Showing posts with label দেশবিরোধি চক্রান্ত. Show all posts
Showing posts with label দেশবিরোধি চক্রান্ত. Show all posts

Wednesday, August 21, 2024

শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়ানক ইসলাম বিদ্বেষী সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা এস মুরশিদ, পদত্যাগ জরুরি

শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়ানক ইসলাম বিদ্বেষী সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা এস মুরশিদ, পদত্যাগ জরুরি

সম্প্রতি ভারতের কলকাতার আর জি কর হাঁসপাতালের চিকিৎসক মৌমিতাকে ধর্ষণ করে হত্যার প্রতীবাদে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে একটি সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবন চত্বর থেকে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে আসে তারা। সমাবেশ উপস্থিত নারীবাদিরা বলে, ৫৪ বছর ধরে যে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তা নাকি নারীবান্ধব নয়। আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব কাঠামোই পিতৃতান্ত্রের নাকি শিকার। ১৬ই আগষ্ট রাতে আয়োজিত সেইদিনের শেষ প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত হয় অন্তরবর্তিকালিন সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা এস মুরশিদ। কথিত এই নারীবাদী উপদেষ্টা উপস্থিত নারীদের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়ার দাবী রাখে, দাবী পেশ করলে নাকি অন্তরবর্তিকালিন সরকার সেই দাবী দাওয়া বাস্তবায়নে ঝাপিয়ে পড়বে সে আরো বলেছে, তোমরা যদি রাস্তায় থাকো, তাহলে আমিও রাস্তায়। তোমরা যদি অনিরাপদ হও, তাহলে নিরাপত্তাহীনতা কীভাবে দূর করব, তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। যে সরকার হয়েছে, তা তোমাদের সরকার। আমি তোমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই। হোয়াট? যে সরকার হয়েছে, তা তোমাদের সরকার? হাও নুইসেন্স? ছাত্র জনতা কি এইসব ইসলাম বিরোধী, ধর্ম বিরোধী, কুরআন বিরোধী, পুরুষ বিরোধী দাবী দাওয়া বাস্তবায়নের জন্যেই প্রান দিয়েছে আর হাঁসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফেমিনিষ্ট আনিয়া ফাহমিন দাবী করে, নারী শিক্ষার্থীদের রাত ১০টার মধ্যে হলে প্রবেশের এক সামন্ত্রতান্ত্রিক প্রথা চালু রয়েছে। আমাদের এসব সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ফেমিনিষ্ট তানিয়া মাহমুদা তিন্নি বলেছে, ৫৪ বছর ধরে যে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তা নাকি নারীবান্ধব নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই নাকি নারীবান্ধব নয়।

অতঃপর সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফেমিনিষ্ট নুজিয়া হাসিন রাশার সঞ্চালনায় একটি অবস্থানপত্র পাঠ করে আরেক ফেমিনিষ্ট শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। অবস্থানপত্রে সে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে, দাবিগুলো হলোঃ-

১) তনু মুনিয়াসহ প্রতিটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে।

২) নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে।

৩) ধর্ম, গোত্র, বর্ণের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রতিটি লিঙ্গের মানুষের সম্পত্তিতে সমানাধিকার দিতে হবে। (সরাসরি কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী)

৪) ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড চালু এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। (এটাও কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী)

৫) সন্তানের অভিভাবকত্ব আইন পরিবর্তন করতে হবে। নারীকে সন্তানের অভিভাবকত্ব দিতে হবে। (এটাও কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী)

৬) ২০০৯ সালের হাইকোর্ট নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি ও সেল তৈরি এবং কার্যকর করতে হবে।

৭) নারী, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী এবং ভিন্ন লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্বের জন্য যৌক্তিক অনুপাতে কোটা বরাদ্দ দিতে হবে। (এটাও কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী, এবং সমকামিতা প্রচারের লাইসেন্স)

৮) ১৮৬০ সালে গর্ভপাতের আইন বাতিল করতে হবে। নারীকে গর্ভপাতের পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। (এটাও কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী)

৯) নারী ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষের জন্য সমান কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে এবং নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। (এটা তো এই গণঅভ্যুথানের মূলনীতিরই বিপরীত, চাকুরী হবে মেধার ভিত্তিতে)

১০) প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষের রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্রে তার লৈঙ্গিক পরিচয়ের স্বীকৃতি দিতে হবে। (সমকামীদের বৈধতার লাইসেন্স, প্রাকৃতিক লিঙ্গ ব্যতীত আর্টিফিশিয়াল লিঙ্গ ধারণ করাই হারাম কুফরি)।

১১) সব প্রকার লৈঙ্গিক বৈষম্যকারী আইন বাতিল করতে হবে। (সামাজ বিরোধী দাবী)

১২) বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে হবে।

১৩) আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে রাষ্ট্রীয় সব পর্যায়ে নারীর ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। (এটা তো এই গণঅভ্যুথানের মূলনীতিরই বিপরীত, চাকুরী হবে মেধার ভিত্তিতে)

এই দেশ যদি মুছলিমের হয়, দেশের মানুষ যদি ধর্মকে ইসলাম হিসেবে মেনে নেয়, যারা মারা গেছে তারা যদি মুছলিমদের সন্তান হয়ে থাকে, আবারো দ্বীন বিরোধী সমাজ ব্যবস্তা যদি বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় না চায় তাহলে এখুনি ভয়ানক ইসলাম বিদ্বেষী সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা এস মুরশিদের পদত্যাগের দাবী তোলা হোক, ছাত্র জনতা আলীম সমাজের পক্ষ থেকে, এদের যদি মূলেই নির্মুল না করা হয় তাহলে কিন্তু চরম মুল্য দিতে হবে।

Saturday, December 15, 2018

সম্রাজ্যবাদীদের প্রক্সিওয়ারে ব্যবহৃত জনগণ, ‘জনগণের পক্ষ’ তৈরী হবে কবে?

সম্রাজ্যবাদীদের প্রক্সিওয়ারে ব্যবহৃত জনগণ, ‘জনগণের পক্ষ’ তৈরী হবে কবে?

প্রক্সিওয়্যার শব্দটার সাথে জনগণ পরিচিত নয়। যদিও জনগণ প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে প্রক্সিওয়্যারের মাধ্যমেই। প্রক্সিশব্দের শাব্দিক অর্থ অন্যের পরবর্তিরূপে কাজ করাবা বদলি কাজ’, ওয়্যার শব্দের অর্থ যুদ্ধ। ছোট বেলায় ক্লাসে উপস্থিত না হয়ে বন্ধুদের বলতাম, ‘দোস্ত আমার হয়ে প্রক্সি দিয়ে দিস। মানে আমি উপস্থিত থাকবো না, তুই আমার হয়ে হাজিরা দিয়ে দিস। আন্তর্জাতিক সম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো প্রতিনিয়ত নিজের স্বার্থ নিয়ে কামড়াকাড়িতে ব্যস্ত। সারা বিশ্বজুড়ে চলে তাদের এই যুদ্ধ। কিন্তু সাধারণভাবে সেটা দেখা যায় না, কারণ তারা নিজেরা কখন মাঠে নেমে যুদ্ধ করে না, তারা ভিন্ন একটি দেশকে ব্যাটলফিল্ড বা যুদ্ধক্ষেত্রে বানিয়ে সে দেশের জনগণ দিয়ে সেই যুদ্ধের প্রক্সি দেয়। কিন্তু এরমধ্যে চাতুরতা এত বেশি থাকে যে, সাধারণ মানুষ সেটা ধরতে পারে না। সে ভাবে, সে নিজের জন্য যুদ্ধ করছে, কিন্তু বাস্তবে সে সম্রাজ্যবাদীদেশগুলো স্বার্থের জন্য প্রক্সিওয়্যারে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৪৭ এ বহু কাঠখড় পুড়িয়ে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর, সেটা ভাঙ্গার প্রথম পরিকল্পনা ছিলো আমেরিকার। সেই প্রথম ঘি ঢালে জাতীয়বাদ থিউরী ছড়িয়ে। পাকিস্তানী শাসকদের মাথামোটা বক্তব্যে আমেরিকার থিউরী সফল হয়, সৃষ্টি হয় ৫২র ভাষা আন্দোলন।  ৬৬-৬৯ পাকিস্তান ভাগ করার পর্যায়গুলো মোটামুটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণেই থাকে, কিন্তু বিপত্তি ঘটে ৭০ এর নির্বাচনে এসে।  আমেরিকার বদলে পাকিস্তান ভাগ করার আন্দোলন নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা করে রাশিয়া। পাকিস্তানী শাসকদের মাথামোটা সিদ্ধান্তের দরুণ ২৫ মার্চের নির্মম গণহত্যা এবং শেখ মুজিবকে গ্রেফতার যদি না করা হতো, তবে আদৌ বাংলাদেশ নামক কোন দেশ জন্ম নিতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। শেখ মুজিব চেয়েছিলেন কনফেডারেশনটাইপের পূর্ব পাকিস্তান, কিন্তু শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে চালকের আসনে বসে পড়ে পাক্কা রাশিয়ান এজেন্ট তাজউদ্দিন আহমেদ। আরেক রাশিয়ান ব্লকের সদস্য ভারতীয় কংগ্রেসের ইন্দিরা গান্ধী তখন ক্ষমতায়, মিলে যায় ক্ষাপে ক্ষাপ। আমেরিকার এতদিনের সখের সূচ রাজার চোখের সূচসরানোর উদ্যোগ নিয়ে নেয় রাশিয়া। স্বাধীন হয়ে যায় বাংলাদেশ। রাশিয়ান ব্লকের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, আমেরিকা তো বসে থাকার পাত্র নয়। তাদের এজেন্ট জাসদসহ নাস্তিকগুলো দিয়ে দেশে তৈরী করতে থাকে বিশৃঙ্খলা। ভাত দে, নয় মানচিত্র খাবো”, শ্লোগান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের সেন্টিমেন্টকে ঘুড়িয়ে এন্টি আওয়ামীলীগবিরোধী সেন্টিমেন্ট উস্কাতে থাকে। সিরাজ শিকদার হত্যা কিংবা বাকশাল প্রতিষ্ঠা সবাই ছিলো আমেরিকার বিরুদ্ধে রুশ প্ল্যানের অংশ। মার্কিনীদের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবর একের পর এক একশনে ক্ষেপতে থাকে আমেরিকা। শেখ মুজিবরও মার্কিন বিরোধী প্ল্যান নিজ দেশ ছেড়ে বাইরে বর্ধিত হতে থাকে। পূর্বের বন্ধু ভুট্টোর সাথে ফের খাতির করে নতুন নতুন প্ল্যান নিতে থাকে শেখ মুজিব। ক্ষেপে যায় সিআইএ। বাংলাদেশে কথিত সেনা অভ্যুথানের নাম দিয়ে হত্যা করে শেখ মুজিবকে, পাকিস্তানে ভুট্টোকে। শেখ মুজিব হত্যার পর সিআইএপন্থীরা ট্যাঙ্কে চড়ে উল্লাস করে। এরপর বাংলাদেশে সিআইএপন্থী ও রুশপন্থী সেনাসদস্যের মধ্যে ক্যু-পাল্টা ক্যু চলতে থাকে। টানা ৮ বছর চলে সেনাসদস্যদের মধ্যে সেই আত্মঘাতি প্রক্সিওয়্যার। হাজার হাজার সেনাসদস্য মারা যায়, যার মধ্যে অধিকাংশ মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ৮৩ সালে এসে ক্ষমতা নিয়ে নেয় সুযোগ সন্ধানী এরশাদ। এরশাদ ব্যক্তিগতভাবে চালাক ছিলো। সে নিজের জন্য অনেক কিছু-ই করতো, কিন্তু সম্রাজ্যবাদীদের কথা ডাইরেক্ট শুনতো না।  এতে ক্ষেপে যায় সম্রাজ্যবাদীরা। মিডিয়ার মাধ্যমে স্বৈরশাসকট্যাগ লাগিয়ে মার্কিনপন্থী, চীনপন্থী আর রুশপন্থী সব এক হয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়। ১৯৯০ সালে ক্ষমতা থেকে নেমে যায় এরশাদ। ১৯৯১ সালে ফের মার্কিন-চীন ব্লকের (তখন মার্কিন-চীন জোট ছিলো) দল ক্ষমতায় চলে আসে। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনাকে রুশব্লকের কংগ্রেস ট্র্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে তার ১০ বছর হয়ে গেছে, যদিও আওয়ামীলীগ ঠিক তখনও গুছিয়ে উঠতে পারেনি। তবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরে আসায় আওয়ামীলীগের আসার সম্ভবনা তৈরী হয়। তাছাড়া সম্রাজ্যবাদীরাও চায় গণতন্ত্র দিয়ে দেশ চলুক, কারণ সেনা শাসকরা সব সময় তাদের কথা শুনে না, এরশাদের মাধ্যমে তাদের সেই শিক্ষা হয়ে গেছে। আমেরিকা পাকিস্তান ভাগ করতে প্রথম জাতীয়তাবাদের চেতনাউস্কে দিয়েছিলো, সেই আমেরিকা এবার নতুন মোড়কে নিয়ে আসে নতুন চেতনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। কারণ আমেরিকার ভয় ছিলো শেখ হাসিনাকে দেশে নিয়ে এসেছে রুশব্লক। বঙ্গবন্ধূ কন্যা হওয়ায় রাশিয়া তাকে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নিয়ন্ত্রণ নেয় নাকি, তখন ফের ক্ষমতা রাশিয়ার হাতে চলে যাবে। তাই ১৯৯২ সালে আমেরিকাই তার সদস্য জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে কিছু মার্কিনপন্থী নাস্তিকদের নিয়ে তৈরী করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণ আদালত। শুরু হয়ে যায় চেতনা ব্যবসা। তবে জাহানারা ইমাম খুব তাড়াতাড়ি ক্যান্সারে মারা যাওয়ায় হাফ ছেড়ে বাচে শেখ হাসিনা। যে কথাটা সাবেক এপিএস মতিয়ুর রহমান রেন্টুর লেখা `আমার ফাঁসি চাই বইয়ে আছে- জাহানারা ইমাম মারা যাওয়ার পর শেখ হাসিনা আনন্দে নাচতে থাকে আর বলতে থাকেন মিষ্টি খাও, মিষ্টি। আমার একটা প্রতিদ্বন্দ্বী দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছে। আল্লাহ বাঁচাইছে। নেত্রী হতে চেয়েচিল। আমার জায়গা দখল করতে চেয়েছিল।জাহানারা ইমাম মারা গেলেও মার্কিন ব্লক সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চেতনা তৈরী অব্যাহত রাখে। চেতনা তৈরীবলছি এ কারণে, মুক্তিযুদ্ধ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, এই ঘটনার বিচার হবে ইতিহাসের ভিত্তিতে, কিন্তু মার্কিনপন্থীরা বানোয়াট গল্প কবিতা রচনা করতে থাকে, যার নেতৃত্বে থাকে হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল আর শাহরিয়ার কবিররা। সাথে ডিজিটাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ডকুমেন্টারি নিয়ে আসে মার্কিন এজেন্ট তারেক মাসুদ আর ক্যাথরিন মাসুদরা। বলাবাহুল্য, মার্কিনীদের চেতনা চর্চার সহরাওয়ার্দী উদ্যানের সেই গণ আদালত২০১৩ তে হয়ে যায় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। শুরুতে সেটার নিয়ন্ত্রন থাকে মার্কিনী এজেন্ট ইমরান এইচ সরকার ও কথিত ব্লগার এন্ড অনলাইন এক্টিভিস্টদের হাতে, কিন্তু পরে সেটা রুশব্লকের আওয়ামীলীগ হাইজ্যাক করে তা ব্যবহার করতে চায়, ২০১৮ তে এসে শাহবাগ আন্দোলনের মূল মূল মার্কিনপন্থীদের জেলের ভাতও খাওয়ায় রুশব্লকের আওয়ামীলীগ, কয়েকজনকে বিদেশ আর কয়েকজনকে পরপারেও পাঠিয়ে দেয়া হয়।

যাইহোক, আবার পেছনের ইতিহাসে ফেরত যাই। ৯৬ এ রুশব্লকের আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় চলে আসে, ২০০১ এ মার্কিন-চীনব্লকের বিএনপি। ২০০৬ এ গিয়ে ফের আমেরিকা দেখে তাদের বিএনপি দিয়ে ঠিক পোষাচ্ছে না, তাদের আরো অনুগত সরকার দরকার, কারণ ততদিনে চীনের সাথে আমেরিকার সম্পর্কে ফাটল ধরে গেছে, চীন-আমেরিকা শত্রুতা শুরু হয়ে গেছে। ফলে এ অঞ্চলে তাদের তাদের পলিসি চেঞ্জ করতে হবে। তাই তারা উদ্যোগ নেয় হাসিনা-খালেদাকে মাইনাস-টু করে হিলারী বন্ধু ড. ইউনুসকে বসাবে। ভর করা হয় কিছু সেনা অফিসারের উপর। তাদের দিয়ে রাজনৈতিকদলগুলোর উপর উপর শক্তি প্রয়োগ করাও হয়। কিন্তু সে সময় হাল ধরে শেখ হাসিনার মূল চ্যানেল রুশব্লকের ভারতীয় কংগ্রেস। গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ মনমোহন সিং তার  আত্মজীবনীমূলক বই ওয়ান লাইফ ইজ নট এনাফ' স্পষ্ট লিখে কিভাবে সে শক্ত হস্তে শেখ হাসিনাকে ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পর মার্কিনপন্থীরা কিছু সেনা অফিসার দিয়ে তাদের যে প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে উদ্দত হয়েছিলো, তার খেসারত দিতে হয় রুশব্লকের শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে। কয়েক মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০০৯ সালে ঘটে যায় বিডিআর বিদ্রোহ। ঝরে যায় দেশের মহামূল্যবান অনেকগুলো সেনা অফিসারের প্রাণ।  মার্কিনপন্থীদের উপর প্রতিশোধ নেয় রুশব্লক।

এখন ২০১৮ সালের নির্বাচন উপস্থিত। এখনও একটা দলের উপর ভর করেছে রুশব্লকের ভারতীয় কংগ্রেস। অন্য দলের উপর আমেরিকার সিআইএ। মাঝখানে দুইপক্ষের মাঝে সক্রিয় আছে সুপার পাওয়ার হতে চলা চীন।

১৯৪৭ থেকে ২০১৮ হয়েছে, ৫১ বছরের ইতিহাস। সম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের মধ্যে স্বার্থ নিয়ে দ্বন্দ্ব করেছে, কিন্তু তারা ফিল্ডে নামেনি।  নামিয়ে দিয়েছে আমাদের। তাদের কোন ক্ষতি হয়নি, কেউ বলতে পারবে না, এখানে একজন মার্কিন সৈণ্য বা রাশিয়ার সৈণ্য মারা গেছে। মারা গেছে অসংখ্য বাংলাদেশী, এক ভাই আরেকভাইকে মেরেছে, ভাইয়ের রক্তে রক্তাক্ত করেছে নিজের হাত। বলি হয়েছে সম্রাজ্যবাদীদের প্রক্সিওয়্যারের।

বহুদিন তো হলো, আর কত? বহু রক্ত তো গেলো, আর কত আপন ভাইয়ের রক্ত চাই? জাতি আজ আওয়ামীলীগ-বিএনপিতে বিভক্ত। আসলে আওয়ামীলীগ আমাদের শত্রু নয়, বিএনপিও আমাদের শত্রু  নয়। শত্রু হলো তাদের উপর যারা ভর করেছে তারা। আমরা জনগণ যে দিন আওয়ামীলীগ-বিএনপির পর্দা ভেদ করে উপরের শত্রুদের দিকে তাকাতে পারবো, সেই দিন আমদের সামনে সব উন্মোচিত হবে। আমরা বুঝবো আওয়ামী-বিএনপি মারামারি নয়, আমাদের মারামারি করতে হবে পর্দার অন্তরালে দাড়িয়ে থাকা শত্রুদের সাথে, স্বার্থ নিয়ে টানাটানি করতে হবে তাদের সাথে। তখন তৈরী হবে জনগনের পক্ষ বা তৃতীয় পক্ষ।

গত কয়দিনে রাজনৈতিকদলগুলো তাদের ইশতেহার দিয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, সে ইশতেহারগুলোতে খুব সামান্যই আছে জনগণের চাওয়া-পাওয়া। বেশিরভাগ হলো সম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং প্রতিপক্ষকে দমন করার কৌশল। কিন্তু কিভাবে জনগণের ভালো হবে, জনগণের উন্নতি হবে, সেটা খুব কমই বর্ণিত আছে সেই ইশতেহারগুলোতে। তবে এটার দোষ রাজনৈতিকদলগুলোকে আমি দেবো না, দেবো জনগণকে। জনগণ যেদিন প্রকৃতঅর্থেই নিজের ভালো বুঝবে, বুঝতে পারবে সম্রাজ্যবাদীদের প্রক্সিওয়্যারে হাওয়া না লাগিয়ে জনগণের পক্ষে হাওয়া লাগনো উচিত, সেদিন তৈরী হবে জনগণের পক্ষ বা তৃতীয় পক্ষ, সেই সময়ের অপেক্ষায়।

বিঃদ্রঃ আমি একটা ইশতেহারের দাবি তুলেছি, যার নাম ইশতেহারঃ জেগে ওঠো বাংলাদেশ ২০১৮। যেখানে আমি চেষ্টা করেছি শুধু জনগণের পক্ষ হয়েই দাবি তুলতে।

Wednesday, July 6, 2016

এসপি বালুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যার মূল দুই আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত, কি বুঝলেন?

এসপি বালুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যার মূল দুই আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত, কি বুঝলেন?

চট্টগ্রামের আলোচিতো পুলিশ সুপার এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধেনিহত হয়েছেনমঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাঙুনিয়ায় সন্দেহভাজন রাশেদ (২৯) ও নবী (২৮) বন্দুকযুদ্ধে মারা যান বলে দাবি করেছে পুলিশ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেনতিনি জানান, বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু আক্তার হত্যার মিশনে অংশ নেয় রাশেদ ও নবীএদের মধ্যে নবী মিতুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলোএকই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিন পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি

এর আগে, রাশেদের বাবা দাবি করেছিলেন রাশেদ পুলিশের হেফাজতে রয়েছেকিন্তু তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছিল

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৫ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরাপরে এই ঘটনায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বাবুল আক্তার

এই বিষয়ে আমার করা একটি পোষ্ট যা না পড়লে অজানা থেকে যাবে অনেক কিছু তাই পড়তে পারেনঃ এসপি বাবুলের স্ত্রীকে নিয়ে যমুনানিউজের প্রলাপ ও আমার অকাট্য কিছু যুক্তিপূর্ণ কমেন্ট

Thursday, June 30, 2016

এসপি বাবুলের স্ত্রীকে নিয়ে যমুনা নিউজের প্রলাপ ও আমার অকাট্য কিছু যুক্তিপূর্ণ কমেন্ট

এসপি বাবুলের স্ত্রীকে নিয়ে যমুনা নিউজের প্রলাপ ও আমার অকাট্য কিছু যুক্তিপূর্ণ কমেন্ট

এসপি বাবুলের স্ত্রীকে নিয়ে যমুনা নিউজের প্রলাপ ও আমার অকাট্য কিছু যুক্তিপূর্ণ কমেন্ট
এসপি বাবুলের স্ত্রীকে নিয়ে যমুনা নিউজের প্রলাপ ও আমার অকাট্য কিছু যুক্তিপূর্ণ কমেন্ট

যমুনা নিউজের এই রির্পোটা পড়লামঃ এসপি বাবুলের স্ত্রী মিতুকে হত্যা করার নাটকীয় বর্ণনাপড়ে একটু অবাকই হলামমনে হলো মিথ্যাকে সত্য বানানোর একটা সুস্পষ্ট তৎপরতা বিদ্যমানএকটা মহল যে ঘোলা পানিতে মৎস শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে সেটা বোঝা যায়। (নিউজ লিংকঃ- http://goo.gl/8gZt27 আর্কাইভ http://archive.is/3gmi2)

তাদের নিউজটা পড়ে যে পয়েন্ট গুলো মাথায় আসলো সেগুলো হচ্ছেঃ

১) নিউজে লেখা হয়েছেঃসোর্স মুসার স্ত্রীর সঙ্গে এসপি বাবুল আক্তারের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো প্রায়শই সে মুসার স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতো আর তার পরকয়ার পথের কাঁটা হিসেবে ছিলো মিতু তাই পথের কাঁটা সরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই বাবুল আক্তার তার স্ত্রী মিতুকে খুনের সিদ্ধান্ত নেনএই খুনের দায়িত্ব দেন তার দীর্ঘদিনের সোর্স মুসাকে

পাঠক চিন্তা করুন বাবুলের সাথে যদি র্সোস মুসার স্ত্রীর পরকীয়া থাকতো তবে সেক্ষেত্রে মুসার তো মিতুকে খুন না করে বাবুল আক্তারকে অথবা নিজের স্ত্রীকে খুন করাটাই শতভাগ যুক্তি সংগত ছিলো? অথচ সে তা করেনি কি কারনে? সে কি বুদ্বি প্রতিবন্দি ছিলো?

অথচ কয়েকদিন আগে অনেক নিউজ পেপারে বলা হয়েছিলো যে মিতুর সাথে চট্রগ্রামের এক ব্যবসায়ীর পরকীয়া ছিলো যার কারনে বাবুল আক্তার তার স্ত্রীকে হত্যা করিয়েছে সূত্রঃ http://goo.gl/O1q1TC, আর্কাইভ http://archive.is/c0dRY) এবার বোঝেন অবস্থা?

২) নিউজে বলা হয়েছেঃ বাবুল মুসাকে বলেছিলো যে একজন জঙ্গী মহিলাকে খুন করতে হবে, সে তার বাচ্চাকে নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায়এই খুনের জন্য সরকারের তরফ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পুরুস্কার দেওয়ার ও প্রলোভন দেখানো হয় সোর্স মুসাকে

পাঠক ভেবে দেখুন জঙ্গী মহিলাকে যদি হত্যা করার প্রয়োজন হতোই র‍্যাব কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলো? অথবা বাবুল নিজেই কেনো তালাক দিয়ে এঙ্কাউন্টার করলনা? কন্টাক কিলার দিয়ে প্রশাসনের লোক যে জঙ্গী মারায় না এটা বোঝার মত বুদ্ধি কি মুসার ছিলো না? সে পুলিশের সর্বচ্ছ চৌকশ অফিসারের সোর্স ছিলো আর এইটা জানতোনা? আরেকটি কথা হলো বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে চেনেনা এমন কেউ ঐ এলাকায় নায় সবার কাছে সে পরিচিত ছিলো পুলিশ ভাবি হিসেবে (সূত্রঃ http://goo.gl/tj5zBT, http://goo.gl/fGLQLX) অথচ সোর্স মুসা তাকে চিনতনা এইটা কি হাস্যকর নয়? আর ৭ লক্ষ টাকা পুরুষ্কারের বিষয় থেকে এডভান্স কত দিয়েছিলো কেউ বলতে পারেন? অবশ্য নিউজে এসছে ২/৩ হাজার টাকা... হা হা হা

৩) নিউজে বলা হয়েছেঃ খুনের আগের দিন সকালে মুসা চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে মিতুকে রেকি করতে যায়গত ৫ জুন রোববার খুনের দিনক্ষণ ঠিক করে কিলাররা

পাঠক যারা কম বেশি থ্রিলার গল্প পড়েছেন তারা সহজেই বুঝবেন মিতুকে যদি মুসা রেকি করে তাহলে মুসার জানার কথা মিতুর বাসা কোথায় আর সেই বাসা যে বাবুল আক্তারে বাসাও সেটাও বোঝার কথা

বার বার বলা হয়েছে কিলাররা নাকি জানতো না মিতু যে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রীএ কথা আমার কাছে এমনই লাগছে যে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে কেউ হাঁটছে অথচ সে ভিজতেছেনা।

যাইহোক বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে কারা যে তাদের নোংরা নগ্ন হস্ত সঞ্চালন করছে সেটা অবশ্য জনগনের বুঝতে বাকি নেই

বিঃদ্রঃ আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে এই নিউজ এবং বাবুল আক্তার কে নিয়ে হওয়া বাকি সবগুলো নিউজ পড়েন তাহলে একটি জিনিস খেয়াল করবেন যে এসপি বাবুল আক্তার আর তার স্ত্রী উভয়ই ছিলেন মুসলমান, শুধু আর দশ জনের মতো মুসলমান না পাক্কা ঈমানদার মুসলমান যে বাবুল আক্তার কেবল সৎই ছিলেন না, বরং ছিলেন নিষ্টাবান, এবং উনার স্ত্রী ছিলেন পর্দাশিল মুসলিমা যার বাসায় ডিসের নোংরা লাইন পর্যন্ত ছিলোনা। এতএব আপনারা সহজেই বুঝতে পারছে যে সৎ নিষ্টাবান আর ধার্মিক মুসলমান হওয়ার কারনে বাবুল আক্তারের স্ত্রী কে হত্যা করে বাবুল আক্তার কে স্ত্রীর হত্যা কারি বানিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছে একটি গোষ্টি আর এতে সর্বচ্ছ মদদ দিচ্ছে বাবুলেরই এক সময়ের সহকর্মী হিন্দু পুলিশ অফিসারবনজ কুমার আর তার সহযোগী হিন্দু সাংবাদিক রমেন