ حَتَّى وَجَدْتُ الطَّرِيقَ) ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল রহমতুল্লাহ-এর পুত্র আব্দুল্লাহ বলেনঃ “আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি; আমি পাঁচবার হজ্জ আদায় করেছি। সেই হজ্জগুলোর (একটিতে) একবার আমি পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। তখন আমি বলতে থাকি ‘হে আল্লাহ তা’য়ালার বান্দারা, আমাকে পথ দেখান।’ আমি এভাবে বলতে থাকি, শেষ পর্যন্ত আমি সঠিক পথটি পেয়ে যাই। (কিতাবঃ মাছায়িলুল ইমাম আহমদ, সংকলকঃ আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল, অধ্যায়ঃ হজ্জ সংক্রান্ত বর্ণনা, ইমাম আহমদের হজ্জের ঘটনা বিষয়ক আছার, পৃষ্ঠা ২১৭ বা ২৪৫ বিভিন্ন সংস্করণে, এছাড়াও শু‘বুল ঈমান লিল-বায়হাকী, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৪১, তারীখ দিমাশক লি ইবন আসাকির খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৯৮, আল-আদাবুশ শার‘ইয়্যাহ লি ইবন মুফলিহ খণ্ড ১, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়)।
ইছলাম ওয়েব-এর ফতোয়াঃ
ফতোয়া শিরোনামঃ ইমাম
আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহ উনার দোয়া শিরক নয় মর্মে ছালাফিদের ফাতওয়া, নম্বরঃ ৩৮৪৯৪৬
ইমাম ইবনু হিব্বান আল-বুস্তী রহিমাহুল্লাহ বিছাল শরিফঃ ৩৫৪ হিজরী, তিনি উনার কিতাবুছ্-ছিকাত “كتاب الثقات” গ্রন্থে, যেটা হাদিছের রাবিদের জীবনীগ্রন্থ বিষয়ে লিখিত, যেখানে কেবল বিশ্বস্ত (ثقة) রাবিদের নাম উল্লেখ আছে। হাদিছের সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য, তাদের নাম, শায়েখ, ছাত্র, এবং সংক্ষিপ্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করেন।
উক্ত কিতাবে ইমাম নিজের একটি ঘটনা বর্ননা করেন, যেখানে তিনি বলেনঃ (قد زرته مرارًا كثيرة وما حلت بي شدة في وقت مقامي بطوس زرت قبر علي بن موسى الرضا صلوات الله على جده وعليه، ودعوت الله إزالتها عني إلا استجيب لي وزالت عني تلك الشدة، وهذا شيء جربته مرارًا فوجدته كذلك، أمانتنا محبة المصطفى وأهل بيته صلى الله عليه وعليهم أجمعين) উক্ত আরবি ইবারতের খোলাছা হলোঃ আমি বহুবার ইমাম আলী ইবন মূসা আল-রিদ্বা য়া’লাইহিছ ছালামের মাজার জিয়ারত করেছি। আর তুস শহরে অবস্থানকালে যখনই কোনো বিপদ আমার উপর এসেছে, আমি মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে সেই বিপদ দূর করার জন্য তাঁর মাজারে গিয়ে, নবী করীম রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া আ’লা আলিহি ওয়া ছাল্লাম এবং ইমাম আলী ইবন মূসা আল-রিযা (আলাইহিস সালাম)-এর উপর দরূদ পাঠ করে, মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে দোয়া করেছি। তখনই আমার দোয়া কবুল হয়েছে এবং সেই কষ্ট দূর হয়ে গেছে। এটি এমন একটি বিষয় যার অভিজ্ঞতা বহুবার আমি নিজে লাভ করেছি এবং প্রতিবারই আমি সাহায্য পেয়েছি। আমাদের নিকট সবচেয়ে বড় আমানত হলোঃ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়া’লাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম এবং উনার আহলে বাইতের প্রতি মুহব্বত। (কিতাবুছ্-ছিকাতঃ পঞ্চম জিলদ, পৃষ্টা ৩২৫-২৬)
এই হলো ছ্বলাফদের আক্বিদাহ, মাজার শরিফ/কবর শরীফের ব্যপারে, এখন কেউ যদি এগুলোকে পূজা বলে আবার নিজের পরিচয় দিতে গেলে উনাদের নাম ব্যবহার করে তাহলে তারা মুনাফিক ব্যতীত আর কিছুই নয়।
আরেকটি ঘটনাঃ ইমাম ইবনু হাজার আল-আসকালানী রহিমাহুল্লাহ, বিছাল শরীফ ৮৫২ হিজরী। তিনি উনার রচিত বিখ্যাত রিজাল গ্রন্থ “تهذيب التهذيب” তাহযীবুত তাহযীব এর পঞ্চম খন্ডের ২৪০ পৃষ্টায়, ইমাম ইবনে খুজাইমাহ রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। ইমাম ইবনে খুজাইমাহ রহিমাহুল্লাহ, যিনি ইমামুল আয়্যিম্মাহ, ঐ ইমামুল আহলুল হাদিছ, যিনি ইমাম আলী ইবন মূসা আল-রিদ্বা য়া’লাইহিছ ছালামের মাজার শরীফে তাবারুক লাভ করতে যেতেন। ইমাম ইবনু হাজার আল-আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ (قال: وسمعت أبا بكر محمد بن الحسن بن عيسى يقول: خرجنا مع إمام أهل الحديث أبي بكر بن خزيمة، وعديله أبي علي الثقفي، مع جماعة من مشايخنا وهم إذ ذاك مَمَّمُوا إلى زيارة قبر علي بن موسى الرضا بطوس، قال: فرأيت من تعظيمه – يعني ابن خزيمة – لتلك البقعة، وتواضعه لها، وتضرعه عندها ما تحيّرنا.) আমি আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আল-হাসান ইবন ঈসা-রহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি আমরা ইমামুল মুহাদ্দিসীন আবু বকর ইবন খুযাইমাহ রহিমাহুল্লাহ এবং উনার সঙ্গী আবু আলী আস-সাকাফি রহিমাহুল্লাহ’র সাথে, আমাদের শায়খদের একটি জামাত নিয়ে বের হয়েছিলাম, যখন উনারা সবাই ইমাম আলী ইবন মূসা আল-রিদ্বা য়া’লাইহিছ ছালামের মাজার শরীফের জিয়ারতের উদ্দেশ্যে তুসের দিকে যাচ্ছিলেন। ইমাম বলেনঃ আমি ইবন খুযাইমাহ রহিমাহুল্লাহ’র পক্ষ থেকে সেই পবিত্র স্থানের প্রতি যে গভীর সম্মান, উনার মাজারের তাযীম, এবং সেখানে বিনীতভাবে দোয়া করার এমন অবস্থা দেখেছি - যা দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম (অর্থাৎ এতো বড় একজন ইমামুম আহলে হাদিছ ক্ববরে আহলে বাইতের দিকে রুজু হয়েছেন)। (তাহযীবুত তাহযীবঃ পঞ্চম খন্ড, ২৪০ পৃষ্টা)
এরা দাবী করে ছ্বলাফি, আহলে হাদিছ, কিন্তু বাস্তবে এরা আহলে ইবলিশ, কেননা যদি তারা আদতেই ছ্বলাফ, ও আহলুল হাদিছের মুহাদ্দিছদের অনুসারী হতো তাহলে তারা নিশ্চয়ই তাদের ইতিহাস, আক্বিদাহ, আমল সম্পর্কে অবগত হতো।
ব্রেইন ওয়াশ করা খারেজিরা দলিলাদিল্লায় সন্তুষ্ট হয়না তাদের নাকি কিতাবি শায়েখ লাগে, নেও একেবারে আরবি ভাষী, কিতাবি, ডিগ্রি, সার্টিফিকেট ওয়ালা শায়েখ এর জবানি দিলাম।
Tawassul & Istighathah - Is seeking aid from other than Allah Shirk?
- By Hamzah Al-Bakri
ড. হামযাহ আল-বাকরী (Dr. Hamzah Al-Bakri)
১৯৮২ সালে জর্ডানে জন্মগ্রহণকারী ড. হামযাহ মুহাম্মদ ওয়াসিম বাকরী ২০০৪ সালে আল-বালকা অ্যাপ্লাইড ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানের সাথে ধর্মতত্ত্ব ও শরীয়াহর “Methodology of Religion” বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (MA) এবং পিএইচডি (PhD) সম্পন্ন করেন।
ড. বাকরী হাদীস ও ইসলামি জ্ঞানচর্চায় বহু উপকারী প্রবন্ধ ও গবেষণা রচনা করেছেন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
এর পাশাপাশি তিনি ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠানে যেমন - সুলতান আহমেদ ভাক্ফ, EDEP, ISM, এবং ISAM-এ কালাম, আকীদাহ, ফিকহ, উসূল-উল-ফিকহ ও হাদীস বিষয়ে পাঠদান করেছেন এবং এখনো শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অফিসিয়াল লিংক [https://iss.ihu.edu.tr/tr/summer-school-instructors]

0 ফেইসবুক: