Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Saturday, March 28, 2026

তুর্কী নেটোতে থাকা নিয়ে খারেজীদের আপত্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব

তুর্কী নেটোতে থাকা নিয়ে খারেজীদের আপত্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব

খারেজীরা তুর্কীবিরোধি যত অপপ্রচার চালায় তার মধ্যে অন্যতম অপপ্রচার হলো কোন মুছলমান কান্ট্রির ন্যাটোতে থাকা নাকি হারাম। তাই আজকে আমরা আল-ক্বুরআন,ছুন্নাহ শরীফ , মানতেক ও ইতিহাসের আলোকেই দেখবো যে এটা কি হারাম নাকি খারেজীদের ছুন্নীদের প্রতি বিদ্বেষ।

প্রথমে নেটো কি সেটা সম্পর্কে জেনে নেইঃ

নেটো কী, নেটোর ইতিহাসঃ নেটো হলো “North Atlantic Treaty Organization” - ১৯৪৯ সালে গঠিত একটি সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা জোটএর মূল ভিত্তি Washington Treaty, বিশেষ করে Article 5: এক সদস্যের উপর সশস্ত্র হামলাকে সবার উপর হামলা হিসেবে ধরা হতে পারেনেটোর নিজস্ব ভাষায়, এটি একটি political and military allianceদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সোভিয়েত চাপ ও নিরাপত্তা-সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি গঠিত হয় (অর্থাৎ এর সাথে ধর্মীয় কোন কিছুই মূলে জড়িত না, কাফেররা যখন অন্য কাফেরদের থেকে নিজেদের বাঁচাতে ঝোট করছে তখন তাদের এক প্রতিবেশী ঐ কাফের দেশের থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে সামরিক চুক্তি করেছে অন্য কাফেরের সাথে।)

নেটোর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা-ছাতা তৈরি করাপরে শীতল যুদ্ধ, ওয়ারশ চুক্তি, বলকান সংকট, আফগানিস্তান, সন্ত্রাসবিরোধী সামুদ্রিক টহল, মিসাইল প্রতিরক্ষা - এসবের মাধ্যমে এর ভূমিকা বিস্তৃত হয়গ্রিস ও তুর্কী ১৯৫২ সালে এতে যোগ দেয়

তুর্কী কেন নেটোতে যোগ দিয়েছিল, আর এখনো কেন আছেঃ

তুর্কীর নিজের সরকারি বয়ান অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তুর্কী “free world” ও Western Bloc-এর পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়, এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-তে নেটো সদস্য হয়তুর্কী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বলছেঃ তখন থেকে নেটো তুর্কীর defence and security policy-এর cornerstoneতারা আরও বলছে, Article 5-এর collective defence guarantee তুর্কীর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান নিরাপত্তা-গ্যারান্টি

ঐতিহাসিক বাস্তবতায় এর পেছনে যে বড় কারণ ছিল, সেটা ছিলো সোভিয়েত হুমকিআমেরিকার State Department-এর ইতিহাসভিত্তিক নথি দেখায়, কোরিয়ান যুদ্ধের পর সদস্যরা দ্রুত প্রতিরক্ষা-সমন্বয়ের দিকে যায়, এবং ১৯৫২ সালে গ্রিস-তুর্কীকে অন্তর্ভুক্ত করেঅর্থাৎ Cold War security calculus এখানে কেন্দ্রীয় ছিল

সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা এটাই যে, তুর্কী নেটোতে ঢুকেছিল মূলত নিরাপত্তা-গ্যারান্টির জন্য; বিশেষত সোভিয়েতের চাপের মুখে একা না থাকার জন্যআর এখনো আছে কারণ নেটো এখনও তুর্কীর জন্য প্রতিরক্ষা-ছাতা, পশ্চিমা সামরিক interoperability, গোয়েন্দা-সহযোগিতা, মিসাইল-প্রতিরক্ষা, এবং আঞ্চলিক deterrence-এর বড় প্ল্যাটফর্মএই “কেন এখনো আছে” প্রশ্নের সরকারি উত্তরও প্রায় একইঃ নেটো এখনো তুর্কীর নিরাপত্তা নীতির মূল স্তম্ভ

বর্তমানে নেটোতে তুর্কীর অবস্থান কী?

বর্তমানে তুর্কী নেটোর ভিতরে peripheral actor না; central military actorনেটো মহাসচিব ২৫ নভেম্বর ২০২৪-এ প্রকাশ্যে বলেছেন, তুর্কীর নেটোতে second-largest army আছে, এবং দেশটি জোটের collective security-তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেএকই বক্তব্যে তিনি তুর্কীর KFOR-এ troop contribution এবং Kosovo mission command-এর জন্যও প্রশংসা করেছেন

প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকেও তুর্কীর অবস্থান শক্তNATO Allied Land Command (LANDCOM) ইজমিরে অবস্থিত; এটি নেটোর land forces-এর প্রধান স্থায়ী সদরগুলোর একটিএছাড়া NATO-র ওয়েবসাইট অনুযায়ী, Basat Öztürk মে ২০২৫ থেকে আবার তুর্কীর Permanent Representative to NATO হিসেবে দায়িত্বে আছেনঅর্থাৎ তুর্কী শুধু সদস্য নয়; HQ-hosting, high-level representation, troop contribution সব ক্ষেত্রেই ভেতরের সারির খেলোয়াড়

অপারেশনাল দিক থেকে তুর্কী এখনো সক্রিয়Kosovo-তে NATO-led KFOR এখনো চলছে; নেটো ২০২৬ সালের আপডেটে বলছে KFOR ১৯৯৯ থেকে শান্তি-সহায়ক অপারেশন হিসেবে কাজ করছেআর ২০২৪ সালে নেটো মহাসচিব তুর্কীর KFOR command role ও troops contribution বিশেষভাবে তুলে ধরেন

আরও তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো, মার্চ ২০২৬-এ তুর্কী জানিয়েছে NATO ballistic missile defence সম্পূর্ণ defensive প্রকৃতির এবং deterrence/defence-এর অংশএকই সময় Reuters জানায়, ইরান যুদ্ধ-সংকটের মধ্যে নেটো তুর্কীতে অতিরিক্ত Patriot প্রতিরক্ষা মোতায়েন করেছেঅর্থাৎ তুর্কী নেটোর southeastern flank-এ বাস্তব frontline security state হিসেবেও কাজ করছে

নেটোর কোন যুলুমে তুর্কী শরীক ছিল?

এখানে খুব সাবধানে সিদ্ধান্ত দিতে হবেঃ “নেটোর সদস্য” হওয়া আর “নেটোর প্রতিটি বিতর্কিত বা জালিম অপারেশনে সমান শরীক” হওয়া এক কথা নয়

সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে যে ক্ষেত্রগুলোতে তুর্কীর অংশগ্রহণ প্রমাণিত, সেগুলো হলো বলকান, আফগানিস্তান, ভূমধ্যসাগরীয় maritime missions, এবং লিবিয়া ২০১১তুর্কী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেই বলছে, ১৯৯৫ থেকে বলকানে NATO-led সব অপারেশনে তুর্কী অংশ নিয়েছে - Bosnia-র IFOR/SFOR, Kosovo-র KFOR, Macedonia-র Essential Harvest, Amber Fox, Allied Harmony ইত্যাদিতে

Kosovo-র ক্ষেত্রে নেটো বলছে KFOR হলো peace-support operation, যার UN Security Council Resolution 1244 ভিত্তি আছেকিন্তু একই সঙ্গে নেটো এটাও বলে যে KFOR-এর আগে ৭৮ দিনের air campaign হয়েছিল Milosevic regime-এর বিরুদ্ধেতাই সমালোচকেরা ১৯৯৯-এর Kosovo air war-কে বিতর্কিত বলে, আর সমর্থকেরা humanitarian intervention বলেতুর্কী KFOR-এ অংশ নিয়েছে এটি নিশ্চিত; তবে এটিকে “নিরেট যুলুম” নাকি “জননিরাপত্তা/শান্তিরক্ষা” - এটি রাজনৈতিক-নৈতিক বিতর্কের বিষয়

আফগানিস্তানে তুর্কী কি শরীক ছিল?

নেটো বলছে Resolute Support Mission ছিল non-combat mission, Afghan government-এর আমন্ত্রণে এবং UNSC Resolution 2189-এর আলোকে পরিচালিত training/advisory missionআবার নেটোর ২০২১-এর এক ঘোষণায় দেখা যায়, তুর্কী command position-ও নিয়েছিল Kabul-এ training, advising, assisting-এর ক্ষেত্রেসুতরাং “আফগানিস্তানে তুর্কীর ভূমিকা ছিল, তবে সেটি নেটোর ভাষায় non-combat/train-advise-assist ভূমিকাসমালোচক চাইলে বলবে দখলদার কাঠামোকে sustain করেছে; সমর্থক বলবে security assistance দিয়েছে

লিবিয়াতে ২০১১ সালে তুর্কী সরাসরি অংশ নিয়েছিল যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর একটিReuters জানায়, তুর্কী চারটি frigate, একটি submarine, এবং একটি support ship নেটোর arms embargo enforcement-এ দেয়নেটোর Libya chronology-তেও দেখা যায় ৩১ মার্চ ২০১১ থেকে NATO sole command নেয়, এবং NATO air and sea assets military actions শুরু করেআরও গুরুত্বপূর্ণ, NATO-র নিজস্ব বিবরণে AC Izmir, Turkey air operations management-এ ছিলঅতএব লিবিয়ার নেটো অপারেশনে তুর্কীর institutional ও operational involvement ছিল, তা অস্বীকার করা যাবে না

তবে এখানেও সূক্ষ্মতা আছেতুর্কী শুরু থেকেই বলেছিল, অপারেশন UN mandate-এর বাইরে যাওয়া চলবে না২২ মার্চ ২০১১-র রিপোর্টে দেখা যায়, আঙ্কারা no-fly zone বা NATO role তখনই মানবে যখন তা UN framework-এর ভেতরে থাকবে; এর বাইরে গেলে legitimised হবে না, এ কথা আহমেত দাভুতোওঁয়লু বলেছিলেনসুতরাং তুর্কী লিবিয়ায় অংশ নিয়েছে, কিন্তু শুরু থেকেই সীমা-আপত্তিও তুলেছে

ভূমধ্যসাগরে Operation Active Endeavour-এও তুর্কী সরাসরি naval assets দিয়েছেনেটো নিজেই বলছে, Greece, Italy, Spain, Turkey মূল অবদানকারী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ছিলএটি মূলত counter-terror maritime surveillance mission ছিল, তাই একে “যুলুম” বলা স্বয়ংক্রিয় নয়; কিন্তু এটি নেটো ঝোট হিসেবে সামরিক কাঠামোতে তুর্কীর সক্রিয় থাকার বিষয়

অন্যদিকে ২০০৩-এর Iraq invasion-কে নেটোর নামে তুর্কীর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা অনেকে করে যা মোটেও সঠিক নয়ঐ আক্রমণ ছিল U.S.-led coalition invasion, NATO operation নয়আরও গুরুত্বপূর্ণ, ১ মার্চ ২০০৩-এ তুর্কী পার্লামেন্ট U.S. troops-কে তুর্কী ভূখণ্ড ব্যবহার করে northern front খোলার অনুমতি দেয়নি, এটি Congressional/CRS ও U.S. State Department chronology-তে নথিভুক্তকাজেই “ইরাক আক্রমণে তুর্কী নেটোর মাধ্যমে সরাসরি শরীক” এ বক্তব্য অন্তত ২০০৩ invasion প্রসঙ্গে সঠিক নয়তবে পরে NATO Training Mission-Iraq বা advisory missions-এ আলাদা প্রশ্ন আছে; সেগুলো invasion নয়, post-war training/advisory কাঠামো

সুতরাং এতক্ষণের আলাপের নির্ভুল সারসংক্ষেপ এইঃ

তুর্কী নেটোর কিছু সামরিক ও নিরাপত্তা অভিযানে অবশ্যই শরীক ছিল, বিশেষত Balkans, Afghanistan, Libya, Mediterranean maritime missions-এ লিবিয়া ২০১১-তে তুর্কীর অংশগ্রহণ পরিষ্কার, যদিও আঙ্কারা UN সীমা অতিক্রমের বিরুদ্ধে আপত্তিও জানিয়েছিল Kosovo ও Afghanistan-এ তুর্কী অংশ নিয়েছে, কিন্তু সেগুলোকে “যুলুম” না “security/peace support” বলা হবে এটি নৈতিক-রাজনৈতিক ব্যাখ্যার প্রশ্ন; তথ্যগতভাবে অংশগ্রহণ ছিল ২০০৩ Iraq invasion-এ তুর্কী নেটোর নামে invasion partner ছিল না; বরং তুর্কী পার্লামেন্ট U.S. ground deployment প্রত্যাখ্যান করেছিল

নেটোকে কি তুর্কী দ্বীনি কোন জোট বলে দাবী করে?

না মোটেও না, তবে তুর্কী নেটোতে কেন আছে এর উত্তর আবেগে নয়, রাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী দিতে হবে। নেটো ১৯৪৯ সালের collective defence alliance, আর তুর্কী ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এ এতে যোগ দেয়তুর্কীর নিজের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজও বলে নেটো তাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির cornerstone, কাজেই তুর্কী নেটোতে ঢুকেছিল নিরাপত্তার জন্য, কুফরকে মহব্বত করে নয়; আর এখনো আছে কারণ এখনও বিকল্প শক্তিশালী মুছলিম প্রতিরক্ষা-জোট দাঁড়ায়নি

তাই নেটোতে থাকা মানেই “কুফরের গোলামি” এটা একটা প্রপাগান্ডাময় স্লোগান, শরীয়তের কোন দলিল নাতুর্কী ১৯৫২ সালে নেটোতে গেছে নিরাপত্তার কারণে, আজও আছে একই কারণেসব অপারেশনে সমান শরীকও নয়, যেমনঃ ইরাক ২০০৩-এ পার্লামেন্টই U.S. northern front ঠেকিয়েছেআবার লিবিয়ায় সীমিত নৌ-ভূমিকা ছিল সেটা লুকানোর কিছুই নাই। তাই সত্য কথা হলোঃ তুর্কীর নেটো সদস্যতা রাজনৈতিক-সামরিক ইজতিহাদ; প্রতিটি case আলাদা বিচার হবে, স্লোগান দিয়ে না

এবার আসি শরীয়ত অনুসারে তুর্কীর নেটো ঝোটে থাকা কি হারাম?

প্রথমতো আমরা আজকে দেখতে পাচ্ছি অ্যামেরিকা ইছরাঈল কিভাবে ইরানের প্রতি যুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। আজকে তুর্কী যদি নেটোর ঝোট না হতো তাহলে সামরিক খাতে উদীয়মান মুছলিম রাষ্ট হিসেবে তুর্কীর আজকের হালে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে যেতো। আজকে আমেরিকা-ইছরাঈল ইরানের আগে তুর্কীকেই আক্রমণ করতো। এমনিতেই তারা তুর্কী ইকোনমির উপর যে আগ্রাসন বিগত ১ যুগ থেকে চালাচ্ছে তার পরেও তুর্কী যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তার শুকরিয়া আদায় করে মুছলমানদের শেষ করা যাবেনা। তুর্কী না থাকলে সারা দুনিয়ায় মুছলমানদের আর কোন দেশ থাকতোনা একটা সাউন্ড বা টু শব্দ করার মতো।

তুর্কী কি চুক্তি করে ভুল করেছে? না ভেঙ্গে গাদ্দারি করছে?

মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেনঃ (إِلَّا ٱلَّذِينَ عَـٰهَدتُّم مِّنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ثُمَّ لَمْ يَنقُصُوكُمْ شَيْــًٔا وَلَمْ يُظَـٰهِرُواْ عَلَيْكُمْ أَحَدًا فَأَتِمُّوٓاْ إِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ إِلَىٰ مُدَّتِهِمْ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُتَّقِينَ) তবে মুশরিকদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ, অতঃপর তারা তোমাদের সাথে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করেনি, তোমরা তাদেরকে দেয়া চুক্তি তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পূর্ণ করনিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাক্বীদের ভালবাসেন (ছুরাহ আত-তাওবাহ ৯:৪) চিন্তা করা যায়? মুশরিকদের সাথে যত দিনের চুক্তি ছিল সেই সময় পর্যন্ত তাদেরকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছেকেননা, তারা চুক্তি পালন করেছিল এবং তার পরিপন্থী কোন আচরণ প্রদর্শন করেনিএই জন্য মুছলিমদের পক্ষেও চুক্তি পালনকে জরুরী করা হয়েছিল কেবল জরুরী না, এই আচরণকে মহান আল্লাহ তা'য়ালা মুত্তাক্বীদের আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন যাদের তিনি মুহব্বত করেন। আর জ্ঞানপাপীরা বলে হারাম। আউজুবিল্লাহ। এছাড়াও মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (لَّا يَنْهَـٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمْ يُقَـٰتِلُوكُمْ فِى ٱلدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَـٰرِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوٓاْ إِلَيْهِمْ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُقْسِطِينَ) দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদেরকে নিষেধ করছেন নানিশ্চয় মহান আল্লাহ তা'য়ালা ন্যায় পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন (ছুরাহ আল-মুমতাহীনা ৬০:৮) অর্থাৎ যেসব কাফের মুছলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কারেও অংশগ্রহণ করেনি, আলোচ্য আয়াত শরীফে তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার ও ইনছাফ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছেন্যায় ও সুবিচার তো প্রত্যেক কাফেরের সাথেও জরুরীএতে যিম্মি কাফের, চুক্তিতে আবদ্ধ কাফের এবং শক্র কাফের সবাই সমান

তাছাড়া মহান আল্লাহ তা'য়ালা উনার স্পষ্ট হুকুম পাওয়া যায়ঃ (وَ اِنۡ جَنَحُوۡا لِلسَّلۡمِ فَاجۡنَحۡ لَهَا وَ تَوَكَّلۡ عَلَی اللّٰهِ ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ) আর যদি তারা (শত্রুরা) শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ুন এবং মহান আল্লাহ তা’য়ালা উনার ওপর ভরসা রাখুন। (ছুরাহ আল-আনফাল ৮:৬১) 

অন্যদিকে ইছলামী তারীখেও এ কথা পাওয়া যে, সব অমুছলিমের সঙ্গে সবধরনের সামরিক সহযোগিতাকে শুরু থেকেই এককথায় বাতিল করা হয়নি; বরং বাস্তব যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে শর্তসাপেক্ষ সহযোগিতা সংঘটিত হয়েছে। প্রাচীন ইছলামী ইতিহাসভিত্তিক আধুনিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে ইরাক বিজয়ের শুরুতেই, বিশেষত আল-বুয়াইব যুদ্ধের প্রসঙ্গে, খ্রিষ্টান আরবদের একাংশ মুছলিম বাহিনীর সঙ্গে সাসানীয় পার্সিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়েছিল। ওয়াদাদ আল-ক্বাদী তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করেন যে ১৩ হিজরিতে আল-মুছান্না ইবনু হারিছাহর অভিযানে দুইজন খ্রিষ্টান আরব নেতা ও তাদের লোকজন মুছলিমদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নেয়; এমনকি যুদ্ধ চলাকালে তাগলিব গোত্রের একদল খ্রিষ্টান তরুণ এসে বলে, “আমরা আরবদের সঙ্গে মিলে পার্সিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব,” এবং তাদের মধ্যকার এক খ্রিষ্টান তরুণ মিহরানকে হত্যা করে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ আছে। সুতরাং তারীখের আলোকে এটুকু স্পষ্ট যে, দারুল-ইছলামের স্বার্থে, বৃহত্তর শত্রুর বিরুদ্ধে, এবং মুছলিম নেতৃত্বের অধীনে অমুছলিমদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার নজির ইছলামী ইতিহাসে একেবারেই অজানা বা অভূতপূর্ব কিছু নয়। 

অতএব, বর্তমান যুগে কোন মুছলিম রাষ্ট্র যদি নিজের অস্তিত্ব, সীমান্ত, জনগণ, প্রতিরক্ষা-সামর্থ্য ও কৌশলগত নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অমুছলিম শক্তির সঙ্গে সামরিক চুক্তি বা প্রতিরক্ষামূলক জোটে প্রবেশ করে, তাহলে শুধু “অমুছলিমদের সঙ্গে জোট” এই একক কারণে তাকে সরাসরি হারাম, খিয়ানত, বা কুফরীর সহযোগিতা বলা শরঈ ও তারীখি, উভয় দিক থেকেই দুর্বল অবস্থান। বরং সঠিক বিচার হবে এই ভিত্তিতে যে, ঐ জোটের উদ্দেশ্য কী, তা কি আত্মরক্ষা ও deterrence-এর জন্য, নাকি জুলুম ও আগ্রাসনের জন্য; মুছলিম রাষ্ট্রটি কি প্রতিটি অপারেশনে নির্বিচারে শরীক, নাকি নিজের সীমা, আপত্তি ও জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে শর্তসাপেক্ষে অবস্থান করছে। এই পার্থক্য না করে স্লোগানধর্মী ফতোয়া দেওয়া ঈলমি আমানতের পরিপন্থী।

Sunday, March 1, 2026

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে উত্তরসূরি প্রশ্নঃ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র, এবং সম্ভাব্য নাম

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে উত্তরসূরি প্রশ্নঃ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র, এবং সম্ভাব্য নাম

প্রেক্ষাপট ও নিশ্চিত হওয়া তথ্যঃ ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি (স্থানীয় সময় অনুযায়ী) ইরান-এ তেহরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যু বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে, বিশেষ করে “Reuters, Associated Press, The Guardian, The Washington Post এবং Axios” এ, যেখানে “ইরানি রাষ্ট্রীয়/সরকারি মিডিয়া নিশ্চিত করেছে” এই বক্তব্যটি একাধিক জায়গায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

এই একই রিপোর্টিং ধারায় বলা হয়েছে যে হামলাটি “কার্যত নেতৃত্ব-ধ্বংস (Decapitation)” ধরনের ছিল এবং একইসাথে কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা/সামরিক কর্মকর্তাও নিহত/লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, “এর মধ্যে অন্তত আলি শামখানি, মোহাম্মদ পাকপৌর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ-এর নাম বিভিন্ন সূত্রে এসেছে”। তবে “কারা নিশ্চিতভাবে নিহত” এই তালিকা দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং উৎসভেদে ভিন্ন; ফলে এখানে “রিপোর্টেড/সূত্রমতে” ভাষাই বজায় রাখা জরুরি মনে করছি।

আরেকটি আলোচিত কিন্তু সতর্কতার সাথে ধরার বিষয়ঃ কিছু প্রতিবেদনে খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মৃত্যুর কথাও বলা হয়েছে; এগুলো রাষ্ট্র/আধাসরকারি মিডিয়া-উদ্ধৃত রিপোর্ট হিসেবে এসেছে, এবং আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তাই সত্য।

তথ্য-ঝুঁকি মানচিত্রঃ কোন তথ্য “প্রমাণিত”, কোনটা “চলমান” এই মুহূর্তে (আজ ১ মার্চ ২০২৬) উত্তরসূরি প্রশ্নে তথ্যকে তিন স্তরে দেখা সবচেয়ে নিরাপদঃ

প্রথম স্তরঃ মৃত্যু ও সামগ্রিক ঘটনা, খামেনির মৃত্যু এবং যৌথ হামলা, এটি একাধিক বড় সংবাদমাধ্যমে “ইরানি রাষ্ট্র-মিডিয়া নিশ্চিত করেছে” ফ্রেমে এসেছে।

দ্বিতীয় স্তরঃ অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা (Interim arrangement): Islamic Republic News Agency/রাষ্ট্র-মিডিয়া উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাটি সক্রিয় হয়েছে এবং এতে মাসুদ পেজেশকিয়ান ও গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই আছেন, এটি একাধিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যমেও ধারাবাহিকভাবে রিপোর্ট হয়েছে।

তৃতীয় স্তরঃ কারা “উপযুক্ত উত্তরসূরি” এখানেই সবচেয়ে বেশি গুজব/ম্যাক্সিমাম অনিশ্চয়তা। কারণ

ক) নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বভাবতই গোপনীয় বলা হয়,

খ) যুদ্ধাবস্থা/নিরাপত্তাজনিত কারণে সভা-সমাবেশ বাস্তবে বিলম্বিত বা সীমাবদ্ধ হতে পারে,

গ) শীর্ষ স্তরের নেতাদের হতাহত/অদৃশ্য হওয়া, কাকে “জীবিত/কার্যক্ষম” বলা যাবে সেটাও প্রতিদিন বদলাতে পারে।

এই কারণে “উপযুক্ত কে” বলতে দুটো ভিন্ন প্রশ্নকে আলাদা করা দরকারঃ

১) সাংবিধানিকভাবে যোগ্যতা কারা পূরণ করেন (যুক্তিঃ সংবিধানের মানদণ্ড)।

২) বাস্তবে ক্ষমতার ভারসাম্যে কারা টিকে থাকতে পারেন/সমর্থন পেতে পারেন (যুক্তিঃ Islamic Revolutionary Guard Corps, ক্লেরিক্যাল নেটওয়ার্ক, এবং ‘গেটকিপার’ সংস্থার ভূমিকা)।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী উত্তরসূরি প্রক্রিয়া কীভাবে চলে?

ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নেওয়ার মূল কাঠামোটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় ফুটে ওঠে, এবং এগুলোই “কে উপযুক্ত” প্রশ্নের আইনি ফিল্টারঃ

প্রথমত, সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন করে Assembly of Experts। সংবিধানের আর্টিকেল ১০৭ বলছে, জনগণের নির্বাচিত “Experts” (অর্থাৎ Assembly) যোগ্য ফক্বিহদের মধ্যে কাউকে বেছে নেবে।

দ্বিতীয়ত, যোগ্যতার মানদণ্ড (আর্টিকেল ১০৯): সংবিধান নেতা হওয়ার জন্যঃ

ক) ফিক্বহে ফতোয়া দেওয়ার মতো জ্ঞান,

খ) ন্যায়পরায়ণতা ও তাক্বওয়া, এবং

গ) রাজনৈতিক-সামাজিক দূরদৃষ্টি, বিচক্ষণতা, সাহস, প্রশাসনিক সক্ষমতা ইত্যাদি, এসব গুণের কথা বলে। এই শর্তগুলো ব্যাখ্যা/প্রয়োগে অনেক “বিবেচনাধর্মী স্পেস” আছে, ফলে “উপযুক্ত” বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও সংজ্ঞায়িত হতে পারে।

তৃতীয়ত, অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব (আর্টিকেল ১১১): নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত একটি তিন সদস্যের কাউন্সিল সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বগুলো সাময়িকভাবে নেবেঃ

১) রাষ্ট্রপতি,

২) বিচার বিভাগের প্রধান, এবং

৩) Guardian Council-এর একজন ফক্বিহ/জুরিস্ট—যাকে Expediency Council নির্বাচন করবে। সংবিধান এটাও বলে, এই তিন জনের কেউ অক্ষম হলে Expediency Council বিকল্প বেছে নেবে।

এখনকার রিপোর্টিংয়ে অন্তর্বর্তী ভারপ্রাপ্ত কাঠামোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিচার বিভাগীয় প্রধান হিসেবে গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই, এই দুইটি নাম ধারাবাহিকভাবে এসেছে; তবে তৃতীয় সদস্য (Guardian Council-এর মনোনীত ফক্বিহ/জুরিস্ট) এ লেখার সময় পর্যন্ত বহু মূলধারার প্রতিবেদনে নামটি স্পষ্টভাবে স্থির/এক নামে সর্বসম্মতভাবে রিপোর্ট হয়নি।

বাস্তব ক্ষমতার কেন্দ্র - কাগজে যা, মাঠে যাঃ “সর্বোচ্চ নেতা” পদটি কেবল ধর্মীয় মর্যাদা নয়; সংবিধান তাকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কসহ রাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ/নীতিতে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব দেয়। এই ক্ষমতার চরিত্রের কারণেই উত্তরসূরী প্রশ্নে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবে ‘কিংমেকার’ হয়ে ওঠে।

Islamic Revolutionary Guard Corps প্রসঙ্গে বহু বিশ্লেষণধর্মী সূত্রে উল্লেখ আছে যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং রাজনীতি-অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই বড়; ফলে “কারা নেতা হবেন” প্রশ্নে তাদের অবস্থান কার্যত নির্ণায়ক হতে পারে।

একইভাবে Guardian Council শুধু আইন যাচাইই করে না; নির্বাচন তদারক/প্রার্থী বাছাই (vetting) প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবিধান অনুযায়ী কাউন্সিলের অর্ধেক সদস্যকে (৬ জন ফক্বিহ) নেতা মনোনীত করেন; বাকি ৬ জন জুরিস্টকে বিচার বিভাগীয় প্রধান মনোনয়ন দেন এবং পার্লামেন্ট নির্বাচিত করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো “সেল্ফ-রিপ্রোডিউসিং” কাঠামোর মতো কাজ করতে পারে।

Assembly of Experts সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান নির্বাচক হলেও গবেষণা-ভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিকভাবে খুব কমই সর্বোচ্চ নেতাকে “চ্যালেঞ্জ” করেছে; সভা কম হয়; আর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

এই পটভূমিতে “উপযুক্ত কে” এটা শুধু ধর্মীয়/আইনি যোগ্যতার প্রশ্ন নয়; বরং ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সমঝোতা এবং যুদ্ধকালীন বাস্তবতার প্রশ্নও।

সম্ভাব্য উত্তরসূরী কারা? যা বলা যায়, এবং কেন বলা যায়ঃ

নিচে যে নামগুলো দেওয়া হলো, এগুলোকে “নিশ্চিত তালিকা” নয়; বরং মিডিয়া-রিপোর্টিং + বিশ্লেষক/থিঙ্কট্যাঙ্ক আলোচনা অনুযায়ী “শীর্ষে আলোচিত সম্ভাব্যতা” হিসেবে ধরতে হবে। যেহেতু চলমান হামলা/রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় কার জীবন/অবস্থান প্রতিদিন বদলাতে পারে, তাই প্রতিটি নামের পাশে “কেন সম্ভাব্য” এবং “কেন অনিশ্চিত” দুটি দিকই রাখা হলো।

মুজতবা খামেনিঃ অনেক বিশ্লেষণে মুজতবা খামেনি-কে “ধারাবাহিকতা/continuity” ধাঁচের সম্ভাব্য উত্তরসূরী বলা হয়, তার নিরাপত্তা কাঠামোর সাথে যোগাযোগ/প্রভাব, এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অদৃশ্য ক্ষমতার ধারণার কারণে। তবে বড় বাধা হিসেবে বারবার এসেছেঃ

ক) পিতা-থেকে-পুত্র উত্তরাধিকার ধারণাটি ১৯৭৯ পরবর্তী বিপ্লবী রাষ্ট্রচিন্তায় বিতর্কিত, খ) ধর্মীয় হায়ারার্কিতে তাকে ‘শীর্ষ স্তরের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ’ হিসেবে দেখার প্রশ্নে মতবিভেদ,

গ) জনমত/বিরোধী প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি।

অতিরিক্ত অনিশ্চয়তাঃ কিছু প্রতিবেদনে ইসরায়েলি পক্ষ তার/পরিবারের অন্য সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বললেও, সে বা অন্যান্য পুত্ররা নিশ্চিতভাবে নিহত এমন সর্বসম্মত নিশ্চিত রিপোর্ট এই মুহূর্তে নেই (কিছু সূত্রে “বেঁচে আছে” মূল্যায়নও এসেছে)।

হাসান খোমেনিঃ হাসান খোমেনি-এর ক্ষেত্রে মূল যুক্তি হলো বিপ্লবী বংশগত ‘লিগেসি’ সে রুহুল্লাহ খোমেনি-র নাতি হওয়ায় প্রতীকী বৈধতা (legitimacy) আনতে পারে।

তবে সন্দেহ/ঝুঁকিঃ তাকে “তুলনামূলক কম হার্ডলাইন/কম্প্রোমাইজ” হিসেবে দেখা হলে নিরাপত্তা কাঠামোর পূর্ণ আস্থা পাবে কি না সে প্রশ্ন থাকে; অতীতে তাকে প্রতিষ্ঠানগত রাজনীতিতে বাধা দেওয়ার উদাহরণও আলোচনায় আসে।

আলিরেজা আরাফিঃ আলিরেজা আরাফি-কে ঘিরে যুক্তি - সে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা/হাওজা নেটওয়ার্কে প্রভাব, এবং শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংযোগের কারণে “ব্যবস্থা-স্বীকৃত” পছন্দ হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু রিপোর্টে তাকে Assembly of Experts-এর নেতৃত্ব কাঠামোর কাছাকাছি অবস্থানে দেখানো হয়েছে।

দুর্বলতাঃ সে “জনপরিচিত রাজনৈতিক ভারকেন্দ্র” নয়, এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নেতা হিসেবে “কমান্ড-ওভার-সিকিউরিটি” বাস্তবে কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এ নিয়ে প্রশ্ন আছে।

হাসেম হোসেইনি বুশেহরিঃ হাসেম হোসেইনি বুশেহরি-কে Assembly of Experts-এর মতো উত্তরসূরী-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের ভেতরের “ইনস্টিটিউশনাল সিনিয়র” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, ফলে সে একটি “কম সংঘাতপূর্ণ” (managed) পছন্দ হতে পারে।

ঝুঁকিঃ তার Islamic Revolutionary Guard Corps-এর সাথে দৃশ্যমান ঘনিষ্ঠতার ঘাটতি যদি সত্য হয়, তাহলে ক্ষমতার “হার্ড সিকিউরিটি” স্তরের সমর্থন কতটা পাবে তার অনিশ্চয়তা থাকে।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরিঃ কিছু তালিকায় মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি-কে হার্ডলাইন ধর্মীয় ধারার প্রতিনিধি হিসেবে সম্ভাব্য উত্তরসূরি বলা হয়েছে, বিশেষ করে যদি রাষ্ট্র কাঠামো যুদ্ধ/বিদেশি চাপের মুখে “আরও কট্টর নিরাপত্তা-রাষ্ট্র” দিকে যায়।

ঝুঁকিঃ অতিরিক্ত কট্টর ভাবমূর্তি সমাজে নতুন প্রতিরোধ উসকে দিতে পারে; আর আন্তর্জাতিক চাপ/বিচ্ছিন্নতা তীব্রতর হতে পারে যা যুদ্ধকালীন-পরবর্তী পুনর্গঠনে বাধা।

“কিংমেকার” যারা হয়তো নেতা নন, এই পর্যায়ে কিছু নাম “নেতা” হিসেবে নয়, বরং ট্রানজিশন ম্যানেজার/কিংমেকার হিসেবে বেশি বাস্তবসম্মতঃ

আলি লারিজানি-কে (বেঁচে থাকা এক শীর্ষ বেসামরিক নেতা হিসেবে) উল্লেখ করেছে Axios; এবং একাধিক প্রতিবেদনে তাকে সংকট-ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ নীতি-কেন্দ্রের কাছে দেখা হচ্ছে। তবে সে ধর্মীয় ফক্বিহ ভিত্তিক সাংবিধানিক “লিডার” পদে সরাসরি উপযুক্ত নাও হতে পারে, তবুও ট্রানজিশন আর্কিটেকচারে প্রভাবশালী হতে পারে।

গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই—সংবিধানের অন্তর্বর্তী কাউন্সিলে তার কেন্দ্রীয় উপস্থিতির কারণে “ক্ষমতার মেরুদণ্ডে” থাকবে; কিন্তু একাধিক বিশ্লেষণেই ইঙ্গিত আছে যে সে “সোলো সর্বোচ্চ নেতা”র চেয়ে “কাউন্সিল/সমঝোতায়” বেশি মানানসই ভূমিকা নিতে পারে।

সম্ভাব্য দৃশ্যপট, সামনে কী কী রাস্তা খোলাঃ

সংক্ষিপ্তভাবে, বর্তমান তথ্যভিত্তিতে চারটি পথকে “সবচেয়ে সম্ভাব্য” হিসেবে দেখা যায়, এগুলো পরস্পরকে বাদ দেয় না; এক পথ থেকে আরেক পথে দ্রুত সরে যাওয়াও সম্ভব।

প্রথম পথঃ ম্যানেজড সাকসেশন (দ্রুত সাংবিধানিক রূপ): Assembly of Experts দ্রুত বসে একটি নাম “রেটিফাই” করে দেয় এবং এটিকে শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই ধরনের ধারণা আগেও রিপোর্ট হয়েছে যে উত্তরসূরী পরিকল্পনা গোপনে চলছিল।

দ্বিতীয় পথঃ সমঝোতাভিত্তিক ‘মাঝারি মুখ’ (Moderate-facing) নেতা, আন্তর্জাতিক চাপ কমানো ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ সামলাতে তুলনামূলক “কম্প্রোমাইজ” টাইপ কাউকে আনা হতে পারে, এখানে হাসান খোমেনি জাতীয় প্রতীকী বিকল্প আলোচনায় এসেছিল।

তৃতীয় পথঃ একটি দুর্বল নেতা + শক্তিশালী নিরাপত্তা-রাষ্ট্র, একজন তুলনামূলক কম পরিচিত/কম স্বাধীন ক্ষমতাসম্পন্ন ধর্মীয় নেতাকে সামনে রেখে বাস্তবে Islamic Revolutionary Guard Corps এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো শাসনকেন্দ্র দখলে রাখতে পারে এ ধরনের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের ভাষ্যে দেখা যায়।

চতুর্থ পথঃ সমষ্টিগত/কাউন্সিল-ধাঁচের কর্তৃত্ব বিস্তার, কিছু বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি-নির্ভর কাঠামোর বদলে “ডাইলিউটেড” বা বেশি সমষ্টিগত ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা হতে পারে, বিশেষ করে যদি শীর্ষ স্তরের ধ্বংসযজ্ঞে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে যায়।

Thursday, February 5, 2026

ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর দাবীদার তারেক রহমান-এর ইছলাম ও ইতিহাস বিকৃতির দায় কার?

ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর দাবীদার তারেক রহমান-এর ইছলাম ও ইতিহাস বিকৃতির দায় কার?

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি একটি বক্তব্যে ইছলামের ইতিহাস সংক্রান্ত এমন কিছু দাবি করেছেন, যা কেবল ভুল নয় বরং সচেতন বা অসচেতনভাবে ইতিহাস বিকৃতির পর্যায়ে পড়ে। বিষয়টি এখানে ব্যক্তিগত মতামতের নয়; বরং এটি তথ্য, ইতিহাস ও ধর্মীয় সততার প্রশ্ন।

তারেক রহমানের বক্তব্যটা কেবল “ভুল বলা” পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়সমস্যা হলোঃ কে এই ভুল বলছেন, কোন জায়গা থেকে বলছেন, আর কোন নৈতিক অবস্থান নিয়ে বলছেন

তারেক রহমান কোন সাধারণ রেন্ডম বক্তা ননতিনি একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাএকই সঙ্গে তিনি এমন একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি, যারা ইতিহাসের প্রশ্নে অস্বাভাবিক রকম সংবেদনশীলজিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে যখন ভিন্ন ব্যাখ্যা হাজির হয়, বিএনপি তখন যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারও অজানা নয়সেখানে তারা যখন স্পষ্ট ভাষায় ইতিহাস বিকৃতি করে তা কি মানা যায়?

এখানে একটি রাজনৈতিক তুলনা না টানলে বিষয়টির প্রকৃত গভীরতা বোঝা যাবে না। তারেক রহমান হলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে আসছে। এই দাবিকে যখন আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে চ্যালেঞ্জ করে, তখন বিএনপি শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা এটিকে ইতিহাস বিকৃতি, রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং শহীদের অসম্মান বলে আখ্যায়িত করে।

ঠিক এখানেই প্রশ্নটা উঠে আসেঃ যারা নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাস বিকৃত হলে মানতে নারাজ, তারা যখন ইছলামের ইতিহাস নিয়ে কথা বলেন, তখন কি একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে না? একজন মুছলিম কি তখন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে? যে দল নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রশ্নে এতটাই সংবেদনশীল, তারা যদি ইছলামের ইতিহাস বিকৃত করে, তাহলে একজন মুছলিম কেন সেটি মেনে নেবে? রাজনৈতিক ইতিহাসের বিকৃতি যদি অগ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে নবী, ছ্বহাবা ও উম্মুল মু’মিনীনদের ইতিহাস বিকৃতি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হয়?

এখন আসা যাক বক্তব্যের মূল দুইটি দাবির দিকে।

প্রথমত, তারেক রহমান বলেছেন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার সম্মানিতা (আহলিয়া) স্ত্রী হযরত খাদিজাতুল কুবরা য়ালাইহাছ ছালাম ছিলেন একজন “কর্মজীবী নারী”। এটি ইছলামের ইতিহাসকে আধুনিক পুঁজিবাদী শব্দভাণ্ডারের ভেতর জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়ার একটি মারাত্মক অপচেষ্টা। এমনকি এই শব্দচয়নটাই বলে দেয় এটা ইতিহাস বর্ণনা নয়, বরং আধুনিক আইডিওলজি চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা

ইছলামের ইতিহাসে আম্মাজান খাদিজাতুল কুবরা য়ালাইহাছ ছালাম কখনোই সেই অর্থে “কর্মজীবী নারী” ছিলেন না, যে অর্থে আজ এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তিনি অফিসে চাকরি করতেন না, কোনো কর্পোরেট কাঠামোর অংশ ছিলেন না, শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকারী কোনো ক্যারিয়ারিস্ট ফিগার ছিলেন না। ইছলামের ইতিহাসে উনাকে কখনোই কর্মজীবী নারী, বিজনেসওম্যান বা আধুনিক পুঁজিবাদী পরিভাষায় সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। উনাকে এই পরিচয়ে উপস্থাপন করা মানে বর্তমান সময়ের ক্যাটাগরি দিয়ে অতীতকে জোর করে মাপা

তিনি ছিলেন একজন সম্মানিতা সম্পদশালী নারী, যিনি মুদারাবাভিত্তিক বিনিয়োগে সম্পৃক্ত ছিলেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইছলাম গ্রহণের পর তিনি নিজের সমস্ত সম্পদ ইছলামের জন্য উৎসর্গ করে দেন। উনার মর্যাদা কখনোই “উপার্জন” বা “ইনভেস্টমেন্ট” দিয়ে নির্ধারিত হয়নি। উনার শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা কখনোই অর্থনৈতিক সক্রিয়তায় নির্ধারন হয়নি; বরং নির্ধারত হয়েছে উনার ত্যাগ, আখলাক, এবং রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন দ্বারা

হযরত খাদিজাতুল কুবরা য়ালাইহাছ ছালাম-কে আজকের “ওয়ার্কিং উইমেন” ফ্রেমে ঢোকানো মানে উনার পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু সরিয়ে ফেলাএটি ইতিহাস ব্যাখ্যা নয়, এটি ইতিহাসকে নিজের প্রয়োজনমতো রি-ডিজাইন করা রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার সম্মানিতা আহলিয়া আমাদের সম্মানিতা আম্মাজান উনার উপর আধুনিক পুঁজিবাদী পরিভাষা চাপিয়ে দেওয়া কেবল তথ্যগত ভুলই নয়; বরং এটি উনার ব্যক্তিত্ব, অবস্থান ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে বিকৃত করে উপস্থাপন করার শামিল। সহজ ভাষায় বললে, এটি অপবাদমূলক ফ্রেমিং।

আম্মাজান হযরত খাদিজাতুল কুবরা য়ালাইহাছ ছালাম ইছলামের ইতিহাসে পরিচিত ছিলেন “ত্বাহিরা” অর্থাৎ পবিত্রা হিসেবে। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন উনার তাক্বওয়া, আহাল (স্বামীর) প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও খেদমতের কারণে। তিনি কষ্ট করে পাহাড় বেয়ে খাবার নিয়ে যেতেন রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম উনার জন্য। উনার মর্যাদা গঠিত হয়েছে ঈমান, দ্বীনের জন্যে ত্যাগ ও দাম্পত্য আনুগত্যের মাধ্যমে, কোনো আধুনিক কর্মজীবী পরিচয়ের মাধ্যমে নয়। স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা জিব্রাঈল য়ালাইহিছ ছালাম দ্বারা উনাকে ছালাম দিয়েছেন যার দৃষ্টান্ত বিরল নারী জাতির পুরো হিউম্যান ইতিহাতে।

দ্বিতীয়ত, তারেক রহমান দাবি করেছেনঃ বদরের যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হযরত আঈশা ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ ছালাম। এটি নিঃসন্দেহে একটি মারাত্বক তথ্যগত ভুল।

ঐতিহাসিকভাবে এটি সুস্পষ্ট যে হযরত আঈশা ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ ছালাম বদরের যুদ্ধে সম্পৃক্ত ছিলেন না, কেননা সেসময় তিনি উপযুক্তই ছিলেন না। বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয় হিজরি দ্বিতীয় সনে, যখন উনার বয়স ও জীবনপরিস্থিতি বিবেচনায় এমন কোনো ভূমিকার প্রশ্নই ওঠে না। সাধারণত উহুদ ও পরবর্তী কিছু যুদ্ধে নারীদের সেবামূলক কাজের বর্ণনা পাওয়া যায়, কিন্তু বদরের যুদ্ধে নয়।

বিএনপির অনেকে হয়তো বলবে, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। তর্কের খাতিরেও যদি ধরে নেই এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল, তাহলেও যেটা স্পষ্ট হবে সেটা হলো এই বক্তব্যের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক-সামাজিক ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, হযরত আঈশা ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ ছালাম উষ্ট্রের যুদ্ধে সম্পৃক্ত ছিলেন, কিন্তু কখনোই নেতৃত্বের অর্থে নয়। তিনি কোনো সেনাপতি ছিলেন না, কোনো কমান্ডার ছিলেন না, সম্মুখযুদ্ধ পরিচালনাকারী তো নয়ই। তিনি সেখানে ছিলেন একজন সম্মানিতা ফিগার হিসেবে, উনার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও অবস্থানের কারণে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোঃ হযরত আঈশা ছিদ্দিকা য়ালাইহাছ ছালাম উনার জীবনের পরবর্তী সময়ে এই যুদ্ধে সম্পৃক্ত থাকার জন্য সারা জীবন আফসোস করেছেন। তিনি কখনোই এটিকে গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখেননি, না প্রতিষ্টা করতে চেয়েছিলেন কখনো তারেক রহমান সাহেবের মতো। বরং এটিকে নিজের জীবনের একটি ইজতিহাদি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবেই মনে করেছেন সবসময়।

অথচ আজ কোন মানুষ যদি এই ঘটনাকে ব্যবহার করে নারী নেতৃত্বের পক্ষে ধর্মীয় রেফারেন্স দাঁড় করাতে চায়। এটি দুঃখজনক, এবং বললে অত্যুক্তি হবে না, বরং প্যাথেটিক।

আমাদের বদনসিব হচ্ছে মুছলিম প্রধান এই দেশের কোন রাজনৈতিক নেতাই সম্মানিত দ্বীন ইছলামের আলোকে কখনো রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা করে না। মানুষের বিশ্বাস, আক্বিদা ও মূল্যবোধকে তারা গুরুত্ব দেয় না। উল্টো প্রয়োজন অনুসারে ধর্মকে ব্যবহার করে, আর সুযোগ পেলেই তার বিকৃতি ঘটায়।

আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, যেহেতু আমরা হাক্বিকি ক্বুরআন ছুন্নাহ এর অনুসারী, দুনিয়াবি রাজনীতির সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই, তাই আপনারা যেভাবে ইচ্ছা রাজনীতি করুন। আপনারা নারীদের নেতৃত্ব দিয়ে আসমানে তুলতে চান তুলুল, সেটা নিয়ে লুকোচুরি করার দরকার নাই, সরাসরিই তা বলুন। আপনারা পশ্চিমা ন্যারেটিভ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান সেটাও স্পষ্টভাবে বলুন। কিন্তু দয়া করে ইছলামকে আপনাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার একমাত্র টার্গেট বানাবেন না।

ইছলাম কারো প্রোপাগান্ডা টুল নয়। ইছলামিক বিষয়-আশয় যারা ইছলামকে জানে, মানে, বিশ্বাস ও য়া’মল দিয়ে ধারণ করে, সেই বিষয়গুলোর ফায়সালা কেবলই তাদের উপর ছেড়ে দিন।

নচেৎ একটি ভয়াবহ অশনিসংকেত সামনে দেখতে পাচ্ছি। ইতিহাস সাক্ষী আগুন নিয়ে খেললে, আগুনের তাপ প্রথমে হাত গরম করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতই পুড়িয়ে দেয়

এছাড়াও আপনার রিসেন্ট কিছু বক্তব্য অত্যন্ত বিরক্তিকর, যেমনঃ আপনি বলেছেনঃ ফরিদপুরে সয়াবিন বেশি হয়, অথচ বাস্তবতা হলো ফরিদপুরে ভুট্টা বেশি হয় আপনি বলেছেনঃ কুমিল্লাতে ইপিজে করবে অথচ বাস্তবতাঃ হলো কুমিল্লাতে অলরেডি ইপিজে আছে আপনি বলেছেনঃ উত্তরবঙ্গের স্বপ্ন তিস্তাব্যারেজ করবো অথচ বাস্তবতা হলোঃ উত্তরবঙ্গে তিস্তাব্যারেজ আছে আপনি বলেছেনঃ যশোরে পুনরায় চিনিকল চালু করবে অথচ বাস্তবতা হলোঃ যশোরে কোনকালেই চিনিকল ছিলো না আপনি বলেছেনঃ আমাকে ভোট দিনআমি নারীর ক্ষমতায়ন করবো অথচ বাস্তবতা হলোঃ আপনার স্ত্রী ডা. জোবায়দা বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রথম হয়েও এখন গৃহিণীকোন প্রফেশনাল হিসেবে ডাক্তারি করেন নাআপনার মেয়ে জাইমা ব্যারিস্টার হওয়ার পরেও কোথাও আইন প্র্যাক্টিস করে নাএদেশে একজন মানবীক নারী ডাক্তার, নারী ব্যরিষ্টার পাওয়া স্বপ্নের মতো অথচ আপনি নিজের ঘরে সেটা প্রতিষ্টা করেননি, সেখানে বাহীরে করবেন গ্যারান্টি দেওয়া কি লজিক্যাল?

যাইহোক, আপনাকে আরো তথ্যনির্ভর নেতা হতে হবে, নাহলে আজকে দেশের মানুষ হাসছে, কালকে দুনিয়া আসবে, কারণ আপনি যখন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বক্তব্য দিবেন, তখন বিদেশিরা আপনার বক্তব্যের বিরোধিতার আগে এটা ভাব্বেনা আমি তো বাংলাদেশে থাকি উনার ভুলের বিপরীতে আমি যদি কিছু বলি তাহলে উনার দলের লোকেরা আমাকে হয়রানি করবে, মারধর করবে, মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেবে, বরং আপনাকে উল্টাপাল্টা ইতিহাসবিকৃতীর কারনে ভাঁড় সাজিয়ে দেবে, একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হবে এমন যার হক্ব কথার সামনে বিরোধী হয় কেটে দুই ভাগ হবে নতুবা তাসলীম হবে।

পরিশেষে এটাও বলবো, যে জনাব তারেক রহমান, বাংলাদেশের মানুষের ৯৫% মুছলমান এবং অধিকাংশই ছুন্নী, যাদের মধ্যে খুব অল্প পরিমাণে জামায়াত (অহাবী মৌদুদিপন্থী), জামায়াতের বিরোধিতা করেন ভালো কথা, কিন্তু এর জন্যে ইছলাম কে টার্গেট ব্যবহার করা ছেড়ে দিন, জামায়াত ইছলামের কোন ঠিকা নেয়নি, আওয়ামীলীগের পতন হয়েছিলো যুলুমের কারনে, আর সবচেয়ে বড় যুলুম হলো খোঁদার সাথে যুলুম করা, আর ইছলামের বিপরীতে প্রত্যেকটা কাজই খোদার উপর যুলুমের নামান্তর। আপনি হয়তো আগামিতে ক্ষমতায় চলে আসবেন, প্রধানমন্ত্রী হবেন, তবে সেটাও সর্বচ্চো হলে হাছিনার মতো ১৫/২০ বছর, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান আল্লাহ পাক, এটা ভুলে যাবেন না, আপনার উচিৎ ভুল বক্তব্যের বিপরীতে রুজু হওয়া, মানুষকে জানিয়ে দেওয়া আমার তথ্যে ভুল ছিলো আমাকে ক্ষমা করবেন বাংলাদেশের মুছলিমগণ।

Wednesday, August 21, 2024

শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়ানক ইসলাম বিদ্বেষী সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা এস মুরশিদ, পদত্যাগ জরুরি

শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়ানক ইসলাম বিদ্বেষী সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা এস মুরশিদ, পদত্যাগ জরুরি

সম্প্রতি ভারতের কলকাতার আর জি কর হাঁসপাতালের চিকিৎসক মৌমিতাকে ধর্ষণ করে হত্যার প্রতীবাদে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে একটি সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবন চত্বর থেকে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে আসে তারা। সমাবেশ উপস্থিত নারীবাদিরা বলে, ৫৪ বছর ধরে যে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তা নাকি নারীবান্ধব নয়। আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব কাঠামোই পিতৃতান্ত্রের নাকি শিকার। ১৬ই আগষ্ট রাতে আয়োজিত সেইদিনের শেষ প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত হয় অন্তরবর্তিকালিন সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা এস মুরশিদ। কথিত এই নারীবাদী উপদেষ্টা উপস্থিত নারীদের কাছে একটি প্রস্তাব দেওয়ার দাবী রাখে, দাবী পেশ করলে নাকি অন্তরবর্তিকালিন সরকার সেই দাবী দাওয়া বাস্তবায়নে ঝাপিয়ে পড়বে সে আরো বলেছে, তোমরা যদি রাস্তায় থাকো, তাহলে আমিও রাস্তায়। তোমরা যদি অনিরাপদ হও, তাহলে নিরাপত্তাহীনতা কীভাবে দূর করব, তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। যে সরকার হয়েছে, তা তোমাদের সরকার। আমি তোমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই। হোয়াট? যে সরকার হয়েছে, তা তোমাদের সরকার? হাও নুইসেন্স? ছাত্র জনতা কি এইসব ইসলাম বিরোধী, ধর্ম বিরোধী, কুরআন বিরোধী, পুরুষ বিরোধী দাবী দাওয়া বাস্তবায়নের জন্যেই প্রান দিয়েছে আর হাঁসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফেমিনিষ্ট আনিয়া ফাহমিন দাবী করে, নারী শিক্ষার্থীদের রাত ১০টার মধ্যে হলে প্রবেশের এক সামন্ত্রতান্ত্রিক প্রথা চালু রয়েছে। আমাদের এসব সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ফেমিনিষ্ট তানিয়া মাহমুদা তিন্নি বলেছে, ৫৪ বছর ধরে যে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তা নাকি নারীবান্ধব নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই নাকি নারীবান্ধব নয়।

অতঃপর সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফেমিনিষ্ট নুজিয়া হাসিন রাশার সঞ্চালনায় একটি অবস্থানপত্র পাঠ করে আরেক ফেমিনিষ্ট শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। অবস্থানপত্রে সে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে, দাবিগুলো হলোঃ-

১) তনু মুনিয়াসহ প্রতিটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে।

২) নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে।

৩) ধর্ম, গোত্র, বর্ণের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রতিটি লিঙ্গের মানুষের সম্পত্তিতে সমানাধিকার দিতে হবে। (সরাসরি কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী)

৪) ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড চালু এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। (এটাও কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী)

৫) সন্তানের অভিভাবকত্ব আইন পরিবর্তন করতে হবে। নারীকে সন্তানের অভিভাবকত্ব দিতে হবে। (এটাও কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী)

৬) ২০০৯ সালের হাইকোর্ট নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি ও সেল তৈরি এবং কার্যকর করতে হবে।

৭) নারী, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী এবং ভিন্ন লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষের প্রতিনিধিত্বের জন্য যৌক্তিক অনুপাতে কোটা বরাদ্দ দিতে হবে। (এটাও কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী, এবং সমকামিতা প্রচারের লাইসেন্স)

৮) ১৮৬০ সালে গর্ভপাতের আইন বাতিল করতে হবে। নারীকে গর্ভপাতের পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। (এটাও কুরআন বিরোধী কুফরি দাবী)

৯) নারী ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষের জন্য সমান কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে এবং নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। (এটা তো এই গণঅভ্যুথানের মূলনীতিরই বিপরীত, চাকুরী হবে মেধার ভিত্তিতে)

১০) প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষের রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্রে তার লৈঙ্গিক পরিচয়ের স্বীকৃতি দিতে হবে। (সমকামীদের বৈধতার লাইসেন্স, প্রাকৃতিক লিঙ্গ ব্যতীত আর্টিফিশিয়াল লিঙ্গ ধারণ করাই হারাম কুফরি)।

১১) সব প্রকার লৈঙ্গিক বৈষম্যকারী আইন বাতিল করতে হবে। (সামাজ বিরোধী দাবী)

১২) বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে হবে।

১৩) আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে রাষ্ট্রীয় সব পর্যায়ে নারীর ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। (এটা তো এই গণঅভ্যুথানের মূলনীতিরই বিপরীত, চাকুরী হবে মেধার ভিত্তিতে)

এই দেশ যদি মুছলিমের হয়, দেশের মানুষ যদি ধর্মকে ইসলাম হিসেবে মেনে নেয়, যারা মারা গেছে তারা যদি মুছলিমদের সন্তান হয়ে থাকে, আবারো দ্বীন বিরোধী সমাজ ব্যবস্তা যদি বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় না চায় তাহলে এখুনি ভয়ানক ইসলাম বিদ্বেষী সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা এস মুরশিদের পদত্যাগের দাবী তোলা হোক, ছাত্র জনতা আলীম সমাজের পক্ষ থেকে, এদের যদি মূলেই নির্মুল না করা হয় তাহলে কিন্তু চরম মুল্য দিতে হবে।

Tuesday, August 13, 2024

   হাসিনাকে ফেরত আসতে আহ্বান আওয়ামী দালাল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের, কারণ কি জানেন?

হাসিনাকে ফেরত আসতে আহ্বান আওয়ামী দালাল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের, কারণ কি জানেন?

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে অতরবর্তিকালিন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছুপা আওয়ামী দালাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছে, আপনার তো নাগরিকত্ব যায়নি, দেশে ফিরে আসেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে বলছি, আপনি দেশে ফিরে আসেনআপনার নাগরিকত্ব তো চলে যায়নি আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম একটি বড় দলএ দলে অনেক ভালো মানুষ আছে, তাদের অনেককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি আমি আঙ্গুলে গুনে এখনী চাইলে তাদের নাম বলতে পারি, অথচ তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেআপনারা দল গোছান, আপনারা তো নিষিদ্ধ না গতকাল সোমবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলে এই দালাল খুনীদের সহমর্মী

এখন এই কথা সে কেনো বলতেছে? কিসের ভিত্তিতে? কিসের টানে? যাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা ফরজ, যার দলকে নিষিদ্ধ করা ফরজ তাকে উল্টো নববধূর মতো ট্রিট করতে চায় কেনো এই দালাল?

এটা হলো হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে আনুগত্যের ম্যাসেজ, হাসিনাকে স্বরন করীয়ে দেওয়া যে আপনি পালিয়ে থাকবেন কেনো? বরং আপনি দেশে আসলেই ভালো, আপনাকে জুডিশিয়াল প্রসেডিং এ রাখা হবে না, আপনার বিচারও হবে না। দেশের মূর্খ নাগরিক আবেগে আপনার শাস্তি দাবী করলেই কি আর না করলেই কি, আপনি আসলে তারা যা চাচ্ছে তার কিছুই হবে না।

এর মূল কারণ আপনাকে বলে দিচ্ছি, এখনো আওয়ামিলীগপন্থী প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেনি, জেনারেলরাও বরখাস্ত হয়নি, ওসিরাও বরখাস্ত হয়নি, এমনকি আমি আপনার পন্থী কনস্টেবলদেরকেও বরখাস্তে রাজি নই।

আপনি কি ভুলে গেছেন? আপনি নিজেই তো আইন বানাই গেছেন ২০০৯ সালে। আপনার সেই আইনটার নাম, কথিত “জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯” আপনি কি ভুলে গেছেন সেই আইনে কি কি আছে?

(১) “জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯” এর ২ নং ধারায় বলা হচ্ছে, “পরিবারের-সদস্য” বলতে জাতির পিতার জীবিত দুই কন্যা (অর্থাৎ শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানা) এবং তাঁদের সন্তানাদি, ৩ নং ধারায় এই আইনকে প্রাধান্য দিয়ে বলা হচ্ছে, আপাতত জারি আছে এমন অন্য আইনে যা ই থাকুক না কেন এই আইন কার্যকর হবে।

আইনের ৪ (১) ধারায় বলা হচ্ছে, (Special Security Force Ordinance, 1986 (Ordinance No. XLIII of 1986) এর অধীন Very Important Person এর জন্য যেরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে সেইরকম নিরাপত্তা সরকার জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণকে আজীবন সর্বস্থানে প্রদান করবে।

৪ (২) এ বলা হচ্ছে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার পরিবার-সদস্যগণের মতামতকে প্রাধান্য দিবে

৪ (৩) এ বলা হচ্ছে, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সরকারঃ-

(ক) তাঁদের দ্বারা নির্ধারিত শর্তে উক্ত পরিবার-সদস্যগণের প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; এবং

(খ) সেসব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাবলিও তাদেরকে প্রদান করবে

(২) এখন এইখানে আরেকটা ব্যাপার আছে, Special Security Force Ordinance, 1986” এই অধ্যাদেশ টা বাতিল হয়ে গেছে এবং আরো শক্তিশালী করার জন্য “বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (Special Security Force) আইন, ২০২১” বানানো হয়েছে এই আইনের ২ নং ধারার ক, গ, ঙ এর সাথে এই লেখার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক, তাই এই তিনটা ই দিচ্ছি

২ নং ধারায় বলা হচ্ছে, বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনেঃ-

(ক) ‘‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’’(VIP) অর্থ সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধান এবং এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, অনুরূপ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষিত অন্য কোনো ব্যক্তিও এই আইনের অন্তর্ভুক্ত হবেন;

(গ) ‘‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর পরিবারের সদস্যগণ’’ অর্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দুই কন্যা এবং তাঁদের সন্তানাদি ও ক্ষেত্রবিশেষে তাঁদের সন্তানাদির স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তানাদি;

(ঙ) ‘‘বাহিনী’’ অর্থ বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (Special Security Force)

অর্থাৎ,

২০০৯ ও ২০২১ এর আইন দুইটা থেকে সারমর্ম হলো, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স দ্বারা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাদের উত্তরসূরীদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং নিরাপদ বাসস্থান এ তাদেরকে সুরক্ষা প্রদান করা হবে”।

এ অবস্থায় তাকে দেশে আনার জন্য চাপ দেওয়া মূলত দেশের ছাত্র জনতা ও বিপ্লবীদের বিপ্লবকে আবারো স্বৈরাচারী খুনি হাসীনার সন্ত্রাসলীগ ও প্রশাসনলীগের হাতে তোলে দেওয়ার নীল নকসা ব্যতীত মনে করার কিছুই নাই। হে ছাত্রজনতা, হে যুব সমাজ, তোমরা শাহাদাৎ এর বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা বেহাত হতে দিওনা।

Saturday, August 3, 2024

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্রকরে আওয়ামীলীগের গণহত্যার ব্যপারে ফতওয়া

কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্রকরে আওয়ামীলীগের গণহত্যার ব্যপারে ফতওয়া

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের কোটা বিরোধী শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রীদের নির্দেশে, বাংলাদেশের মুছলিম শিশু, কিশোর, যুবক, নারী, বৃদ্ধ বৃদ্ধার উপরঃ “ছাত্রলীগ, পুলিশ, রেব, আর্মি বিডিয়ার, মিলে যে গণহত্যা চালিয়েছে, মেরেছে, মরেছে, তাদের উপর ইছলামিক শরীয়ত উনার ফতওয়া কি? তারা কি আদৌ মুছলিম বলে গন্য হচ্ছে ইছলামিক শরীয়ত অনুসারে? দয়া করে এর উপর আপনার ফতওয়া পেশ করবেন, কোন মুফতিই এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ তাই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।

وَعَلَيْكُمُ ٱلسَّلَامُ وَرَحْمَتُ ٱللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ

উত্তরঃ বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে, বাংলাদেশ বিষয়ক দেশি বিদেশি বিশ্লেষকদের মতামত, চলমান ঘটনার উপর শত শত ভিডিও, হাজার হাজার ছবি, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য মিডিয়ার নিউজ ও আমার বিশ্বস্ত সকল অনুসারীদের থেকে প্রাপ্ত সরাসরি জবানবন্দী দ্বারা যে বিষয়গুলি পাওয়া গেছে তা হলোঃ

১) বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ মেধার ভিত্তিতে চাকুরিপ্রাপ্তির দাবী জানিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেছিলো, যেখানে তাদের হারাম রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা ছিলো না।

২) কথিত আওয়ামী সরকার তাদের শান্তিপূর্ণ সেই দাবীকে কবুল তো করেনাই, উল্টো বাংলাদেশের কথিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ও বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ. আরাফাত সহ অনেক মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও তাদের অঙ্গসংঘটন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগকে নিরীহ নিরপরাধ অধিকার আদায়ের সংগ্রামী সকল ছাত্রদের উপর এজিদি হামলার নির্দেশ প্রদান করে।

৩) কথিত সরকারের গুন্ডাবাহিনী যখন নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্রদের আক্রমণ করে তখন ছাত্ররা সম্মিলিতভাবে আওয়ামী হানাদার বাহিনীর হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে তারা পালিয়ে যায় পিছু হটে।

৪) কথিত আওয়ামী সরকার তার গুন্ডাবাহিনী দিয়ে যখন ছাত্রদের দমাতে পারেনাই, তখন এইসব মন্ত্রিরা “দেখা মাত্র গুলি করতে” নির্দেশ দেয় পুলিশকে, ফলশ্রুতিতে আবু সাইদকে দিয়ে তাদের গণহত্যার যাত্রা শুরু হয়।

৫) আন্দোলন তীব্র হয়, পুলিশের গুলিতেও যখন নিরস্ত্র ছাত্রসমাজকে থামানো যাচ্ছেনা তখন মাঠে নামানো হয় বিডিয়ার, কিন্তু এদের গুলিতেও তাজা তাজা মুছলিম, অমুছলিম যুবক, বৃদ্ধ এমনকি শিশুদেরও যখন হত্যা করে কোন ফায়দা হয়নি তখন শেষ ভরসা আর্মিকে নামানো হয়।

৬) বাংলাদেশের মানুষের শেষ আশারস্থল আর্মি ও যখন হুকুমের গোলাম হয়ে নিজ দেশের শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতি, বৃদ্ধার বুকে চোখ বন্ধ করে গুলী চালায়, তখন বাংলার আম জনতাও বাধ্য হয়ে ছাত্রদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে।

৭) পরিস্থিতি বেসামাল দেখে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট টানা ৬ দিন ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন সারা বাংলার মোবাইল ব্যবহারকারীরা। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে দিনে রাতে সমানতালে চলে গণহত্যা। কেবল ছাত্রছাত্রীদেরই নয়, বরং দোকানি, পথচারী, দিনমজুর, এমনকি মানুষের বাসায় ঢুকে পর্যন্ত গুলীবর্ষন করা হয়েছে, ফলে শিশু ও বৃদ্ধ পর্যন্ত হত্যার স্বীকার হয়েছেন। এছাড়াও হেলিকপ্টার দিয়েও গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে প্রতিবাদী ছাত্রসমাজের উপর। এমনকি ৯৫% মুছলিমের বাংলাদেশে বেওয়ারিশ হিসেবে জানাযা ছাড়াও করা হয়েছে অসংখ্য দাফন, পুলিশি জুলুম কত কঠিন আকার ধারণ করেছে তা বোঝা যায় অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা জানাযা পড়ানোর কারণে ইমামকে নামাজরত অবস্থায় এরেষ্ট করার দিকে তাকালে।

৮) কথিত সরকারি হিসেবেই ২০০+ মুছলিম, মুমিন, অমুছলিমকে হত্যা করেছে আওয়ামীপন্থীরা, শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রীদের হুকুমে, এই হত্যাযজ্ঞে হাসিনার আনুগত্য প্রকাশে যেনো ত্রুটি না হয় সেকারণে অনেক পুলিশ, রেব, আর্মি, বিজিবিও গণহত্যায় শামিল হয়। যদিও নির্ভরযোগ্য সুত্র বলছে হাজারের উপর বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে, আর হাসপাতালে ২০ হাজারের উপর আহত মুছলিম কাতরাচ্ছেন, কেউবা মৃত্যুর জন্যে প্রহর গুনছেন।

৯) পবিত্র সম্মানিত মুহর্মুল হারাম শরীফের মাসে ইয়াজীদ, ইবন যিয়াদ, শিমার, বাহিনীর কায়িম মাক্বাম হতে কোন ত্রুটি রাখেনি আওয়ামী সরকার ও তাদের পোষা বাহিনীরা।

১০) শেখ হাছিনা ও তার অনুসারী অন্ধ আওয়ামীলীগের কিছু মানুষ ছাড়া এই গণহত্যাকে ভুলক্রমেও কুফর হিসেবে মেনে নিতে রাজি নয়।

১১) সন্তানকে হত্যা করে এখন আবার পিতামাতাকেও হয়রানি করা হচ্ছে যাতে তারা কোন ধরণের মামলা মোকদ্দমায় না যায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের কোন নেতার উপরে।

১২) ক্ষমতার মসনদে বসে থাকার জন্যে যদি পুরো দেশকেও হুমকির মুখে ফেলতে হয় তাহলে তাই করা হবে, তবুও কেউ হক্বের অধিকারে শান্তিপূর্ণ সংগ্রাম পরিচালিত করতে পারবেনা।

জানার বিষয় হলোঃ সরকার বা শাসনব্যবস্থায় কর্তৃত্ব পেলেই কি নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা যাবে? মোটেও না মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ (فَهَلۡ عَسَیۡتُمۡ اِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ اَنۡ تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَ تُقَطِّعُوۡۤا اَرۡحَامَكُمۡ اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ فَاَصَمَّهُمۡ وَ اَعۡمٰۤی اَبۡصَارَهُمۡ) তোমাদের কাছ থেকে এর চাইতে বেশী কি প্রত্যাশা করা যাবে যে, তোমরা (একবার) যদি (জমিনে) শাসন ক্ষমতায় বসতে পারো তাহলে (মহান আল্লাহ তায়ালা উনার) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং যাবতীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে ফেলবে (মূলত) এরাই হচ্ছে সে সব মানুষ, যাদের ওপর মহান আল্লাহ তা’য়ালা লানত দিয়েছেন, (এছাড়াও, তিনি তাদের) বোবাও করে দিয়েছেন (তাই তারা সত্য কথা বলতে পারে না) এবং তাদের তিনি অন্ধও করে দিয়েছেন (তাই তারা সত্য কি তা দেখতেও পায় না) (আল কুরআন ৪৭/২২-২৩)

আওয়ামী লিগের দাবী অনুসারে শেখ হাসিনা ৫ ওয়াক্ত নামাজের পাবন্ধি, তাহাজ্জুদ পড়নে ওয়ালা মুছলিমাহ। যেহেতু আ’লা দরজার মুছলিমাহ বলে দাবি করা হচ্ছে সেহেতু আশা করা যায় যে কুরআন ছুন্নাহ (ছ্বহীহ হাদিছ)-এর অনুসারী। তাই ফায়সালা কুরআন ছুন্নাহ তথা শরীয়ত অনুসারেই দেওয়া হলো। আওয়ামীলীগের মধ্যে কুরআন ছুন্নাহর অনুসারী থাকলে তা নির্দ্বিধায় মেনে নেবে ইনশাআল্লাহ।

নিরপরাধ মানুষকে হত্যাকারী, গণহত্যার হুকুমদাতা খুনীদের গডফাদারদের কেবল দুনিয়াই নয়, বরং আখেরাত ও তাদের বরবাদ হয়ে যায়, যেমনঃ মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ (وَّ یَقۡتُلُوۡنَ الَّذِیۡنَ یَاۡمُرُوۡنَ بِالۡقِسۡطِ مِنَ النَّاسِ ۙ فَبَشِّرۡهُمۡ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ حَبِطَتۡ اَعۡمَالُهُمۡ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ ۫ وَ مَا لَهُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ) আর মানুষের মধ্য থেকে যারা ন্যায়-পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে (যারা) হত্যা করে, (পেয়ারে হাবীব ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম) আপনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিনএরাই হচ্ছে তারা যাদের সমস্ত (নেক) আমল দুনিয়া ও আখেরাতে বরবাদ হয়ে যাবে এবং (সেদিন) তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবেনা। (আল কুরআন ৩/২১-২২)

মহান আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ (وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيْهَا وَغَضِبَ اللهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيْمًا) ‘‘আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, তার মধ্যে সে সারাজীবন থাকবে এবং মহান আল্লাহ্ তায়ালা সেই লোকের প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে লানত প্রদান করবেনএছাড়াও তিনি তার জন্য প্রস্ত্তত করে রেখেছেন মর্মন্ধুত শাস্তি’’। (আন নিছা ৪/৯৩)

(مَنۡ قَتَلَ نَفۡسًۢا بِغَیۡرِ نَفۡسٍ اَوۡ فَسَادٍ فِی الۡاَرۡضِ فَكَاَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِیۡعًا ؕ وَ مَنۡ اَحۡیَاهَا فَكَاَنَّمَاۤ اَحۡیَا النَّاسَ جَمِیۡعًا) যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে হত্যার বিনিময়ে অথবা ভূপৃষ্ঠে ফাসাদ সৃষ্টির কারণ ছাড়া অন্যায়ভাবে হত্যা করলো সে যেন সকল মানুষকেই হত্যা করলোআর যে ব্যক্তি কাউকে অবৈধ হত্যাকান্ড থেকে রক্ষা করলো সে যেন সকল মানুষকেই রক্ষা করলো’’। (আল মায়িদাহ শরীফ ৫/৩২)

আর এই ধরণের হত্যাকান্ডকে হাদীসের পরিভাষায় সর্ববৃহৎ গুনাহ্ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছেযেমন আনাস বিন মালিক রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘সর্ববৃহৎ কবীরা গুনাহ্ হচ্ছে চারটি, “১) মহান আল্লাহ্ তায়ালা উনার সাথে কাউকে শরীক করা, কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে হত্যা করা, (মুমিন) মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষী দেয়া’’। (বুখারী শরীফ ৬৮৭১; মুসলিম শরীফ ৮৮)

তাছাড়া এখন দলিল হিসেবে যা যুক্ত করবো হাদিছ শরীফ থেকে সেই হাদিছ শরীফগুলোতে হত্যাকান্ডের ভয়াবহতা ও ভয়ঙ্করতা আরো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে

মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীর ক্ষমার আশা খুবই ক্ষীণকেননা রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বলেনঃ ‘‘প্রতিটি গুনাহ্ আশা করা যায় যে, মহান আল্লাহ্ তাআলা তা ক্ষমা করে দিবেনতবে দুটি গুনাহ্ যা আল্লাহ্ তাআলা ক্ষমা করবেন নাআর তা হচ্ছে, কোন মানুষ কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে অথবা ইচ্ছাকৃত কেউ কোন মুমিনকে হত্যা করলে’’। (নাসাঈ শরীফ ৩৯৮৪; মুছনাদে আহমাদ ১৬৯০৭; হাকিম ৪/৩৫১)

এতো গেলো অন্যকে হত্যার ব্যাপারে, অথচ আপন সন্তান ও যদি কোন মহিলার গর্ভ ধারণের চার মাস পর দরিদ্রতার ভয়ে তার গর্ভপাত করানোরই হুকুম নাই, কেননা কাউকে অবৈধভাবে হত্যা করার শামিলআব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ ‘‘জনৈক ব্যক্তি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলো, ইয়া রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম! কোন পাপটি মহান আল্লাহ্ তায়ালার নিকট মহাপাপ বলে বিবেচিত? রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম বললেন, মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরীক করা; অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেনসে বললো অতঃপর কি? তিনি বললেন নিজ সন্তানকে (গর্ভে থাকা অবস্থায়) হত্যা করা ভবিষ্যতে তোমার সঙ্গে খাবে বলে। (বুখারী শরীফ ৪৪৭৭, ৪৭৬১, ৬০০১, ৬৮১১, ৬৮৬১, ৭৫২০, ৭৫৩২; মুসলিম শরীফ ৮৬) এই হাদিছ শরীফের মূল হুকুম কালামুল্লাহ শরীফে পাওয়া যায়, যেখানে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বলেনঃ (وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَكُمۡ خَشۡیَۃَ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُهُمۡ وَ اِیَّاكُمۡ ؕ اِنَّ قَتۡلَهُمۡ كَانَ خِطۡاً كَبِیۡرًا) দরিদ্রতার ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে (ভ্রুনেই) হত্যা করো না। (ভুলে যেওনা) তোমাদের ও তাদের রিযিকদাতা (কেবল) আমিই, (একারণে দরিদ্রতার ভয়ে) তাদের হত্যা করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। (ছুরাহ আল ইসরা ১৭/৩১ ও আল আনআম ৬/১৫১) এখন আপন পিতামাতা ভ্রুনেই যেখানে সন্তানকে হত্যার অধিকার পাচ্ছেনা, সেখানে জলজ্যান্ত নিরপরাধ মানুষকে হত্যার কোন সুযোগই নাই, না এর আছে কোন ক্ষমার সুযোগ।

এই ব্যপারে হাদিছ শরীফে এসেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘হত্যাকৃত ব্যক্তি হত্যাকারীকে সঙ্গে নিয়ে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালার সামনে উপস্থিত হবেহত্যাকৃত ব্যক্তির মাথা তার হাতেই থাকবেশিরাগুলো থেকে তখন রক্ত পড়বেসে মহান আল্লাহ তাআলাকে উদ্দেশ্য করে বলবেঃ হে আমার প্রভু! এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছেএমনকি সে হত্যাকারীকে আরশের অতি নিকটেই নিয়ে যাবেশ্রোতারা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু আনহুকে উক্ত হত্যাকারীর তাওবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উপরোক্ত সূরাহ নিসার আয়াত শরীফটি তিলাওয়াত করে বললেনঃ উক্ত আয়াত রহিত হয়নিপরিবর্তনও হয়নিঅতএব তার তাওবা কোন কাজেই আসবে না’’। (তিরমিযী শরীফ ৩০২৯; ইব্নু মাজাহ্ শরীফ ২৬৭০; নাসায়ী শরীফ ৪৮৬৬)

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘মুমিন ব্যক্তি সর্বদা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ভোগ করবে যতক্ষণ না সে কোন অবৈধ রক্তপাত করবে’’। (বুখারী শরীফ ৬৮৬২)

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘এমন ঝামেলা যা থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই তা হচ্ছে অবৈধভাবে কারোর রক্তপাত করা (অর্থাৎ কাউকে হত্যা করা বিনা অপরাধে)’’। (বুখারী শরীফ ৬৮৬৩)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্ঊদ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘কিয়ামতের দিন মানবাধিকার সম্পর্কিত সর্বপ্রথম হিসেব হবে রক্তের’’। (বুখারী শরীফ ৬৫৩৩, ৬৮৬৪; মুসলিম শরীফ ১৬৭৮; ইব্নু মাজাহ্ শরীফ ২৬৬৪, ২৬৬৬)

আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিআল্লাহু আনহু ও আবূ হুরায়রাহ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উনারা বলেনঃ রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘যদি আসমান ও জমিনের সকলে (মাখলুক) মিলেও কোন মুমিন হত্যায় অংশ গ্রহণ করে তবুও মহান আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন’’। (তিরমিযী শরীফ ১৩৯৮)

জারীর বিন আব্দুল্লাহ্ আল-বাজালী, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবূ বাক্রাহ রদ্বিআল্লাহু আনহুমাদের থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘আমার দুনিয়া থেকে পর্দা তথা বিছাল শরীফের পর তোমরা কাফির হয়ে যেও নাআর তোমরা একে অন্যকে হত্যা করো না’’। (বুখারী শরীফ ১২১, ১৭৩৯, ৪৪০৫, ৬১৬৬, ৬৭৮৫, ৬৮৬৮, ৬৮৬৯, ৭০৮০; মুসলিম শরীফ ৬৫, ৬৬, ১৬৭৯)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট একজন মুসলিমকে হত্যা করার চেয়ে পুরো দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া অধিকতর সহজ’’। (তিরমিযী শরীফ ১৩৯৫; নাসাঈ শরীফ ৩৯৮৭; ইব্নু মাজাহ শরীফ ২৬৬৮)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ কোন কাফিরকে হত্যা করলো সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না; অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়’’। (বুখারী শরীফ ৩১৬৬, ৬৯১৪; ইব্নু মাজাহ্ শরীফ ২৬৮৬)

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিততিনি বলেন, আমি রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লামকে কাবা ঘর তাওয়াফ করতে দেখলাম এবং তিনি বলছিলেনঃ কত উত্তম আপনি হে কাবা! আকর্ষণীয় আপনার খশবু, কত উচ্চ মর্যাদা আপনার (হে কাবা)! কত মহান সম্মানের অধিকারী আপনিসেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ!, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট মুমিন ব্যক্তির জান-মাল ও ইজ্জতের মর্যাদা আপনার চেয়ে অনেক বেশীআমরা মুমিন ব্যক্তি সম্পর্কে সুধারণাই পোষণ করি। (তিরমিযী ২০৩২, ইব্নু হিববান ৫৭৬৩, ইবনে মাজাহ শরীফ ৩৯৩২)

অতএব ছাত্র আন্দোলনের পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে শরীয়ত অনুসারে যে রায় পাওয়া যায়, তা হলোঃ “শেখ হাসিনা ও তার বাহিনীর যারা এই হত্যাযজ্ঞে জড়িত, যারা মনেপ্রাণে এই হত্যাগুলিকে সমর্থন করে, যায়েজ মনে করে, তারা সবাই মুর্তাদ, এদের বিয়ে বাতিল, স্ত্রীর/স্বামীর সাথে মিলিত হলে জিনা হবে, সন্তান জন্মালে তা হবে জারজ, কেননা তারা কুফুরি করেছে। হাদিছ শরীফে এসেছেনঃ “আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্ঊদ রদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিছে, রছুলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ‘‘কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকি এবং তাকে হত্যা করা কুফরি’’ (বুখারী শরীফ ৪৮, মুসলিম শরীফ ৬৪) আর আয়াতে পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছেঃ (وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيْهَا وَغَضِبَ اللهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيْمًا) ‘‘আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি হবে জাহান্নাম, তার মধ্যে সে সারাজীবন থাকবে এবং মহান আল্লাহ্ তায়ালা সেই লোকের প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে লানত প্রদান করবেনএছাড়াও তিনি তার জন্য প্রস্ত্তত করে রেখেছেন মর্মন্ধুত শাস্তি’’। (আন নিছা ৪/৯৩) উক্ত আয়াত শরীফে ৪ শাস্তি হত্যাকারীর ব্যপারে মহান আল্লাহ পাক উল্লেখ করেছেন, যেখানে প্রথমেই যাহান্নামের বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন, এরপর বলেছেন, হত্যাকারী সেই জাহান্নামে সারাজীবন থাকবে, এরপর বলেছেন গজবনাক হবেন এবং ভয়ানক আযাবের ব্যবস্থাও করে রেখেছেন।

এই জামানার স্বৈরাচারীরা মনে করে যে হত্যা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, তাওবা করলেই মাফ পেয়ে যাবে অথচ আমরা দেখেছি যে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু আনহুর মুখনিঃসৃত হাদিছ শরীফে তিনি বলেছেন হত্যাকারীর তাওবা কবুল হয়না, তাহলে বোঝা গেলো যে ইহা কবিরা গুনাহের চেয়েও অনেক উপরের বিষয়। তাছাড়া আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বিদাহ হলেন কবিরা গুনাহ দ্বারা ইনছান কাফের হয়না, আর কবিরাহ গুনাহ ইনছানকে সারাজীবন জাহান্নামে রাখার মতো কারণের অন্তর্ভুক্ত ও নয়। তাহলে উক্ত আয়াত শরীফের জাহির তো জানলাম, বাতিনের ব্যপারে ইমামগণের মত কি? মহান আল্লাহ পাক তিনি তো স্পষ্ট করেই আল কুরআনে বলে দিয়েছেন, হত্যা, গণহত্যাকারী চিরস্থায়ী যাহান্নামী, এর মানে কি? এর মানে হলো যে ব্যক্তি, গোত্র মিলে কোন মুছলিমকে হত্যা করবে তার ক্বলব থেকে কলিমা শরীফ সরাই দেওয়া হবে, অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে সে কাফের হয়ে মরবে, কারণ যত বড় গুনাহগার হোক, জররা পরিমাণ ঈমান তার মধ্যে থাকলে সে জাহান্নামে চিরজীবন থাকবেনা, একারণেই আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু বলেছেন হত্যা, গণহত্যাকারীর তাওবা কবুল হবেনা কারণ তাওবা কবুল হলে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী থাকবেনা, একারণেই প্রথমদিকেই হাদিছ শরীফ উল্লেখ করা হয়েছে যে মুছলিমকে হত্যা করা কুফরি তথা হত্যাকারীর মৃত্যুও হবে কুফরের উপর, এতে সে যত বড় আবিদই হোক না বাহ্যিক দৃষ্টিতে।

উক্ত ফতোয়ার আলোকে বাংলাদেশী মুছলিমরা কি করবেন এইসব হত্যাকারীদের ব্যপারে?

১) হাসিনা ও তার সহযোগী সকল খুনীই চির যাহান্নামী লানতুল্লাহ।

২) যেহেতু এরা চির যাহান্নামী তাই হাসিনা, ও তার যেসকল মন্ত্রী, ও দলের সদস্য, পুলিশ, আর্মি, বিজিবি, রেব, আনসারের মধ্যে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে তাদের সাথে দ্বীনি সকল সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।

৩) এরা মারা গেলে এদের মুছলিমদের কবরে দাফন করা ও জানাযা পড়া হারাম।

৪) সামাজিকভাবে এদের বয়কট করতে হবে।

৫) কখনো ইসলামিক হুকুমাত বাংলাদেশে কায়েম হলে, এদের যারা বেঁচে থাকবে তাদের কিসাসের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

রইলো, আওয়ামীলীগের যেসকল সদস্য, পুলিশ, আর্মি, বিজিবি, রেব, আনসার বা অন্যান্য দলের (বিএনপি, জামায়াত, জাতীয়পার্টি ইত্যাদি) মারা গেছে তাদের ফায়ছালা কি? তারা কি শহীদ?

মোটেও না, শহীদ কেবল তারা যারা ছাত্র ছিলো, এবং আম জনতা, পথচারী, মৃত্যুর সময় আক্বিদাহ বিশুদ্ধ ছিলো মহান আল্লাহ পাক, রছুলে পাক ছ্বল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া আলিহি ওয়া ছাল্লাম, কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ-এর ব্যপারে, কোটা বাতিল ব্যতীত সরকার পতনের কোন মোটিভ নিয়ে রাস্থায় নামে নাই। কিন্তু যারা সরকার দলীয় বা বিরোধী দলের লোক গণতন্ত্র নামক কুফরের চেয়ারে বসে থাকা আওয়ামীলীগকে সরিয়ে নিজেদের বসানোর সুযোগ মনে করে রাস্তায় নেমে মরেছে তারা মূলত জাহেলিয়াতের উপর মৃত্যুবরণ করলো, কেননা আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রসূলুল্লাহ ছ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি (ইসলামি খিলাফতের) আমীরের আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল এবং জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল সে জাহেলিয়াতের (অবস্থায়) মৃত্যুবরণ করলআর যে ব্যক্তি (দ্বীনের) লক্ষ্যহীন নের্তৃত্বের পতাকাতলে যুদ্ধ করে দলপ্রীতির জন্য ক্রুদ্ধ হয় অথবা দলের দিকে আহবান করে অথবা দলের সাহায্যার্থে যুদ্ধ করে (মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির কোন ব্যাপার সেখানে থাকেনা) আর তাতে নিহত হয়, সেও জাহেলিয়াতের উপর মৃত্যুবরণ করে। (মুসলিম শরীফ ১৮৪৮এ, নাসাঈ শরীফ ৪১১৪, মিশকাত শরীফ ৩৬৬৯) 

وَاللهُ أعْلَمُ بِالصَّوَابِ

مُحَمَّد رَاجِب خَاجَا

شَيْخُنَا وَ مُرْشِدِنَا إِمَامُ الطّٰرِيْقَةِ الْرَاج

٢٨/٠١/١٤٤٦